দেশের স্বার্থেই শিডিউল ফ্লাইট নিয়ে ঝামেলা চায় না বেবিচক

নজরুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:২৭

করোনাকালে দেশে আসা সৌদি প্রবাসীদের সেদেশে ফেরা নিয়ে জটিলতা কমে এলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের বিমানবন্দরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে নিয়মিত ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেয়নি। এই সুযোগে একচেটিয়া যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে সাউদিয়া এয়ারলাইনস। আর বাংলাদেশের বিমান শুধু চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

সৌদি গমনেচ্ছু বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চাপ থাকলেও নিয়মিত ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এখনই কোনো বিবাদে যেতে চায় না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। নিয়মিত ফ্লাইট চালাতে বিশ্লেষকরা কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরামর্শ দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে কর্মরত বিপুল প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থেই বেবিচক এ বিষয়ে নমনীয়।

চলতি মাসের শুরুতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সৌদি আরবে শিডিউল ফ্লাইটের ঘোষণা দেয়। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ করোনাভাইরাসের অজুহাতে বিমানকে ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেয়নি। তবে বিমানের নন সিডিউল অর্থাৎ চার্টার্ড ফ্লাইটের অনুমতি দিয়েছে দেশটি। সেটাও নির্দিষ্ট পরিমাণে। অর্থাৎ সৌদি এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সপ্তাহে সেখানে বিমানকে ১০টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ দিচ্ছে।

অন্যদিকে সৌদি এয়ারলাইনস ছুটি কিংবা করোনায় দেশে এসে আটকাপড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেখানে একচেটিয়া ফেরানোর সুযোগ পাচ্ছে।

এয়ারলাইন্সটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৩ দিনে প্রায় ছয় হাজারের ওপরে প্রবাসী বাংলাদেশির সৌদি নিয়ে গেছে এয়ারলাইন্সটি।

সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ঢাকার বিপণন ব্যবস্থাপক ওমর খাইয়াম জানান, ১০ অক্টোবর থেকে আগামী ২৫ অক্টোবর সময়ের মধ্যে বাংলাদেশিদের ফেরাতে সৌদি এয়ারলাইন্স ৩২টি ফ্লাইট পরিচালনা করার শিডিউল রয়েছে। তবে ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়াতেও পারেন তারা।

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ২৬টি ফ্লাইটে সৌদি আরব গেছেন ৮ হাজার ৪২৭ জন প্রবাসী। এই ১০ দিনে বিমান পরিচালনা করেছে ১০টি ফ্লাইট আর সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ১৬টি ফ্লাইট।

জানা যায়, সৌদি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ সৌদি প্রবাসীদের ফেরাতে আরও চার্টার্ড ফ্লাইটের অনুরোধ করছে। প্রবাসীদের ফেরাতে সৌদি এয়ারলাইন্সকে বেবিচক সব ধরণের সহযোগিতার চেষ্টা করছে। তবে সৌদি সিভিল এভিয়েশন বিমানকে সেখানে সিডিউল ফ্লাইটে ল্যান্ডিং পারমিশন দিচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে বিমানকে সৌদিতে সিডিউল ফ্লাইটে ল্যান্ডিং পারমিশন (অবতরণের অনুমতি) পাইয়ে দিতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সৌদির সঙ্গে বাংলাদেশের খুবই ভালো সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সৌদি দূতাবাসের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে দেনদরবার করা যেতে পারে। প্রয়োজনে সিভিল এভিয়েশনের একটা টিম সৌদিতে গিয়ে দেশটির সিভিল এভিয়েশনকে বুঝিয়ে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেন তারা।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘সিডিউল ফ্লাইটে এখনও বিমানকে ল্যান্ডিং পারমিশন (অবতরণের অনুমতি) দেয়নি সৌদি। ওরা আমাদের এখন সপ্তাহে দশটা করে চার্টার্ড দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে তাদের সঙ্গে বেশি উচ্চবাচ্য করছি না। কারণ আমাদের এখন দরকার হলো আমাদের লোকগুলো সেখানে যেতে পারে। তাদের যাওয়াটা যখন হয়ে যাবে তখন আমরা না করে তাদের ফ্লাইট বন্ধ করে দেব। এখন এটা করছি আমাদের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে। আমরা মেনে নিচ্ছি। আমরা এই প্রক্রিয়াকে ডিস্টার্ব করতে চাচ্ছি না।’

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৫শে মার্চ থেকে সৌদি আরব সরকার সব দেশের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এতে করে বাংলাদেশে আটকা পড়েন ছুটি কাটাতে দেশে আসা বহু প্রবাসী কর্মী। তবে সম্প্রতি সৌদি ফিরতে প্রক্রিয়া শুরু হতেই নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হন সৌদি গমনেচ্ছুরা।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. মোকাব্বির হোসেন ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এখন সৌদিতে নন সিডিউল ফ্লাইট পরিচালনা করছি। আমাদের এখন সপ্তাহে দশটা করে ফ্লাইট পরিচালনা করার সুযোগ পাচ্ছি। আমরা চাচ্ছি, আমাদের লোকগুলো সেখানে ফিরে যাক। আমাদের লোকগুলো গেলেই হয়।’

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে ২৩ লাখের বেশি বাংলাদেশি বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত। করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে দেশটি থেকে গত সাড়ে ছয়মাসে ৪৮ হাজার ৫৯৭ জন কর্মী দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে ৪০ হাজার ৮৫২ জন পুরুষ ও ৭ হাজার ৭৪৫ জন নারী কর্মীও রয়েছেন। সম্প্রতি ফ্লাইট চালুর পর প্রায় আট হাজারের বেশি প্রবাসী এরইমধ্যে সৌদি ফিরে কাজে যোগ দিয়েছেন।

বিমান চলাচল বিষয়ে বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘সৌদি সিভিল এভিয়েশন এবং আমাদের সিভিল এভিয়েশনের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমেই কিন্তু কমার্শিয়াল ফ্লাইটগুলো হয়ে থাকে। যখন ফ্লাইট শুরু হয় তখন আমাদের সিভিল এভিয়েশন কড়া অবস্থান নিয়েছিল। এতে সৌদিতে প্রবাসীদের ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিল পরে সিভিল এভিয়েশন সেটা থেকে সরে তাদের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিল। ভালো কথা হচ্ছে, আমাদের প্রবাসীরা সেখানে ফিরে যাচ্ছে; তাদের যাওয়াটা জরুরি।’

সৌদিতে বিমান কিভাবে সিডিউল ফ্লাইটে ল্যান্ডিং পারমিশন (অবতরণের অনুমতি) পেতে পারে এমন পশ্নের জবাবে এই বিশ্লেষক বলেন, ‘এখন সৌদির সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বিদ্যমান ভালো সম্পর্কটাকে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজনে আমাদের সিভিল এভিয়েশনের একটা টিম সৌদি গিয়ে তাদের সিভিল এভিয়েশনের সঙ্গে বোঝাপড়া করলেই সমাধান আসতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২০অক্টোবর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :