বাড়ি ফিরতে সন্ত্রস্ত বিপণিবিতানের নারীরা

কাজী রফিক
 | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৯, ০৯:২৮

ঈদ ঘনিয়ে আসায় বিপণিবিতানগুলো খোলা থাকছে মধ্যরাত অবধি। কেনাকাটা চলছে তুমুল। রাজধানীর অধিকাংশ বিপণিবিতানে এখন ক্রেতা সামল পুরুষের পাশাপাশি নারী কর্মীরা। দোকানের কাজ শেষে এই নারীকর্মীদের বাসায় ফিরতে হচ্ছে বেশ রাত করে। আর ফেরার পথে তাদের মধ্যে জাগছে ভীতি।

হাতেগোনা কয়েকটি বিপণিবিতানে নারীকর্মীরা যাতায়াত সুবিধা পেলেও বেশিরভাগই তা পান না। রাত করে বাসায় ফেরার পথে যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে আসছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তা ঘিরে বিপণিবিতানগুলোতে বাড়তি কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। তারা উপেক্ষা করছে মালিকপক্ষকে।

আয়েশা আক্তার মীম নামের একজন বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, রাজধানীর বসুন্ধরা শপিং মলে নারী, পুরুষ সব বিক্রয়কর্মীদের ছুটি দেয়া হয় রাত ১২টায়। আর বাসায় ফিরতে ওই নারীদের সময় লাগে আরো এক ঘণ্টার বেশি। তিনি বলেন, ‘একটা মেয়েকে রাত ১২টার পর বাসায় ফিরতে হলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এই সমস্যাটা বসুন্ধরা শপিং মলে বেশি।’

রাত করে বাসায় ফিরতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা কম নয়। বসুন্ধরা শপিং মলে কাজ করেন মিরপুর মাজার রোড এলাকার বাসিন্দা মারিয়া আক্তার। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘এত রাত করে বাস পেতে ঝামেলা হয়। অনেক সময় বাসে যাত্রী কম থাকে, সেটাও একটা ভয়ের কারণ। আবার বাসস্ট্যান্ড থেকে আমার বাসায় যেতেও সময় লাগে। সেখানেও দেখা যায় বাসস্ট্যান্ডের ছেলেরা বা রাস্তার ছেলেরা উল্টাপাল্টা কমেন্ট করছে। রাস্তায় মানুষ কম থাকে, সব মিলিয়ে এটা আমাদের জন্য খুবই ভয়ানক।’

শ্যামলী স্কয়ার, টোকিও স্কয়ার, রাপা প্লাজা, অর্কিড পয়েন্ট, মেট্রো শপিং মলসহ নামিদামি বিপণিবিতানে চাকরিরত নারীকর্মীরা বেশি ভুগছেন এই সমস্যায়। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, খিলগাঁও, উত্তরাসহ সব এলাকার স্থানীয় শো-রুমগুলোর চিত্র একই।

মিরপুরের পল্লবী এলাকার বাসিন্দা জান্নাত আক্তার। কাজ করেন শিশুপণ্য বিক্রয়কারী একটি প্রতিষ্ঠানে। প্রতিদিন পল্লবী থেকে মোহাম্মদপুর এসে কাজ করতে হয় এই নারীকে। রাত নয়টায় ছুটি হওয়ার পর বাসায় ফিরতে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। ঢাকা টাইমসকে তিনি জানান, মোহাম্মদপুর থেকে প্রজাপতি বা পরিস্থান বাসে করে পল্লবী যান। কিন্তু রাতের বেলা বাসায় ফেরার সময় বাসে এমন অনেক পুরুষ যাত্রী ওঠেন যারা ইচ্ছে করে দেহ স্পর্শ করার চেষ্টা করে। এ ধরনের ঘটনা রাতের বেলা বেশি ঘটছে।

জান্নান বলেন ‘এত দূর থেকে আসি। অনেক ভয় লাগে। শুধু আল্লাহ আল্লাহ করি, যেন পাশে একটা মহিলা বসেন। এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে কাজের প্রতি আগ্রহ নষ্ট হয়ে যায়।’

একই ধরনের অভিযোগ আছে আরেক বিক্রয়কর্মী শ্রাবণী ইসলামের। সমস্যা সমাধানে রাজধানীসহ সারাদেশে সব কয়টি এলাকায় নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানান। সেই সাথে নারীকর্মীদের একটু আগেই ছুটি দেয়ার জন্য ঢাকা টাইমসের বরাত দিয়ে বিপণি বিতান মালিকদের অনুরোধ করেছেন এই নারী।

কিছু কিছু বিপণিবিতানের ক্ষেত্রে নারীদের দেওয়া হচ্ছে বাড়তি সুবিধা। আড়ং সারা বছর তাদের কর্মীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করে নিজ উদ্যোগে। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী আশফিয়া আতিক রাকা ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘রাত করে বাসায় ফেরার ক্ষেত্রে আড়ং চাকরি করে এমন কোনো মেয়ে সমস্যায় পড়ছে না। শুধু ঈদের সময় না, সারা বছরই আমাদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের গাড়ি আছে। আমরা প্রতিষ্ঠানের গাড়িতেই যাতায়াত করি।’

আবার নারী কর্মীদের আগেভাগে ছুটি দিচ্ছে বিপণিবিতান ‘কে-ক্রাফট’। প্রতিষ্ঠানটির সহকারী ব্যবস্থাপক নাসির হোসেন ঢাকা টাইমসকে জানান, নারী কর্মীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে আগেই ছুটি দেয়া হয় তাদের।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্রাইম এবং অপারেশন বিভাগের এডিশনাল কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় ঢাকা টাইমস বলেন, ‘ঈদের আগে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। ক্রেতা-বিক্রেতা এবং সংশ্লিষ্ট সব জনগণের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :