টাঙ্গাইলে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে স্ত্রী সেলিনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যা মামলায় স্বামী আব্দুল গফুরকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল গফুর (৪২) আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি ঘাটাইল উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের মৃত কানছু শেখের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ৩০ বছর আগে ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই গ্রামের সেলিনা খাতুনের সঙ্গে আব্দুল গফুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বনিবনার ঘাটতি দেখা দেয়। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় সেলিনা খাতুন নিখোঁজ হলে পরদিন বিকেলে মাকড়াই এলাকার একটি জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় নিহত সেলিনার ভাই আব্দুল মান্নান ২২ নভেম্বর ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ আব্দুল গফুরকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক বিরোধের জেরে গফুর স্ত্রীকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করেছে বলে জানা যায়। তদন্তের একপর্যায়ে গফুর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) শফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, সেলিনা হত্যার তিন মাস আগে স্বামী গফুরের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের মামলা দায়ের করেন স্ত্রী সেলিনা। সেটি মীমাংসার উদ্দেশ্যে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান তিনি। বিকেলে সেখান থেকে ফেরার পথে গফুর মামলা তুলে নিতে স্ত্রীকে চাপ দেয়। সেলিনা এতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যায় গফুর। সেখানে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যু নিশ্চিত করে স্ত্রী সেলিনার লাশ পার্শ্ববর্তী ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায় গফুর। পরদিন ২১ নভেম্বর বিকেলে মাকড়াই গ্রামের ইমান আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে জঙ্গল থেকে সেলিনার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সেলিনার ভাই মো. আবদুল মান্নান বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ পরে আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার এসআই সাজ্জাদ হোসেন ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটির বিচারকাজে আদালত মোট ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত রবিবার এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর গফুরকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
(ঢাকা টাইমস/২৪আগস্ট/এসএ)
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































