চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনী তৎপরতা: ‘কারণ দর্শাতে’ হবে সচিব খাজা মিয়াকে

রুদ্র রাসেল, ঢাকা টাইমস
| আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩, ১৭:৩৪ | প্রকাশিত : ০৮ জুলাই ২০২৩, ১৭:১০

সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী সুযোগ না থাকলেও তা লঙ্ঘন করে নির্বাচনী পথসভা ও মতবিনিময় সভা করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব খাজা মিয়া। নড়াইল-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্যও দিয়েছেন এ আমলা।

সচিব খাজা মিয়া নড়াইল-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নানামুখি তৎপরতা চালাচ্ছেন। সবশেষ ঈদুল আজহার ছুটির সময় তিনি গ্রামের বাড়ি নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ফুলদাহ গ্রামে যান।

সেখানে তিনি ৩০ জুন ও ১ জুলাই কয়েকটি পথসভা ও মতবিনিময় সভা করেন। গণমাধ্যমে খবরের পাশাপাশি তার সেসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

জানা গেছে, খাজা মিয়া অনেকদিন ধরেই তার নিজ এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। ওই ধারাবহিকতা রেখেই সর্বশেষ ঈদুল আজহার ছুটির সময় তিনি পথসভা ও উঠান বৈঠক করেন। এসব সভায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

অভিযোগ উঠেছে, সচিব খাজা মিয়া সভা-সমাবেশে নড়াইল-১ (কালিয়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তির কঠোর সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে খাজা মিয়ার এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা হচ্ছে।

জ্যেষ্ঠ সচিব খাজা মিয়ার এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি। ঢাকা টাইমসকে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমি প্রধানমন্ত্রীর নলেজে দিয়েছি। তিনি বিষয়টি দেখছেন। শুনেছি তাকে (খাজা মিয়া) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আমি সুবিচার পাবো আশা করি।’

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘ডেফিননেটলি (অবশ্যই) এটি আলোচনার বিষয়। আমরা এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। যে কোনো পর্যায় থেকে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সচিব খাজা মিয়ার নির্বাচনি প্রচারণা বা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করার অভিপ্রায় প্রকাশের বিষয়টি ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে। তবে অপর একটি সূত্র শনিবার জানিয়েছে, খাজা মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে।

তবে কারণ দর্শানোর নোটিসের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নবীরুল ইসলাম ঢাকা টাইমসকে শনিবার বিকালে বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব খাজা মিয়ার সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

চাকরিবিধি ও আরপিও যা বলছে:

জ্যেষ্ঠ সচিব খাজা মিয়ার চাকরির মেয়াদ আছে আরও এক বছর। তার সরকারি চাকরির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৪ সালের ৪ জুলাই। সরকারি চাকরিতে থেকে এভাবে নির্বাচনী প্রচারে নামা সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রণীত আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন।

গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মকর্তার অবসর গ্রহণের পর ৩ বছর পার হওয়ার আগে নির্বাচন করার সুযোগ নেই। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ১২ (১) (চ) ধারায় এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্ম বিভাগের কোনো চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর গমন করেছেন এবং উক্ত পদত্যাগ বা অবসর গমনের পর তিন বছর অতিবাহিত না হয়ে থাকে। অর্থাৎ অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর শেষ না হলে কোনো সরকারি চাকরিজীবী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।’

আর সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯-এর ২৫(১) ধারায় (রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ) বলা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারী কোনো রাজনৈতিক দলের বা রাজনৈতিক দলের কোনো অঙ্গসংগঠনের সদস্য হতে অথবা অন্য কোনোভাবে যুক্ত হতে পারবেন না অথবা বাংলাদেশ বা বিদেশে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে বা কোনো প্রকারের সহায়তা করতে পারবেন না।’

ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ:

সরকারি চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনি প্রচারণা ও উঠান বৈঠক করায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব খাজা মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহবুবুর রহমান খান।

গত ৬ জুলাই মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব খাজা মিয়াকে এই নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে সরকারি কর্মচারি (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর ২৫(১) এর সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন এবং দায়িত্বশীল জায়গা থেকে আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ ও জনপ্রশাসন সচিবকে আগামী সাত দিনের মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি একই সময়ের মধ্যে খাজা মিয়াকে তার নিজের অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যাথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

(ঢাকাটাইমস/০৮জুলাই/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন এর সর্বশেষ

রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক: উপজেলা হাসপাতালগুলোতে নেই চিকিৎসা সক্ষমতা

মাগুরায় বাড়ি-জমি উত্তম কুমারের: কোথাও খোঁজ নেই তার, দুদকের অনুসন্ধান সম্পন্ন

কোথায় পালিয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বার, জানে না পুলিশ, স্থায়ী বরখাস্ত হলেই ডুমাইনে ভোট

ভয়াবহ ট্রাজেডির পর কতটা সতর্ক হলো বেইলি রোডের রেস্তোরাঁগুলো

টিপকাণ্ডে চাকরি হারানো নাজমুল কোথায়? কী করছেন?

অনলাইনে পশুর হাট জমল নাকি কমল?

ফাঁকা রাজধানীর নিরাপত্তায় তালিকভুক্ত চোর ধরছে পুলিশ

সংকটে চামড়া খাত, পর্যাপ্ত জোগানেও বন্ধ হচ্ছে না আমদানি

কোরবানির পশু জবাই ও মাংস বানানোর সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা 

পল্টনে অগ্নিঝুঁকিতে ১৫টি ভবন, নেই কোনো ব্যবস্থা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :