গাড়লে গড়ল ভাগ্য

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৭ | প্রকাশিত : ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:৩৪

‘গাড়ল’ শব্দটি দেশে গোঁয়ার অর্থে বেশি পরিচিত। তবে বেনাপোল অঞ্চলে পশুপ্রেমী মানুষের কাছে এটি এখন অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক। প্রকৌশলী মেহেদি হাসানের সফলতায় এখন এই গাড়লের পেছনে ছুটছেন এলাকার যুবকরা।

মেহেদি হাসান কম্পিউটার প্রকৌশলী। দেশের শিক্ষিত বেকার যুবকরা যখন চাকরির পেছনে ছুটে জীবনকে করে তুলেছেন অভিশপ্ত, তখন প্রকৌশলী মেহেদী আধুনিক বিশ্বের চালক কম্পিউটার ছেড়ে ধরলেন গাড়ল। তাতে তিনি যে ভুল করেননি, এর প্রমাণ তার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠা।   

মেহেদী উন্নত জাতের গাড়ল ও ভেড়া পালন করে এখন প্রতিষ্ঠিত খামারি। গাড়ল দেখতে অনেকটা ভেড়ার মতো হলেও আকারে সাধারণ ভেড়ার চেয়ে বেশ বড়। প্রতিটি গাড়ল থেকে ৬০-৭০ কেজি মাংস পাওয়া যায়। ভেড়া বা ছাগলের চেয়ে গাড়লের মাংস অনেক বেশি সুস্বাদু বলে জানান মেহেদী হাসান ।

তরুণ মেহেদীর মাথায় গাড়ল চাষের ভাবনা আসে ভারতের রাজ¯হান প্রদেশ ঘুরতে গিয়ে। এরপর তিনি স্বপ্ন দেখেন কীভাবে গাড়ল চাষ করে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ভারত থেকে নিয়ে আসেন দুটি গাড়লের বাচ্চা। তারপর মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করেন আরও কিছু বাচ্চা। বর্তমানে তার খামারে  ৬৫টি পূর্ণবয়ষ্ক গাড়ল আছে, যার প্রতিটির দাম ১৫ হাজার টাকা। বেনাপোলের শিকড়ী গ্রামের মেহেদী তার নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছেন ভেড়া ও গাড়লের খামার।

বেনাপোল বাজার থেকে দক্ষিণে ২ কিলোমিটার দূরে শিকড়ী গ্রামে মেহেদীর খামার। তার বাবা মো. আব্দুল কাদের স্বপ্ন দেখতে একমাত্র ছেলে প্রকৌশল খাতে ক্যারিয়ার গড়বেন। কিন্তু উচ্চশিক্ষিত ছেলে চাকরি ছেড়ে ঝুঁকলেন গাড়ল পালনে। প্রথম দিকে কিছুটা হতাশ ছিলেন বাবা। এখন ছেলের সফলতায় খুশি তিনি।

আব্দুল কাদের বলেন, বিভিন্ন এলেকা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ আসে মেহেদীর গাড়ল খামার দেখতে। তার দেখাদেখি এলাকার যুবকরা আগ্রহী হচ্ছে গাড়ল পালনে। এটা ভাবতে তার ভারেঅ লাগে।

গাড়ল লালন-পালন অত্যন্ত সহজ বলে জানান মেহেদীর বাবা। এরা যেকোনো পরিবেশে জীবন যাপন করতে পারে, রোগব্যাধি খুবই কম। বাজারে গাড়লের চাহিদা অনেক। একটি তিন-চার মাস বয়সী গাড়লের দাম ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা।

বেনাপোল বাজারের পশু ডাক্তার ইমরান হোসেন বলেন, বছরে চারবার কৃমিনাশক বড়ি আর দুবার পিপিআর টিকা দিলে খামার রোগমুক্ত থাকে। এ ছাড়া উপজেলা পশুসম্পদ অফিস থেকে বিনা মূল্যে টিকা দেয়া হয়।

মেহেদীর খামারে বর্তামানে সার্বক্ষণিক দুজন শ্রমিক কাজ করেন। গাড়লের প্রধান খাবার ঘাস ও লতাপাতা। এ ছাড়া খড় ও ভুসি খায় ভেড়াজাতীয় এই প্রাণী। আগামী কোরবানি মৌসুমে খামারটি থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আসবে বলে আশা করছেন প্রকৌশলী মেহেদী।

শার্শা উপজেলা মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জয়দেব কুমার সিংহ জানান, গাড়ল লালন-পালন করা অত্যন্ত সহজ এবং লাভজনক। ঘাস, লতাপাতা, খড়-ভুসি খেয়ে গাড়ল দীর্ঘদিন বাঁচতে পারে।

(ঢাকাটাইমস/২২জানুয়ারি/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত