‘নতুন মোবাইল না পেয়ে’ মাকে কুপিয়ে হত্যা

বাগেরহাট প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৩
প্রতীকী ছবি

বাগেরহাটে মাদকাসক্ত ছেলের ধারালো অস্ত্রের কোপে মা খুন হয়েছেন। নতুন মোবাইলফোন সেট চেয়ে না পেয়ে ক্ষুব্ধ নেশাগ্রস্ত ছেলে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করেন বলে দাবি পুলিশের। নিহতের ছেলে রাসেল মোল্লা ওরফে শুকুরকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহ্নত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

রবিবার সকাল আটটার দিকে বাগেরহাট শহরের বাসাবাটি এলাকার পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ির কাছে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহতের নাম রাবেয়া মল্লিক (৬৫)। তিনি শহরের বাসাবাটি এলাকার শাহজাহান মোল্লার স্ত্রী।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আবজাল সাংবাদিকদের বলেন, রাসেল নামে ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। সকালে সে তার মায়ের কাছে নতুন মোবাইলফোন চায়। তিনি তার ছেলেকে ফোনসেট কিনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে ছেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মাকে হত্যা করে। রাসেল মায়ের কাছে নেশার টাকা অথবা মোবাইলফোন সেট চেয়ে না পেয়ে হত্যা করে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে এবং ছেলে রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিহতের মেয়ে নাজমা আক্তার যুথি ঢাকা টাইমসকে বলেন, আমার ও ছোটভাই  দোতলা বাড়িতে থাকতেন। মা থাকতেন নিচতলায় আর ভাই দোতলায়। দুই তিন দিন ধরে রাসেল ইংরেজি সিনেমা দেখার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরে। মা আমাকে বিষয়টি জানালে সকালে রাসেলকে আমার বাসায় আসতে বলি। সকাল সাতটার দিকে মাকে ফোন করে বলি, রাসেলকে একটু দেরি করে আমার বাসায় পাঠাতে। মায়ের সাথে এটাই ছিল আমার শেষ কথা। এরপর শুনি মা খুন হয়েছে। আমার বাসায় একটু দেরি করে আসতে বলার কারণে সে ক্ষুব্ধ হয়ে মাকে ছুরি দিয়ে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছি।

তিনি আরও বলেন, রাসেল স্কুলে পড়া অবস্থায় খারাপ বন্ধুদের সাথে মিশে নেশায় আসক্ত হয়। তাকে বেশ কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়েছি। চিকিৎসার পর কিছুদিন স্বাভাবিক থাকে, পরে আবার যা তাই। অন্তত ১৫ বছর ধরে সে মাদকাসক্ত। তার এই নেশার টাকার যোগান দিতে দিতে পরিবারের সবাই অতিষ্ঠ। টাকা না পেলেই সে মাকে একা পেয়ে মারধর করত। প্রায় সাত আট মাস মা সবসময় ছেলের ভয়ে ঘরে দরজা আটকে থাকতেন।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :