বৃষ্টি কম হওয়ায় চিরিরবন্দরের আমন ধান চাষিদের শঙ্কা

মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
 | প্রকাশিত : ৩১ জুলাই ২০২১, ১৭:০২

পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় রোপা আমন ধান আবাদ নিয়ে শঙ্কায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের কৃষকরা। বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় এখন পর্যন্ত নির্ধারিত ২৩ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমির মধ্যে ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন লাগাতে পারেনি কৃষক। ফলে আমন উৎপাদন অনেকটাই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন রোপা আমন আবাদ করতে না পারা প্রায় ২০ হাজার কৃষক।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে উফসী জাতের ২২ হাজার ৮৫৫, স্থানীয় জাতের ৫৭১ ও হাইব্রিড জাতের ৩৩১ হেক্টরসহ মোট ২৩ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমি আমন চাষের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির অভাবে জমিতে পানি না থাকায় এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন লাগাতে পারেনি কৃষকরা।

বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিচু জমিতে আমনের চারা রোপন করলেও উচু ও মাঝারি জমিগুলো পানির অভাবে আমনের চারা লাগানোর জন্য অপেক্ষা করছেন কৃষকরা। কিছু কিছু রোপণকৃত ক্ষেতের চারা জমিতে পানি না থাকায় মরে যাচ্ছে। অনেক স্বচ্ছল কৃষক শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে জমি তৈরি করছেন।

দেখা গেছে, উঁচু জমিতে পানি না থাকায় বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি দেয়া হচ্ছে জমি তৈরি থেকে চারা রোপণ করা পর্যন্ত। আবার কিছু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক আমন চাষের জন্য বৃষ্টির অপেক্ষা করছেন। এদিকে কৃষকরা যাতে খরার কবলে পড়ে আমনের আবাদ পিছিয়ে না যায় সেজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ তাদের সেচ দিয়ে জমি তৈরি করে চারা রোপণ করার পরার্মশ দিচ্ছে।

নশরতপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম, আজগার, ধোলু ও সাতনালা ইউনিয়নের জাকির হোসেন শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে আমন রোপনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তারা বলেন, এ অঞ্চলের প্রধান ফসল আমন ধান বৃষ্টিনির্ভর ফসল হিসাবে পরিচিত। এই ফসল আমরা যুগ যুগ ধরে বৃষ্টির পানি দিয়ে আবাদ করে আসছি। কিন্তু এখন আবহাওয়া বিপর্যয়ের কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা। তাই বাধ্য হয়ে শ্যালো মেশিনের পানি দিয়ে রোপনকৃত চারা বাঁচানোর চেষ্টা এবং চারা লাগানোর জমি তৈরি করছি।

বৃষ্টির দেখা না মেলায় আমনের আবাদ করতে দেড়ি হওয়ায় উপজেলার নালীপাড়া গ্রামের কৃষক শহিদুল, বেলাল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, কৃষকের কোনোকালে ভাল নেই বাহে। আগাম আমন ধান আবাদ করিবার না পারলে ররিশস্য (আলু, শাক-সবজি, গম) এর আবাদ দেরি হইবে বাহে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গত তিন সপ্তাহ ধরে উপজেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও তাপদাহ বিরাজ করছে। ফলে বর্ষার ভরা মৌসুমেও তেমন বৃষ্টিপাত নেই বললেই চলে। তবে সঠিক সময়ে কৃষক জমিতে পানি পেলে রোপা আমন উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

(ঢাকাটাইমস/৩১জুলাই/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :