কলারোয়ার চেয়ারম্যানের প্রতি তৃণমূল আ.লীগের অনাস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৭:৩৪

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগ। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকায় আগামী ২৪ মার্চ আসন্ন তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে চিঠি দিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। সম্প্রতি দলীয় সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে এ অভিযোগ জমা দেয়া হয়।

চিঠিতে নেতাদের অভিযোগ, ‘ফিরোজ আহমদ স্বপন এলাকায় একক কর্তৃত্ব কায়েম, অবৈধ অর্থ উপার্জন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা, ২০১৩-১৪ সালে নাশকতা সৃষ্টিকারী জামায়াত-বিএনপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে কোটিপতি বনে ত্রাসের রাজস্ব কায়েম করেছেন। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগঠনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। তাকে পুনরায় উপজেলা চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।’

কলারোয়া পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আজিজুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্দুর রহিম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স.ম মোরশেদ আলী (ভি.পি), সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আমজাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মল্লিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্বপনের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উপস্থাপন করেন।

লিখিত অভিযোগে তারা আরও বলেন, ‘২০০২ সালে কলারোয়ায় দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনায় স্বপনের শ্বশুর বাদী এবং স্বপন নিজে সাক্ষী হন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত বিএনপির সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিরের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে স্বপন সাক্ষ্য প্রত্যাহার করে নেন। যদিও পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে পুনরায় মামলাটি চলমান রয়েছে। ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারির উপজেলা নির্বাচনে স্বপন নিজে প্রার্থী হতে না পেরে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে জামায়াত-বিএনপির পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেন। যে কারণে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মেয়র পদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহর হামলার অন্যতম আসামি বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করেন। ২০১৬ সালের ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এই স্বপনের অনুসারীদের নেতৃত্বে ২০১৫ সালে কলারোয়াতে সোনালী ব্যাংকে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় দুজন নৈশ প্রহরী মারা যান। গত পাঁচ বছর উপজেলার বরাদ্দকৃত সব টাকা একাই লুটপাট করেছেন। ফলে কলারোয়ার সব শ্রেণির মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আওয়ামী লীগকে নিজের পরিবার লীগে পরিণত করেছেন স্বপন নিজে।’

এজন্য আসন্ন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে তাকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার জন্য দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি জোর অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতারা বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট। তৃণমূল থেকে প্রস্তাব করা তিনজনের মধ্যে আমরা দুজন স্বপনকে দলীয় মনোনয়ন না দেয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মদ স্বপনের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

(ঢাকাটাইমস/২১ফেব্রুয়ারি/টিএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :