সড়ক আইন বাস্তবসম্মত হয়নি: মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৪:২৭

সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবসম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি মহাসচিবের মতে, আইনটি শুরুর করার আগে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বসা উচিত ছিল।

ঠাকুরগাঁও শহরের তাঁতীপাড়ায় পৈতৃক নিবাসে বুধবার সকালে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘সড়ক পরিবহন আইনটি বাস্তবসম্মত হয়নি। এটি শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট স্টক হোল্ডারদের নিয়ে আলোচনায় বসে এই আইন প্রণয়ন করা উচিত ছিল।’

দেশের চলমান সমস্যার দিকে সরকারের মনোযোগ নেই দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘বড় বড় মেগা প্রকল্প তৈরি করে কিভাবে জনগণের টাকা লুট করা যায় তাই নিয়ে তারা ব্যস্ত। কোটি কোটি টাকা লুট করে তারা বিদেশে পাচার করছে।’

‘সরকার রাষ্ট্রপরিচালনায় ব্যর্থ বলেই দেশে পেঁয়াজ-লবণ সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ আজ ব্যর্থ রাষ্ট্রে রূপ নিয়েছে। আইনের সুশাসন নেই। দুঃশাসনের যাতাকলে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের একমাত্র উপায় গণঅভ্যুত্থান।’

এসবের প্রতিবাদে দাঁড়ালে সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে তা পণ্ড করে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা।
আইনের সুশাসনের অভাবে প্রশাসনও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্নীতিতে দেশ ডুবে গেছে। দলীয় কর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অঙ্গনে অস্থিরতা বিরাজ করছে।’
‘৫২ থেকে ৯০-র গণঅভ্যুত্থানসহ দেশে সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে ছাত্র সমাজের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে দেশের চলমান পরিস্থিতিতে ছাত্র সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে।’
ভারতকে বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এ দেশের স্বাধিকার আন্দোলনে ভারতের অবদান রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকার তিস্তাসহ দেশের নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে।’ 
রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘দুই বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সমস্যা নিরসন করতে পারেনি সরকার। কূটনৈতিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তারা।’
দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গণআন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল নয়। বন্যায় যেমন পদ্মা-যমুনা-মেঘনার দুই তীর ভাঙে, কিন্তু নদীর প্রবাহ ঠিক থাকে। বিএনপিরও এই রূপ গতি রয়েছে। সরকার বিএনপির পেছনে টিকটিকি লাগিয়ে দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে মাত্র।’

এসময় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহ-সভাপতি নূরে সাহাদাত স্বজন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হামিদসহ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার দাদা বাড়ি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় রওনা হন। সেখান থেকে তিনি তেঁতুলিয়া যাবেন বলে জানা গেছে।

ঢাকাটাইমস/২০নভেম্বর/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :