গুডবুকে থাকা সিকদার পরিবার অতঃপর ব্যাডবুকে

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ জুন ২০২২, ১৮:২৪ | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০২২, ১৭:০৮

দেশের প্রথম প্রজন্মের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ। বৃহৎ এই শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নুল হক সিকদার ছিলেন সরকারের প্রিয়ভাজন। যশস্বী শিল্পগ্রুপ ও পরিবারটির ব্যাংকিং খাতের আর্থিক অনিয়ম অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহযোগী। স্বাধীনতার পর ব্যাংক, বীমা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, অ্যাভিয়েশনসহ বিভিন্ন খাতে সিকদার গ্রুপ সরকারে পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। এবার দুদকের অনুসন্ধানে সিকদার গ্রুপটি কি সত্যি চাপে পড়ল? সিকদার গ্রুপের ১১টি প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ রয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা। বিপুল অংকের ঋণের বোঝা থাকলেও সিকদার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জয়নুল হক সিকদারের জীবদ্দশায় শিল্প পরিবারটি এমন চাপে পড়েনি।

২০২০ সালের ১মে জয়নুল হক সিকদারের ছেলে এবং সিকদার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার এক্সিম ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে গুলি করেন। ঋণ চেয়ে না পাওয়ায় তারা এ ঘটনা ঘটান। এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয় গুলশান থানায়। এই ঘটনায় বেকায়দা পড়ে সিকদার গ্রুপ।

মামলার পর আটক হওয়া এড়াতে রন হক সিকদার ও তার ভাই দিপু হক সিকদার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তাদের বাবা জয়নুল হক সিকদাদের মৃত্যুর খবরে দেশে ফিরে আসেন রন হক। পরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এই মামলা থেকে তাদের দুজনকেই অব্যহতি দেওয়া হয়।

তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে যুক্ত তার পরিবারের সদস্য এবং অন্যান্য সদস্যদের আর্থিক অনিয়মের অনুসসন্ধান করতে গুরুত্বপূর্ণ নথি চেয়ে ব্যাংকটির ব্যাবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।

দুদকের পাঠানোর চিঠিতে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে বলা হয়, ‘ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান জয়নুল হক সিকদার ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, নামে বেনামে জনগণের আমানতকৃত অর্থ লুটপাটসহ ঘুষের বিনিময়ে বিধিবহির্ভূত ঋণ দেওয়া ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ৩০ লাখ ডলার খরচ করার অভিযোগ রয়েছে।’

গত ৭ জুন ন্যাশনাল ব্যাংক ব্যবস্থাপক বরারবর দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে প্রয়োজনীয় নথি সরবরারে বিষয়ে বলা হয়। এর আগেও দুদক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটিডের কাছে এ বিষয়ে নথি সরবরাহ করতে বলে। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথি সরবরাহ না করায় অনুসন্ধান কাজে বিঘ্ন ঘটে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ইতোমধ্যে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ৩০ লাখ ডলার অবৈধভাবে খরচ করা ও অর্থ লুটের বিষয়ে দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করেছে কমিশন।

দুদকের পাঠানো ওই চিঠিতে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড নিমতলা শাখার ইপসু ট্রেডিংয়ের নামে খোলা চলতি হিসাবের আবেদনপত্র, স্বাক্ষসহ কেওয়াইসি ফরম, চলতি হিসাবের বিস্তারিত শুরু থেকে শেষ সব হিসাবের বিবরণ চাওয়া হয়।

এছাড়া ঢাকার কারওয়ান বাজারে নির্মিত ন্যাশনাল ব্যাংকের এনবিএল টাওয়ার, চট্টগ্রামে নির্মিত ব্যাংকটি এনবিএল টাওয়ারের নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত, টেন্ডার প্রক্রিয়া, ঠিকাদার বাছাই ও কাজ শেষ হওয়া সংক্রান্ত বিল ভাউচার চাওয়া হয়।

অন্যদিকে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য রন হক সিকদার, রিক হক সিকদার, তার ছেলে জন হক সিকদার, মমতাজুল হক, মণিকা সিকদার খান, নাসিম হক সিকদার ও সৈয়দ কামরুল ইসলামের নামে ব্যাংক থেকে আজ পর্যন্ত যতগুলো ক্রডিট কার্ড ইস্যু হয়েছে, তার যাবতীয় রেকর্ডপত্রের হিসাব বিবরণী দুদকে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সিকদার গ্রুপপের মালিকানাধীন পাওয়ারপ্যাক মতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড নামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ২২১ কোটি টাকা, কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডের নামে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা, পাওয়ারপ্যাক মতিয়ারা খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডের নামে ২৭ কোটি টাকা। এছাড়া মাল্টিপ্লেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের নামে ২১০ কোটি, পাওয়ারপ্যাকের নামে ১২ কোটি, পাওয়ারপ্যাক হোল্ডিংস লিমিটেডের নামে ৪৫ কোটি ঋণ রয়েছে গ্রুপটির।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/এসআর/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :