আন্দোলনের প্রভাবে বাজার চড়া

কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:২৭ | প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০১৮, ১৮:০৯

ছাত্রদের টানা আন্দোলনের মুখে যান চলাচল সীমিত হয়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্য সরবরাহে টান পড়েছে। আর এ কারণে বেড়ে গেছে দাম।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন বাজারে গিয়ে নগরবাসীকে আগের তুলনায় বেশি খরচ করতে হয়েছে শাক-সবজি, মাছের কিনতে।

গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে পরদিন থেকে সড়কে অবস্থান নিয়ে ছাত্ররা যান চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। বৃহস্পতিবার রাতেও দেখা গেছে লাইসেন্সের জন্য চেকিং। সেই সঙ্গে ভাঙচুরও চলেছে ব্যাপক। এসব কারণে যানবাহন বন্ধ রেখেছেন বহু মালিক।

দূর পাল্লার পণ্যবাহী ট্রাক কম আসায় চাহিদার তুলনায় পণ্য এসেছে কম। আবার যেসব ট্রাক এসেছে সেগুলোতেও ভাড়া গুণতে হয়েছে বেশি। এতে পণ্যের দাম বেশি পড়েছে।

আবার ভোরে বা সকালে নগরীর পাইকারি আড়ৎ থেকে সবজি-মাছ কিনে যারা বিভিন্ন মহল্লার আড়তে নিয়ে যান, তারাও ট্রাক ভাড়া করতে গিয়ে বেশি টাকা গুণতে হয়েছে। তার ওপর আবার পাইকারিতে দাম বেশি। আবার এর মধ্যে সুযোগে দাম বাড়ানোর প্রবণতাও আছে। তিনে মিলে পকেট কাটছে ক্রেতাদের।

গত দুই দিনে প্রায় সব রকম সবজিতে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। মূল্য বৃদ্ধির কারণে অসন্তোষ দেখা গেছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

গত শুক্রবারের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা হারে বেড়েছে শশা, করল্লা, লতি, বরবটি, চিচিংগা, পটলের দাম। শশা, পটল ও করল্লা ৫০ টাকা করে, লতি ৪০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, চিচিংগা ৩৫ টাকা দরে।

গত সপ্তাহে প্রায় দুইশর ঘর থেকে কাঁচা মরিচের দাম কমেছিল ১২০ টাকায়। সেটির দামও আবার বেড়েছে। ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে কাঁচামরিচ। আগের সপ্তাহে ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া টমেটো আবার একশ ঘরে। বিক্রি হচ্ছে ১০০-১১০ টাকা দরে।

মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদ বাজারের সবজি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম তরুণ ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘মাল আনা নিয়া আমাদের ঝামেলা নাই। কারণ আমাদের মাল আসে ভ্যানে। কিন্তু আড়তে মাল আসতে পারে না। বাজারে অনেক সবজিই নাই। আন্দোলনের কারণে ঠিক মত মাল আসতে পারে নাই। মাল কম আসে তাই দাম বেশি।’

১৫-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া পেঁপে এখন ৩০ টাকা। ৩০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়।

কৃষি মার্কেট কাঁচা বাজারের সবজি বিক্রেতা রাহাত বলেন, ‘গত সপ্তায়ও আড়ৎ থেকে ঢেঁড়স কিনছি ২২ টাকায়। গত দুই-তিন দিন ধইরা ৩৫-৩৮ টাকা। আমরাও ৫০ এ বেচি। সব মালের দাম কেজিতে ১০/১৫ টাকা কইরা বাড়ছে।’

দাম বাড়ার কারণ সম্পর্কে এই বিক্রেতা বলেন, ‘আগে আড়তে যে ট্রাক ৭ হাজার টাকায় আইত। সেই গাড়ি গত কয়দিন ধইরা ১৬ হাজারের নিচে পাওয়া যায় না। আন্দোলনের সময় তো গাড়ি কম থাকে। তহন গাড়ি ভাড়াও বাড়ে।’

মাছের দাম বেড়েছে আরও

তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে মাছের দাম বেড়েছে কেজি প্রতি ১০০ টাকা পর্যন্ত। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা দুষলের ছাত্র আন্দোলনকে।

মোহাম্মদপুর নতুন কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা মো. অপু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মাছ আনতে গাড়ি লাগে। ঘাটেও মাছ গাড়িতে আসে। গাড়িই যদি কম থাকে দাম তো বাড়বই।‘

৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া জ্যান্ত রুই মাছে এক লাফে উঠেছে ছয়শর ঘরে। কেজিতে একশ টাকা বেড়ে কাতল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা কেজি দরে। ছোট চিংড়ি কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৪৬০ টাকায়।

এছাড়াও দাম বেড়েছে শিং, কৈ, মাগুর ও ইলিশ সহ প্রায় সব ধরনের মাছের। তবে বাজারে মাছের পরিমানও ছিল অন্যান্য সময়ের চাইতে কম।

কৈ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০-২২০ টাকা কুড়ি দরে। শিং মাছ কেজি ৪০০ টাকা। দেশি মাগুর ৫০০-৫৫০ টাকা।

আন্দোলনকে ঘিরে মাছের সরবরাহ কম, পরিবহণ খরচ বেশি। এই দুটি বিষয়কে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন।

টাউন হল বাজারের এই মাছ বিক্রেতা ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘৩/৪ দিন আগেও আধা কেজি সাইজ ইলিশের হালি বিক্রি করছি ১২০০ টাকা। এহন বেচা লাগে ১৪০০ টাকা। এক কেজির চাইতে একটু ছোট যেগুলা সেগুলা বেচতাছি ৮০০ টাকা কইরা। এগুলা ছিল ৫০০ টাকা।’

‘আরও আন্দোলন হোক, রাস্তা-গাড়ি বন্ধ থাকলে বাজারে মাছও কম থাকব। দাম আরো বাড়ব’- আশঙ্কার কথা বলেন আনোয়ার।

এর মধ্যে আবার শুক্রবার থেকে দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধ প্রায়। পণ্যবাহী ট্রাক নগরে না ভিড়লে বাজারে আরও বেশি টাকা নিয়ে আসতে হবে-জানিয়ে রাখছেন ক্রেতারা।

ঢাকাটাইমস/০৩আগস্ট/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :