মালাইকা নন, অর্জুনের পৃথিবী অন্য কেউ

বিনোদন ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ১২:১৬ | প্রকাশিত : ২২ জুন ২০২১, ১২:০১
অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে তার ছোট বোন অনশুলা কাপুর

পাঁচ বছর ধরে বলিউডের ‘ছাইয়া ছাইয়া’ গার্ল মালাইকা অরোরার সঙ্গে প্রেম করছেন অভিনেতা অর্জুন কাপুর। তারা লিভ ইন করছেন বলেও শোনা যায়। এর বাইরে বিভিন্ন পার্টি, ডিনার ডেট এবং বিদেশ ভ্রমণেও তাদের একসেঙ্গ দেখা যায়। সহজ কথায়, যেখানে মালাইকা সেখানেই অর্জুন। বয়সে অনেক বড় এই প্রেমিকাকে তিনি চোখে হারান।

তার পরও মালাইকা কিন্তু অর্জুনের পৃথিবী নন। তার পৃথিবী অন্য কেউ। তিনি আর কেউ নন, অর্জুনের আপন ছোট বোন অনশুলা কাপুর।তার নামে হাতে ট্যাটু করলেন অভিনেতা। সঙ্গে লিখলেন তার ও অনশুলার নামের আদ্যক্ষর ‘এ’। বোনের সঙ্গে তার জীবন এমনভাবে জড়িত, যা শেষ হওয়ার নয়। এবার হাতে ট্যাটু করে তা অনশুলাকে উৎসর্গ করলেন অভিনেতা।

অর্জুনের স্পষ্ট মনে আছে, প্রথম দিনের কথা। হাসপাতাল থেকে ছোট্ট অনশুলাকে এনে তার কোলে দেয়া হলো। সেই যে ছোট্ট আঙুল দিয়ে ভাইয়ার আঙুল জড়িয়ে ধরল পুঁচকে বোন, ব্যাস আর তাকে কোল থেকে নামাতে পারলেন না। একসঙ্গে স্কুলে যাওয়া, পার্কে খেলতে যাওয়া, বন্ধুদের জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়া, সবই একসঙ্গে। এভাবেই জড়িয়ে জড়িয়ে থাকা সারা জীবন।

বাড়িতেও খেলার সাথী সেই ছোট বোন অনশুলাই। তার শাসনে, তার আদরেই অর্জুনের প্রথম উপলব্ধি, বোনের প্রতি তাকে দায়িত্বপালন করতে হবে। বাবা বনি কাপুর বিখ্যাত প্রযোজক, কাকা অনিল কাপুর সুপারস্টার, আরেক কাকা সঞ্জয় কাপুরও বলিউড অভিনেতা। সকলে ব্যস্ত। তাই ছোট থেকেই বাড়ির সব কচিকাঁচাদের দায়িত্বই অর্জুনের।

কাপুর পরিবার কলেবরে বেশ বড়। আর শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে ভাইয়া-ভাইয়ে মিলও কিছু কম নয়। তাই সব তুতো ভাই বোনেরাই বড় হয়েছেন একসঙ্গে। সেই সময়ে বনি কাপুরের দুই সন্তান, অনিল কাপুরের এক সন্তান আর সঞ্জয় কাপুর তখনও সন্তানের পিতা নন। ছোটবেলা থেকেই অর্জুন, অনশুলা, সোনমের একসঙ্গে বেড়ে ওঠা।

পরিবারে ক্রমশ সমস্যা দানা বাঁধে। বাবা বনি কাপুর জড়িয়ে পড়েন নায়িকা শ্রীদেবীর প্রেমে। গোটা দেশে তাদের সম্পর্ক তখন আলোচনার বিষয়। বাড়িতে মায়ের কোলে বসেই দুই ভাই-বোনের শক্ত থাকার চেষ্টা। বনি ও শ্রীদেবীর বিয়ের খবর আসার পর, অর্জুন-অনশুলার মা মোনা সিং তাদের নিয়ে চলে যান নিজের বাড়ি। সেখানেই নানির কাছে অর্জুন-অনশুলার বেড়ে ওঠা।

যদিও কাপুর পরিবারের সঙ্গে তাদের নিয়মিত যোগ ছিল। বাবা বনির সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল অটুট। কিন্তু মায়ের কষ্ট পাওয়াটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন দুই ভাই-বোন। তাই মা জীবিত থাকাকালীন শ্রীদেবী, তার দুই কন্যা জাহ্ণবী ও খুশির সঙ্গে তেমন কাছের সম্পর্ক তৈরি হতে পারেনি।

অর্জুন-অনশুলার মা মোনা সিংয়ের অকালমৃত্যু দুই ভাই-বোনকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। এবার অনশুলা যে কেবল তারই দায়িত্ব, সেটা বারবার বলে এসেছেন অর্জুন। পাশাপাশি অনশুলাও মনে করতেন যে, তার দাদা এত মায়ের ন্যাওটা ছিলেন যে, মায়ের চলে যাওয়া তার দাদার জীবনে বড় শূন্যতা তৈরি করবে। তাই আরও বেঁধে বেঁধে থাকা।

এরপর শ্রীদেবীর অকালমৃত্যু হঠাৎই কাপুর পরিবারের সব হিসেবনিকেশ উল্টে দেয়। দুবাইয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত বাবার পাশে সবথেকে বড় স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ালেন অর্জুন। দুহাতে টেনে নিলেন জাহ্ণবী আর খুশিকে। অনশুলা হঠাৎই প্রায় মায়ের ভূমিকায় ছোট দুই বোনের পাশে এসে দাঁড়ালেন। বাবা বনি কাপুরের মুখে তখন চওড়া হাসি। চার ছেলে মেয়েকে নিয়ে যেভাবে সংসার বাঁধতে চেয়েছিলেন, এবার যেন তা ধীরে ধীরে সফল হতে চলেছে।

বলিউডের গোপন সূত্র বলে, এই গোটা পরিস্থিতিটাই তৈরি করেছিলেন অনশুলা। অর্জুনকে বুঝিয়ে বাবার পাশে পাঠানো থেকে ছোট দুই বোনের দায়িত্ব নেয়া, কাপুর বাড়ির বড় ছেলের পরিবারে অনশুলাই তখন মায়ের ছোঁয়া নিয়ে হাজির। সকলের খেয়াল রাখা, জাহ্নবী-খুশির কোনোরকম অসুবিধা যাতে না হয়, এমনকী তাদের মনখারাপেও পাশে অনশুলা দিদি।

ঢাকাটাইমস/২২জুন/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :