একসঙ্গে থাকতে চাওয়ায় স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ২০:২৬ | প্রকাশিত : ০৬ জুলাই ২০২০, ১৯:৪৫

ঢাকার আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় পুকুর থেকে রেবেকা বেগম নামে এক নারীর লাশ উদ্ধারের পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে র‍্যাব। স্বামীর হাতে নৃসংশভাবে খুন হন ওই নারী। তাকে গলাটিপে হত্যার পর পালিয়ে যাওয়া মফিজুল ইসলামকে জামালপুরের ইসলামপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাপারে জানায় র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, স্বামীর সঙ্গে একত্রে থাকতে চাওয়ায় স্ত্রী রেবেকা বেগমকে গলাটিপে হত্যা করেন মফিজুল। পরে লাশ পুকুরে ফেলে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন মফিজুল। রবিবার দিবাগত রাতে মফিজুল ইসলামকে ইসলামপুর পৌরসভার মোশারফগঞ্জ টঙ্গের আগলা গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময়ে তার কাছ থেকে নিহত রেবেকা বেগমের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি উদ্ধার করে র‌্যাব।

র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার সালাহউদ্দিন ঢাকাটাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মফিজুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, গত ২৮ জুন আশুলিয়ার কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মেন্টেসের পেছনে কাছাকাছি একটি পুকুর থেকে একজন নারীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আশুলিয়া থানা পুলিশ মৃতের পরিচয় শনাক্ত করে তার পরিবারকে জানায়। পরে মৃতের পরিবারের লোকজন এসে লাশ শনাক্ত করেন। থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম তাকে হত্যা করে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের মা মোসা. খোদেজা বেগম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মফিজুল ইসলামকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাব জানায়, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। পরে র‌্যাব-১ তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে।

রবিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে র‌্যাব-১ এর একটি দল জামালপুরের আগলা গ্রামের মেয়রের বাজারে অভিযান চালিয়ে মফিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মফিজুল র‌্যাবকে জানান, তিনি পেশায় একজন হকার। তার স্ত্রী রেবেকা বেগম একজন গার্মেন্টস কর্মী। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে রেবেকা বেগমের চাকরি চলে যায়। ২০০৬ সালে গার্মেন্টেসে চাকরি করার সুবাধে রেবেকা বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তারা ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ে করেন। তাদের একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে।

মফিজুলের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, বিয়ের পাঁচ বছর পর পারিবারিক কলহের কারণে তাদের তালাক হয়। পরবর্তীতে মফিজুল আবার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ছয়মাস আগে রেবেকা বেগমের সঙ্গে তার আবার যোগাযোগ হয় এবং গত ৬ জুন আবারও তিনি রেবেকা বেগমকে বিয়ে করেন।

গ্রেপ্তারকৃত মফিজুল মিরপুর এলাকায় বসবাস করত আর রেবেকা বেগম আশুলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিয়ের পর মফিজুল মাঝে মাঝে আশুলিয়ায় এসে রেবেকা বেগমের বাসায় থাকতেন। রেবেকা বেগম তার স্বামীর সাথে একত্রে থাকার জন্য বলতেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হত।

মফিজুল র‌্যাবকে জানান, ২৭ জুন রাত নয়টার দিকে রেবেকা বেগম তার স্বামী মফিজুলকে মোবাইলে ফোন করে মিরপুরে তার ভাড়া বাসায় চলে যান এবং একসঙ্গে থাকার জন্য বলেন। তখন তিনি রেবেকা বেগমকে আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরার জন্য বলেন। এই নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে ২৭ জুন রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে স্ত্রী রেবেকাকে সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তারা রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কাঠগড়া পশ্চিমপাড়া হাবুডাঙ্গা ফুজি গার্মের্ন্টেসের পেছনে কাছাকাছি পুকুর পাড়ে পৌঁছালে রেবেকা ও তার মধ্যে আবার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মফিজুল রেবেকা বেগমকে মাটিতে ফেলে গলা টিপে হত্যা করেন। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পুকুরে ফেলে দিয়ে রেবেকার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান।

গ্রেপ্তারকৃত মফিজুল ইসলাম নীলফামারী জেলার ডিমলা থানার দক্ষিণ সুন্দরখাত গ্রামের সায়েব আলীর ছেলে।

ঢাকাটাইমস/০৬ জুলাই/এএ/ইএস

সংবাদটি শেয়ার করুন

অপরাধ ও দুর্নীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :