‘অপপ্রচার বন্ধে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার’

দিতি আহমেদ
 | প্রকাশিত : ১৪ জুলাই ২০১৯, ১১:৩১

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে মিথ্যা ও বানোয়াট খবরের ছড়াছড়ি। এই মাধ্যম ছড়াচ্ছে গুজব। বাড়ছে বিভ্রান্তি। যোগাযোগের অন্যতম এই মাধ্যমে অপপ্রচার, বানোয়াট তথ্য ও গুজব বন্ধে সরকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দিতি আহমেদ। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঠিক ব্যবহার কি আমরা করতে পারছি?
একমাত্র চীন ছাড়া পৃথিবীর সব দেশেই তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যবহার হচ্ছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। যেভাবে এই মাধ্যমের ব্যবহার আমরা করছি তা আসলে মোটেই সঠিক নয়। এক্ষেত্রে আমাদের আরও অনেক বেশি সচেতন ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে হবে। 

এই মাধ্যমের সঠিক ব্যবহারের জন্য তো আইনও আছে

ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য দেশে আইন করা হয়েছে। এই আইনের পরিধি অনেক। তবুও সব কিছু আইন দিয়ে হয় না। এজন্য চাই সচেতনতা। যেসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই যোগাযোগমাধ্যমগুলো পরিচালিত হয় সেই সব প্রতিষ্ঠানকে আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। আমরা চেষ্টা করছি আমাদের যে প্রচলিত আইন আছে তা যেন তারা মেনে চলে। অন্যথায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে উন্নত দেশগুলোর কী অবস্থা?
উন্নত বিশ্বে যা প্রচার হয় আমাদের দেশেও ঠিক তাই প্রচার করা হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্ব মানে তো পশ্চিমা বিশ্ব, আসলে তাদের অনুসরণ করে আমাদের দেশের এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো প্রচার করা কখনোই সম্ভব নয়। কেননা আমাদের দেশের সামাজিক, ধর্মীয় প্রেক্ষাপট ও মূল্যবোধ তাদের থেকে আলাদা। আমাদের নিজস্ব সামাজিক মানদ- ও মূল্যবোধ আছে। আমাদের নিজস্ব জাতিসত্তা আছে। আমাদের দেশে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র আছে, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ, সন্ত্রাস আছে। অতএব তারা যেটি স্বচ্ছন্দে প্রচার করতে পারে আমাদের দেশে তা সম্ভব নয়। তবে হ্যাঁ এর অপব্যবহার ও অপপ্রচার বন্ধে আমরা বদ্ধপরিকর ও সচেতন এবং এ ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। 

বেশির ভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উন্নত দেশগুলোর হাত ধরেই এসেছে। তারা এটাকে পরিচালনাও করছে। সেজন্য কি আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি?
আমার মনে হয় আমরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এসব মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে না থাকায় নানা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে পড়ছে । ফলে প্রতিদিন আমাদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যেমন- রামুর ঘটনা, প্রশ্নফাঁসের ঘটনাসহ আরও এমন অনেক ঘটনা আছে, যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সমাজে অপপ্রচার ও গুজব ছড়াতো না। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো গুজব এড়িয়ে মানুষের কাছে সঠিক খবরটি কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়?
বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা কুসংস্কারমুক্ত। তাই তারা সত্য-মিথ্যা খবরের ব্যাপারে সচেতন। এছাড়া আমাদের গণমাধ্যমগুলো এক্ষেত্রে দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা সঠিক ও সত্য সংবাদ প্রচার করে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের সত্যতা যাচাইয়ের উপায় কী?
ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মতো যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সংবাদ নির্ভরযোগ্য সূত্র নয়। তাই এসব মাধ্যমে প্রচার হওয়া তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অবশ্যই আমাদের উচিত টেলিভিশন, সংবাদপত্র, রেডিও, নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া। 

একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর কী ধরনের সচেতনতা থাকা প্রয়োজন? 
ব্যবহারকারীদের সবার আগে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নিজেদের তথ্য প্রচার করতে হবে। হোক তা নিজেদের কিংবা সামাজিক তথ্য। টু ফ্যাক্টর ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করা। ব্যক্তিগত তথ্য সব জায়গায় না দেওয়া, ব্যক্তিগত আলাপকালে একান্ত ছবি, তথ্য, ভিডিও শেয়ার না করা। নিজের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার না করা। আজ যে বন্ধু কাল সে বন্ধু নাও থাকতে পারে। এই জায়গাগুলোতে সচেতন হতে হবে। 

অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট তথ্য প্রচার ও প্রসার নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
সরকার সবসময় এসব বিষয়ে খুবই সচেতন এবং আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকল মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব, জঙ্গিবাদ ও অপপ্রচার বন্ধে প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারব এবং সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সাধারণ মানুষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়া যাবে।

(ঢাকাটাইমস/১৪জুলাই/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :