নতুন সরকারের প্রত্যাশায় সূচকে শক্তিশালী উত্থান, লেনদেনও বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
  প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৭| আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৮
অ- অ+

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও আস্থা সংকট কাটিয়ে আবারও ফিরেছে বিনিয়োগকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এর প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে—রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ—উভয় বাজারেই মূল্যসূচকের বড় উত্থান হয়েছে, বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। এদিন সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর প্রথম ২০ মিনিটে বড় শেয়ার বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১১০ পয়েন্টের বেশি। আর মাত্র ২০ মিনিটেই লেনদেন হয়েছে ২২৫ কোটির বেশি। যেখানে এতদিন পুরো সাড়ে ৪ ঘণ্টার লেনদেন হয়েছে ২০০ কোটি টাকার ঘরে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে, যার ফলে বাজারে ইতিবাচক গতি সঞ্চার হয়েছে। তবে এই গতি ধরে রাখতে হলে অর্থনৈতিক সংস্কার, সুদহার নীতি, ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

সরকারের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, নির্বাচনের পর আস্থার সংকট কাটতেই বাজারে গতি ফিরেছে। বিনিয়োগকারীরা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ওপর আস্থা রেখেছেন। তবে এই ইতিবাচক প্রবণতা ধরে রাখতে সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোর উন্নতি অপরিহার্য।

তিনি বলেন, সুদহার যৌক্তিকীকরণ, রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধি, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে উন্নতি, দেশীয় বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দ্রুত দূর করা—এসব বিষয়েই সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে ভালো কোম্পানিকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করে বাজারে মানসম্পন্ন শেয়ারের জোগান বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৬৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, কমেছে ২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪টির। ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় লেনদেন হয়েছে।

এতে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২০০ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১২৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৪৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ডিএসইতে এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৭৯০ কোটি ১৫ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৪৮৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বেশি। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ লেনদেন।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানির মধ্যে ছিল সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন, রবি, সায়হাম কটন, যমুনা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও ওরিয়ন ইনফিউশন।

অপরদিকে, সিএসইতে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৪৮৪ পয়েন্ট। এদিন লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকার তুলনায় অনেক বেশি।

বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরলেও হুজুগে বিনিয়োগ না করে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা উচিত। সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে শেয়ারবাজারের ইতিবাচক ধারা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/১৬ ফেব্রুয়ারি/আরজেড)

google news ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন
শীর্ষ খবর সর্বশেষ জনপ্রিয়
সব খবর
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নেতাকর্মীদের অন্যায় না করার শপথ করালেন ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ
হঠাৎ অসুস্থ জ্বালানিমন্ত্রী টুকু, সিসিইউতে ভর্তি
আওয়ামী সরকারের আমলে জ্বালানি খাতের দুর্নীতির মাশুল এখন দিচ্ছে জনগণ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
পূবাইলে ফজলুল হক মিলনকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবিতে দোয়া মাহফিল
বিশেষ প্রতিবেদন তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা