আগোরায় ‘ভুতুরে’ বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১২ জুন ২০১৯, ২১:৫৩

নিয়মিত সুপার শপ আগোরা থেকে মাসিক বাজার করেন একজন গ্রাহক। গত ৮ জুন প্রতিষ্ঠানটির মগবাজারের আউটলেট থেকে বাজার শেষে অস্বাভাবিক বিল দেখতে পান তিনি। বিষয়টি নিয়ে কাউন্টারে থাকা আগোরার কর্মীর কাছে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর পাননি এই গ্রাহক।

পরে বাসায় এসে দেখেন তার ক্যাশ ম্যামোতে ইলিশ মাছ বাবদ চার হাজার ১৫০ টাকা বিল জুড়ে দিয়েছে আগোরা। পরে অবশ্য অভিযোগ করার পর সেই টাকা ফেরত দেয় কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির মগবাজার আউটলেটের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা গ্রাহক হলেন শাহরিয়ার পলাশ। যিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবির মফস্বল সম্পাদক।

বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন শাহরিয়ার পলাশ। তাতে তিনি বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। একইসঙ্গে আগোরা যাতে আরো সতর্ক হয় সেজন্য তিনটি বিকল্প প্রস্তাব করেন। অন্যথায় তিনি ভোক্তা অধিকারে মামলা করার হুমকি দিয়েছেন।

শাহরিয়ার পলাশ তার স্ট্যাটাসে বলেন, গত শনিবার অফিস শেষ করে অ্যাগোরা মগবাজার আউটলেটে যাই। বাজার করার পর কাউন্টারে টাকা দেয়ার সময় দেখলাম বিল অস্বাভাবিক বেশি। জিজ্ঞেস করার পর কাউন্টারে থাকা ছেলেটি বলল, আমাদের ভুল হয় না। বাসায় গিয়ে মিলিয়ে দেখবেন। বাসায় এসে মিলিয়ে দেখি আমি ইলিশ মাছ কিনিনি। অথচ তার দাম ৪ হাজার ১৫০ টাকা ধরা হয়েছে। সাথে সাথে গিয়ে দেখি আউটলেট বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে থাকা সিকিউরিটির লোক কোনোভাবেই নাম্বার দেবে না।

শেষে মামলা করব এবং তাকেও আসামি করব- এ কথা বলার পর সে অনেকটা বাধ্য হয়ে সুপারভাইজার মোস্তফার নাম্বার দেয়। আমি তাকে বিষয়টি জানালে তিনি সকালে যেতে বলেন। সকালে আবার যাওয়ার পর ম্যানেজার ফারুক সাহেবের দেখা পাই। তিনি বলেন, তাদের আউটলেটে ইলিশ মাছই নেই। তিনি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন এবং আমার টাকা ফেরত দেন।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে আমরা যারা মাসিক বাজার এসব সুপারশপে করি, তা কি কখনো মিলিয়ে দেখি? তারা কি সব সময়ই এমন প্রতারণা করে আমাদের পকেট কাটছে।

আগোরার জন্য আমার বিকল্প ৩ প্রস্তাব

প্রতারণা ধরা পড়ার পর আমি তাদের কাছে আমার দুই বছরের বিল চাই। তারা সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় চায়। আমি সময় দিয়ে চলে আসি। সন্ধ্যায় শিলা নামের একজন আগোরার নাম্বার থেকে ফোন করে জানান তাদের কাছে মাত্র দুই মাসের বিল রয়েছে। আমি এ কথা শোনার পর তাদের বিকল্প তিনটি প্রস্তাব দেই।

১. তারা আমার গত দুই বছরের বিল দেবে। যাতে আমি মিলিয়ে দেখতে পারি এ রকম অদ্ভুত কোনো বিল আমার নামে করা হয়েছে কিনা।

২. যদি ম্যানেজার এই অপকর্মে জড়িত না থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে যথাযথ শাস্তি দিয়ে তা মিডিয়ায় প্রচার করবে।

৩. প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা আমার সাথে প্রতারণা করা হয়েছে এটা ধরে নিয়ে দুই বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সমাজের অসহায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে তা বিতরণ করতে হবে এবং মিডিয়ায় তা প্রচার করতে হবে।

এ নিয়ে মিসেস শিলা আমাকে বেশ কয়েকবার ফোন করেন এবং আমার বাসায় আসতে চান। আমি তাকে অনুরোধ করি, আমার শর্তে রাজি থাকলে আমার অফিসে আসতে।

তাদের সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা বিকল্প তিনটি শর্তের কোনোটিই পালন করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যায় ম্যানেজারের সাথে আমার ফোনো কথা হয় এবং তিনি জানান, আমার দুই বছরের বিল দেবেন তবে এক মাস সময় দিতে হবে।

আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি এটা কালক্ষেপণ করার কৌশল এবং প্রতারণার নতুন কোনো ফাঁদ। তাই আমি এ বিষয়ে আইনগত  ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছি। না হয় তাদের এই প্রতারণা চলতেই থাকবে।

এ বিষয়ে ম্যানেজার ফারুক হোসাইনের মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

(ঢাকাটাইমস/১২জুন/বিইউ/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

নির্বাচিত খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :