সেই ওসমান গণির ১২ বছরের কারাদণ্ড বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৭:০৫
ফাইল ছবি

বনখেকো হিসেবে আলোচিত সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক ওসমান গণিকে দেয়া ১২ বছরের কারাদণ্ডের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার বিচারপতি ইমান আলীর নেতৃত্বে তিন বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ওসমান গনির করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় চাকরিচ্যুত এ সরকারি কর্মকর্তার সাজা বহল থাকলো।

আপিল আদালতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন মো. খুরশীদ আলম খান। ওসমান গণির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিন।

খুরশীদ আলম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, সাজা খাটা শেষ হওয়ায় ২০১৬ সালে ওসমান গণি কারাগার থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তার যে সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, সেগুলো বাজেয়াপ্তই থাকবে এবং তার জরিমানাও বহাল রয়েছে।  

আদালত সূত্র জানায়, ভালো আচরণের কারণে দণ্ড রেয়াত পেয়ে মুক্তি পান ওসমান গণি।
সাজা খাটার পরও তিনি কেন আপিল করেছিলেন জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী ঢাকাটাইমসকে বলেন, সরকারি সুযোগণ্ডসুবিধা আছে, সম্পদ বাজেয়াপ্ত রয়েছে। এজন্য তিনি রায় চ্যালেঞ্জ করেছিলেন বলে তিনি মনে করেন।  

আসামিপক্ষের আইনজীবী এ এম আমিন উদ্দিনও সাংবাদিকদের জানান, বিচারিক আদালতের দেওয়া ১২ বছরের সাজা খাটা শেষ করে অনেক আগেই বের হয়ে গেছেন ওসমান গণি।

সেনানিয়ন্ত্রিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যে ২০০৭ সালের ২৯ মে ওসমান গণির উত্তরার বাসায় অভিযান চালান যৌথবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৬০০ টাকা, ১ হাজার ৩০০ ডলার, ৩ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিট ও প্রচুর স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। ওই বছরের ২৬ জুলাই দুদকের উপণ্ডপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী উত্তরা থানায় মামলাটি করেন। ওসমান গণি তার ঘোষিত আয়ের বাইরে ৪ কোটি ৯৬ লাখ ৮১ হাজার ৪৬৪ টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া কমিশনে দাখিল করা সম্পত্তির হিসাব বিবরণীতে এক কোটি দুই লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পত্তির তথ্য গোপন করেছেন। জরুরি অবস্থার মধ্যে ওই বছরই দুদক এ মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। ২০০৮ সালের ৫ জুন ঢাকার বিশেষ জজণ্ড১০ এ কে এম আরিফুর রহমানের আদালত দুর্নীতির দায়ে গণিকে ১২ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেন। আর স্বামীকে ‘দুর্নীতিতে সহযোগিতা’ করার দায়ে ওসমান গণির স্ত্রী মহসিন আরা গণিকে তিন বছরের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে গণি আপিল করলেও বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর খারিজ করে দেন। ফলে গণির সাজার রায়ই বহাল থাকে। হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের আবেদন) করেছিলেন ওসমান গণি। সেই আবেদনও খারিজ হয়ে গেল।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/এআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত