এক নজরে আ.লীগের ইশতেহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৩৭ | প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:২৯

একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটকে সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর হোটেল সোনরগাঁওয়ে এই ইশতেহার ঘোষণা করেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষিত ইশতেহারের বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

১। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের চলমান প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করা। সংসদকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ। মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, গণমাধ্যম, বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।

২। বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারক নিয়োগের পদ্ধতির স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, বিচারকদের জন্য যৌক্তিক বেতন কাঠামো ও সুযোগ সুবিধা নির্ধারণ, গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা, বিরোধ নিরসনে বিকল্প পদ্ধতির ব্যবহার, প্রতি জেলায় লিগ্যাল এইড স্থাপনসহ বিচারকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

৩। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ দুর্নীতিমুক্ত দেশপ্রেমিক গণমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ অব্যাহত রাখা, প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়-পরায়ণতা এবং জনসেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা।

৪। আগামী পাঁচ বছরে জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে জনবল নিয়োগ করা।

৫। জঙ্গিবাদ, মাদক এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা এবং আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি চালুর মাধ্যমে দুর্নীতির পরিধি ক্রমান্বয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

৬। জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির প্রতি দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রাখা। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারি বন্ধে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা।

৭। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করে ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনকে আরও শক্তিশালী করা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে অধিকতর আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা উন্নত ও প্রসারিত করার জন্য সরকারের সাহায্য ও উদ্যোগ অব্যাহত রাখা এবং নগর ও শহরে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং নগর ব্যবস্থাপনায় অধিকতর স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনগণের অধিকতর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

৮। আগামী পাঁচ বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করা। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনকালে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা। ২০৩০ সালে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় পাঁচ হাজার ৪৭৯ ডলারেরও বেশিতে উন্নীত করা। ২০৪১ সালে উন্নত দেশ হিসেবে বিশে^র বুকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ এবং দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।

৯। দেশের ১০টি মেগা প্রকল্প পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, গভীর সমুদ্র বন্দর, ঢাকা মাস-র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল, মহেষখালী-মাতারবাড়ি সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম, পায়রা সমুদ্র বন্দর, পদ্মাসেতু রেল সংযোগ এবং চট্রগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন স্থাপন।

১০। দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে উন্নীত করার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন। শহরের সুবিধা গ্রামে পৌঁছে দেওয়া। আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। পাকা সড়কের মাধ্যমে সকল গ্রামকে জেলা-উপজেলা শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করা।

ছেলে-মেয়েদের উন্নত পরিবেশে লেখাপড়ার সুযোগ তৈরি করা। সুপেয় পানি এবং উন্নতমানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। সুস্থ বিনোদন এবং খেলাধুলার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা। কর্মসংস্থানের জন্য জেলা-উপজেলায় কলকারখানা গড়ে তোলা। ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তি সর্বত্র পৌঁছে দেওয়া।

১১। তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রসারিত করা। প্রতিটি উপজেলায় ‘যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ স্থাপন করা। জাতীয় পর্যায়ে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের তথ্য সম্বলিত একটি ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেইজ তৈরি করা। কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে তরুণদের বিনা জামানতে ও সহজ শর্তে জনপ্রতি যে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা আরও বিস্তৃত করা। সুস্থ বিনোদনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে ‘যুব বিনোদন কেন্দ্র’ ও প্রতিটি জেলায় একটি করে ‘যুব স্পোর্টস কমপেড’ গড়ে তোলা। প্রতি উপজেলা থেকে প্রতিবছর গড়ে এক হাজার যুব, যুব মহিলাকে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।

১২। নারীর প্রতি সকল বৈষম্যমূলক আচরণ, প্রথা বিলোপ করা। বাল্যবিবাহ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিত করা। নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে আলাদা ব্যাংকিং ও ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা।

১৩। বর্তমানে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় যে চার কোটি ৯২ লাখ মানুষ বিভিন্ন প্রকার আর্থিক সহযোগিতা পাচ্ছেন, আগামি পাঁচ বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করা। সকলের ভাতার পরিমাণ বাড়ানো। দারিদ্র্যের হার ১২.৩ শতাংশ এবং চরম দারিদ্র্যের হার পাঁচ শতাংশে নামিয়ে আনা।

প্রতিটি পরিবারে অন্তত একজনের নিয়মিত রোজগার নিশ্চিত করা। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা। সহজ শর্তে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আয়বর্ধকমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্ত করা। 

১৪। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের সফল ধারা অব্যাহত রাখা। কৃষি উপকরণের উপর ভর্তুকি অব্যাহত রাখা। কৃষি যন্ত্রপাতি সুলভ ও সহজপ্রাপ্য করা। কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা। ফসল প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষিপণ্যের দক্ষ সাপ্লাই চেন, ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা। কৃষি গবেষণায় বাজেট বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করা। ছোট ও মাঝারি আকারের দুগ্ধ ও পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠা এবং মাছ চাষের জন্য সহজ শর্তে ঋণ, প্রয়োজনমত ভর্তুকি, প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও নীতি সহায়তা বৃদ্ধি করা।

১৫। ২০২০ সালের মধ্যে সকলের জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। ২০২৩ সালের মধ্যে ২৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এবং পাঁচ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা।

১৬। পাটজাত পণ্যের রপ্তানিতে আর্থিক প্রণোদনা অব্যাহত রাখা। কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতকে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া। পদ্মা সেতুর দুই পাড়ে আধুনিক শিল্পনগরী গড়ে তোলা। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আইটি শিল্প পার্ক স্থাপন করা এবং এসব শিল্প পার্কে আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

১৭। শিল্প শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা করা। নারী শ্রমিকদের জন্য চার মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি বাস্তবায়ন করা। শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা। শ্রমিক, হতদরিদ্র এবং গ্রামীণ ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য রেশনিং প্রথা চালু করা।

১৮। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট স্থাপন করা। ইতোমধ্যে ১০০টি উপজেলায় এ ধরনের ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ চলছে। শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ নিশ্চিত করা। শিক্ষার মান উন্নয়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। সকল গ্রামে, আধা মফস্বল শহরে এবং শহরের নি¤œবিত্তের স্কুলসমূহে পর্যায়ক্রমে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা। প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত উপবৃত্তি প্রদান অব্যাহত রাখা।

মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যর্পূণ করা। নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রয়োজনীয় বই বিনামূল্যে বিতরণ করা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের বেতন গ্রেডসহ শিক্ষাখাতের কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে বৈষম্য রয়ে গেছে, তা ন্যায্যতার ভিত্তিতে নিরসন করা।

১৯। এক বছরের নিচে ও ৬৫ বছরের উপরে সকল নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। সকল বিভাগীয় শহরে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর ভবনসহ সকল সুবিধা পর্যায়ক্রমে আধুনিকীকরণ করা।

২০। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫২ হাজার ২৮০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা। ৭৫ হাজার ৭৭৩ কিলোমিটার পাকা সড়ক ও ৩১ হাজার ৬৩৭ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণ বা পুনর্বাসন করা। তিন লাখ এক হাজার ৩৪১ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ বা পুনঃনির্মাণ করা।

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের নির্মাণ কাজ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর এবং বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত অংশ পরের বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ করা। তৃতীয় পর্যায়ে পল্লবী থেকে উত্তরা পর্যন্ত ৪.৭ কিলোমিটার অংশ ২০২২ সালে চালু করা। ঢাকা ও বিভাগীয় শহরের মধ্যে বুলেট ট্রেন চালু করা। দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোকে আধুনিকায়ন করা।

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ খনন করা। ঢাকার চারপাশের চারটি নদী-খালগুলোকে খননের মাধ্যমে নদী তীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা। একটি নতুন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ করা। বিদ্যমান আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ বিমান বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত করা।

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা। মহাসড়কের পাশে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের নিরপত্তার জন্য আন্ডারপাস, ওভারপাস র্নিমাণ করা। উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করার জন্য যমুনা নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা।

২১। ২০২১-২৩ সালের মধ্যে ৫-জি চাল। ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহারের মূল্য যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে নামিয়ে আনা।

২২। সমুদ্র সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার সুনিশ্চিত করা।

২৩। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য করার লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডে’ বরাদ্দ আরও বাড়ানো। উৎপাদনশীল বনের আয়তন ২০১৫ সালের ১৩.১৪ শতাংশ হতে ২০ শতাংশে উন্নীত করা।

২৪। শিশুশ্রম বন্ধ করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা সুদৃঢ় সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বৃত্তি ও নানাবিধ কর্মকা- উন্নত ও প্রসারিত করা। পথশিশুদের পুনর্বাসন ও নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা, হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশুদের জন্য শিশুসদন প্রতিষ্ঠা এবং বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি বৃত্তিমূলক শিক্ষাদানের ব্যবস্থা উন্নত ও প্রসারিত করা।

২৫। প্রতিবন্ধী সকল শিশুর সুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, মর্যাদা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। প্রতিবন্ধী মানুষের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরা, যোগাযোগ, চিকিৎসা সহজ করা এবং তাদের সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া। প্রবীণদের জন্য সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আয় সৃষ্টিকারী কার্যক্রম গ্রহণ, প্রবীণদের বিষয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

২৬। মুক্তিযোদ্ধাদের বার্ধক্যকালীন ভরণ-পোষণ, বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং ষাট ও তদূর্ধ্ব বয়সের সকল মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মানিত নাগরিক হিসেবে রেল, বাস ও লঞ্চে বিনামূল্যে চলাচলের যে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে সেসব অব্যাহত রাখা।

দেশের সর্বত্র মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষা, ইতিহাস বিকৃতি রোধ এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরার জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা। সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিতকরণ, শহিদদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ এবং স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা।

২৭। সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকার সুনিশ্চিত করা। ধর্ম যাঁর যাঁর, উৎসব সবার- এই নীতি সমুন্নত রাখা। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।  কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন না করা।

বাঙালি সংস্কৃতির অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকারের অনুসৃত নীতি ও কর্মপরিকল্পনা অব্যাহত রাখা। বাংলা ভাষা, সাহিত্য, চারু ও কারুকলা, সঙ্গীত, যাত্রা, নাটক, চলচ্চিত্র এবং সৃজনশীল প্রকাশনাসহ শিল্পের সব শাখার ক্রমাগত উৎকর্ষ সাধন ও চর্চার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো।

২৮। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের বর্তমান গৌরবোজ্জ্বল অবস্থানকে আরও সৃদৃঢ় করার পাশাপাশি ফুটবল, হকিসহ অন্যান্য খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ। ক্রীড়া ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ সুবিধার সম্প্রসারণে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া। প্রতিটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ।

২৯। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির যেসব ধারা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভূমিতে প্রকৃত স্বত্বাধিকারীদের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন করা। সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-জাতিগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক সকল প্রকার আইন ও ব্যবস্থার অবসান করা।

৩০। মিথ্যা তথ্য প্রচার ও অনাকাক্সিক্ষত গুজব নিরসনে কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করা। সামাজিক দায়বদ্ধতাসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা ও সংবাদ মাধ্যম উন্নয়নে সহায়তা প্রদান। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চর্চায় সাংবাদিকদের উৎসাহ প্রদান ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনে সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গণমাধ্যম-বান্ধব আইন করা। সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনের কোনো অপপ্রয়োগ না করা।

৩১। সশস্ত্র বাহিনীকে সকল বিতর্কের উর্ধ্বে রাখার যে নীতি গ্রহণ করা হয়েছে তা অব্যাহত রাখা। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী আধুনিকায়নের চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা।

৩২। ভারতের সঙ্গে তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ সকলক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহাযোগিতা বৃদ্ধি করা। বাংলাদেশের ভূখ-ে জঙ্গিবাদ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো শক্তিকে প্রশ্রয় না দেওয়ার নীতি অব্যাহত রাখা।

৩৩। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ স্বশাসিতভাবে তাদের নিজস্ব বিধি মোতাবেক পরিচালিত হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান/বিভাগ স্থানীয় সরকারের সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছামূলক সমন্বয় জোরদার করা।

৩৪। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা। 

ইশতেহার ঘোষণা শেষে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। এটা দিবালোকের মত স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগ সরকারে আসলে জনগণ কিছু পায়। সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকা ও সমৃদ্ধির সকল সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ মাত্রই ভুল হয়। কাজ করতে গিয়ে আমার এবং আমার সহকর্মীদেরও ভুল-ভ্রান্তি হতে পারে। তাই আমি নিজের এবং দলের পক্ষ থেকে আমাদের ভুল-ভ্রান্তিগুলো ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখার জন্য দেশবাসীর প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি।’

ঢাকা টাইমস/১৮ ডিসেম্বর/টিএ/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :