ঘরে ঘরে জ্বর-কাশি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:০১

ফাল্গুনের শুরু থেকেই দেশজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কখনো মেঘলা আকাশের সঙ্গে বৃষ্টি ও বাতাস, কখনো গরম। সন্ধ্যার পর গরম অনুভূত হলেও শেষ রাতে বাড়ছে ঠান্ডার প্রকোপ। তাপমাত্রার এমন ওঠানামায় সারা দেশে বেড়েছে জ্বর-সর্দি ও কাশির প্রকোপ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও গত কয়েকদিনে বেড়েছে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, বার বার আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার কারণে জ্বর-সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ সময় শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। ধূলোবালি থেকে রক্ষায় মাস্ক পড়তে হবে। বিশেষ করে সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে।

রাজধানীর কয়েকটি হাসাপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে রোগী বেড়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের চেম্বার ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে জ্বর নিয়ে আসা রোগীর ভিড় বেড়েছে। রোগীদের বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, ব্রংকিওলাইটিস, ডায়রিয়া, সর্দি-জ্বর নিয়ে হাসপাতালে আসছে। তবে চিকিৎসকরা অধিকাংশ রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছেন।

রবিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। সেখানে কথা হয় চারদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত আমান আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ চারদিন ধরে জ্বরের সঙ্গে তীব্র কাশি। বাসায় বসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরেও জ্বর কমছে না। তাই হাসপাতালে আসলাম। বাড়িতে আমার মাও অসুস্থ। বয়স বেশি হওয়ায় তাকে আনতে পারিনি।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসুস্থ হওয়ার অন্যতম উপসর্গ জ্বর। সাধারণ জ্বর হলে দু-তিন দিনের মধ্যে এমনি সেরে যায়। জ্বর তিন দিনের বেশি থাকলে চিকিৎসাসেবা নেওয়াটা বাঞ্ছনীয়।

এদিকে শহরের মতো গ্রামের জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য সময়ের তুলনায় জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। অধিকাংশ রোগী চার থেকে পাঁচদিন ধরে জ্বরের পাশাপাশি কাশিতে ভুগছে। তাই বাধ্য হযে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাচ্ছেন।

পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নাতিকে নিয়ে এসেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে আমার নাতি জ্বরে ভুগছে। স্থানীয় বাজার থেকে ওষুধ কিনে খাওয়ানোর পরেও জ্বর কমছে না। তাই ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসলাম। এসে দেখি অনেক ভীড়।’

এদিকে গত কয়েকদিনে দেশে বেড়েছে করোনা রোগীর সংখ্যা। শনিবার নতুন করে ৩৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর ফেব্রুয়ারির ১৭ তারিখ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত করোনায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৯৪ জন। আর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির এখ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১১ জন। এমন পরিস্থিতি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী শহীদ-উল-আলম বলেন, দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে জ্বর ও সর্দি কাশি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা কমে শুষ্কতার কারণে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু শ্বাসনালি ও ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। ফলে কাশি হতে থাকে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, এ সময় রোগীকে বেশি করে পানি পান করাতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। জ্বর হলে কোনো অবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যাবে না। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি যারা, বিশেষ করে যাদের শ্বাসতন্ত্রের রোগ আছে, হার্ট বা কিডনির রোগে ভুগছে, তাদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া প্রতিষেধক টিকা নিতে হবে।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. আবু সাঈদ শিমুল বলেন, প্রতিবছরই আবহাওয়া পরিবর্তনের সময়টাতে সর্দি-জ্বর দেখা যায়। তবে শিশুরা যদি কোনোভাবে সাত দিনের বেশি আক্রান্ত থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই সময়টাতে নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টের প্রবণতাও বেশি দেখা যাচ্ছে এর সঙ্গে ডায়রিয়া রোগীয় অনেকটাই বেড়েছ। এ জন্য শিশুর বাড়তি সতর্কতা নিতে হরে। যদি শ্বাসকষ্ট বেশি দেখা যায় তাহলে অক্সিজেন দিতে হবে। যেহেতু বাসায় সেটি বোঝা সম্ভব না, এজন্য শুরু থেকে অন্তত একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে সবচেয়ে ভালো হয়।

চলমান এ অবস্থায় ঠাণ্ডা জ্বরের মতো উপসর্গ সাত দিনের বেশি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলছেন চিকিৎসকরা।

মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. নিয়াতুজ্জামান বলেন, গত ১৫ দিনের ব্যবধানে হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এক সপ্তাহে দুইশর বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে। এজন্য নির্ধারিত শয্যার বাইরে নতুন করে শয্যা বাড়ান হয়েছে। মেডিসিন বিভাগেও একই অবস্থা। সেখানেও শয্যা বৃদ্ধি করে রোগী সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফজলে রাব্বী চৌধুরী বলেন, করোনার নতুন ধরন জে এন ওয়ান সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। এটি দ্রুত ছড়ায়। তবে এর যেসব টিকা দেওয়া হয়েছে সেগুলো এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর। ‘কেউ আক্রান্ত হলেও মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হবে না।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ ঢাকা টাইমসকে বলেন, ঋতু পরিবর্তন প্রকৃতির একটি শাশ্বত ও চিরন্তন বিষয়। সময়ের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সঙ্গে আসবে গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। প্রতিটি ঋতু পরিবর্তনের বাঁকবদলে এসেই প্রকৃতি সেজে উঠে নতুন ও ভিন্ন এক অপরূপ সাজে। মনে রাখতে হবে- প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। আর সেটি হলে- এ সময় একেক রোগ-ব্যাধির প্রকোপও হতে থাকে। তবে সে অনুযায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিলে কারোরই কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। মনে রাখতে হবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম ।

(ঢাকাটাইমস/২৭ফেব্রুয়ারি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :