‘জঙ্গি কার্যক্রম চলছে অনলাইন ভিত্তিক, সক্ষমতা নেই নাশকতার’

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০১ জুলাই ২০২২, ১৮:১৪ | প্রকাশিত : ০১ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৪

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল তাদের সবাইকে র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছেন র‌্যবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেছেন, দেশে এখন কোনো ধরনের হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা জঙ্গিদের নেই। তারা (জঙ্গিরা) এখন দাওয়াতি কার্যক্রমের পাশাপাশি সদস্য সংগ্রহ এবং অর্থ সংগ্রহে ব্যস্ত।

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ছয় বছর পূর্তি সামনে রেখে ঢাকা টাইমসকে এসব কথা জানান র‌্যাব মুখপাত্র।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাড়িতে জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জন প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে রয়েছেন ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। ভোরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অপারেশন থান্ডার বোল্টের মাধ্যমে অবসান হয় জঙ্গিবাদীদের ১২ ঘণ্টা ধরে চালানো নৃসংশতার।

কমান্ডার আল মঈন বলেন, হলি আর্টিজান হামলা-পরবর্তী সময়ে র‌্যাবের সাঁড়াশি অভিযানে ১৬০০-এর বেশি জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯০০-এর বেশি জেএমবির সদস্য।

হলি আর্টিজান হামলার পর র‌্যাবের অভিযানে অনেক দুর্ধর্ষ জঙ্গি গ্রেপ্তার হয়েছে। বর্তমানে তাদের কার্যক্রম অনেকটা অনলাইনভিত্তিক হয়ে গেছে বলে জানান র‌্যাব মুখপাত্র। বলেন, ‘র‌্যাব সাইবার মনিটরিং সেলের মাধ্যমে অনলাইনে জঙ্গিদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জঙ্গিরা বিভিন্ন সময় সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করছে। যখনই আমরা তথ্য পাচ্ছি অভিযান পরিচালনা করছি।’

দেশে এখন জঙ্গিদের মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারার পেছনে জনগণের সচেতনতা ও ভূমিকাও দেখছেন খন্দকার আল মঈন। বলেন, ‘দেশের মানুষ জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়নি। আমরা জঙ্গিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি জঙ্গিবাদ নির্মূলে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। এর মধ্যে রয়েছে ডিরেডিক্যালাইজ।’

র‌্যাবের ডিরেডিক্যালাইজ কার্যক্রম অব্যাহত আছে জানিয়ে কমান্ডার খন্দকার মঈন বলেন, ‘বর্তমানে দেশের জঙ্গিবাদ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে এতে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। র‌্যাব নিয়মিত জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যখনই আমরা তথ্য পাচ্ছি অভিযান পরিচালনা করছি।’

দেশে জঙ্গিদের বড় ধরনের হামলার সক্ষমতা আছে কি না জানতে চাইলে র‌্যাব মুখপাত্র বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের যে তথ্য রয়েছে, তাতে বড় ধরনের হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা জঙ্গিদের নেই। তাই বলে আমরা আত্মতুষ্টিতে ভূগছি না। যাদের মাধ্যমে দেশে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল, যেমন-হরকাতুল জিহাদ, জেএমবি তাদের অনেক নেতাকে আমরা খুঁজে খুঁজে গ্রেপ্তার করছি। বর্তমানে দেশের জঙ্গিবাদ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে। র‌্যাব নিয়মিত জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যখনই আমরা তথ্য পাচ্ছি অভিযান পরিচালনা করছি।’

এলিট ফোর্সটির মুখপাত্র বলেন, ‘র‌্যাব শুধু অভিযান পরিচালনা করে জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করছে তা-না; যখন জঙ্গিবাদে কারো মুভমেন্ট পাচ্ছি প্রাথমিকভাবে তাকে নিয়ে আসছি। তাকে প্রেষণা দিয়ে পরিবারের কাছে দেওয়া হলে সে যদি স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করে, তাহলে আমরা তাকে আর গ্রেপ্তার করছি না। এসময় তার ওপর আমরা নজরদারি করি। আর যখন দেখছি প্রেষণা দিয়েও কাজ হচ্ছে না, তখন তাকে গ্রেপ্তার করছি।’

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে অভিযানগুলোতে দেখছি, জঙ্গিরা এখন সদস্য আর অর্থ সংগ্রহের দিকেই বেশি রয়েছে।’

জঙ্গিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে র‌্যাবের যে হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছিল সেখানে কেমন সাড়া মিলেছে জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, ‘সেটা এখনো আছে। কম-বেশি সাড়াও পাওয়া যায়। তবে হটলাইনে অনেকে যোগাযোগ করতে চায় না। যে কলগুলো আসে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। আসলেই তারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত কি না কিংবা কেউ সুবিধা আদায়ে এসব করছে কি না।’

(ঢাকাটাইমস/১জুলাই/এসএস/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :