মন্ত্রীর নির্দেশে ফের গাজীপুর সাফারি পার্কে নিহার কলি-সম্রাট বাহাদুর

চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উদ্ধার করে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা দুটি হাতি—নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে শর্তসাপেক্ষে মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। তবে জিম্মার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় আবারও বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে হাতি দুটিকে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নির্দেশে তাদের সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১২ আগস্ট গাজীপুর সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে দুই ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। জিম্মায় দেওয়ার সময় তাদের জন্য নির্ধারিত কিছু শর্ত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জিম্মাদাররা সেই শর্ত যথাযথভাবে পালন না করায় বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আসে।
পরে হাতি দুটির নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৪ আগস্ট) বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে হাতি দুটিকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেন।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাদি হাতি নিহার কলিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ এলাকা থেকে এবং পুরুষ হাতি সম্রাট বাহাদুরকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান জানান, সোমবার দিবাগত রাতে নিহার কলি সাফারি পার্কে পৌঁছেছে। সম্রাট বাহাদুর মঙ্গলবার যেকোনো সময় পার্কে পৌঁছাবে।
পার্কে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাদের নির্ধারিত শেডে স্থানান্তর করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।
কীভাবে সাফারি পার্কে এসেছিল দুই হাতি
২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাহুত নজরুল ইসলামকে পিষে হত্যার ঘটনার পর সম্রাট বাহাদুরকে উদ্ধার করে সাফারি পার্কে আনা হয়। একই বছরের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে নিহার কলিকে উদ্ধার করা হয়েছিল।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হাতি দুটিকে ব্যবহার করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্যাতনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের পর তাদের সাফারি পার্কে এনে রাখা হয়।
পরপর হাতির মৃত্যুতে উদ্বেগ
এদিকে গাজীপুর সাফারি পার্কের হাতিশালায় সম্প্রতি পরপর দুটি হাতির মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। গত ২৪ মে শিকলে বাঁধা ১০ বছর বয়সী রাজু বাহাদুরের ওপর চার বছর বয়সী হাতি জয়িতা হামলা করলে রাজু বাহাদুর গুরুতর আহত হয়। এতে তার একটি পা ভেঙে যায়।
পরে রাজু বাহাদুরের চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার চিকিৎসকদের সঙ্গেও পরামর্শ নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গত ৭ আগস্ট রাজু বাহাদুরের মৃত্যু হয়।
এর একদিন আগে, ৬ আগস্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে আরও একটি হাতির মৃত্যু হয়। পরপর হাতির মৃত্যুর ঘটনায় সাফারি পার্কের হাতিগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে।
এরপর নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে শর্তসাপেক্ষে তাদের মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জিম্মার শর্ত যথাযথভাবে পালন না করার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত আবারও তাদের বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হলো। এখন থেকে সাফারি পার্কেই বিশেষ নজরদারির মধ্যে রাখা হবে হাতি দুটিকে।
(ঢাকা টাইমস/২৫আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন










































