ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবি-গ্রামবাসী সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু

ঠাকুরগাও প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১৯:৪৩

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে গরু জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি-গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কমিটি।

শনিবার বিকাল ৫টার সময় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুর কুতুবুল আলম। কমিটির অন্য ছয় সদস্য হলেন পীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ঠাকুরগাঁও সেক্টর সদর দপ্তর বিজিবি’র সহকারী পরিচালক, ঠাকুরগাঁও পাবলিক প্রসিকিউটর, হরিপুর থানার ওসি, স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

এর আগে নিহতদের লাশ পরিবারের হস্তান্তর করার পর ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। তদন্ত কমিটি তিন দিনের মধ্য তদন্ত শেষ করে তার প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেবে। পাশাপাশি নিহতদের লাশ দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা নিহতদের পরিবারকে প্রদান করেন। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, ঘটনাস্থলের চারপাশ পরিদর্শন করেছে কমিটি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এক এক করে গ্রহণ করা হবে।

কমিটির প্রধান বলেন, সংঘর্ষে নিহত ও আহতদের পরিবারের মধ্যে যারা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তাদের সাক্ষ্য প্রথমে এবং এলাকার লোকজন যারা ঘটনা দেখেছেন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। ঘটনাস্থলে সাক্ষ্য প্রদানে আগ্রহীদের তালিকায় নাম লেখানোর জন্য আহ্বান করেন তিনি। 

তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে পরিদর্শনের সময় কমিটির সদস্য হরিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এমজে আরিফ বেগ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাবিবুল আলম, হরিপুর থানার ওসি আমিরুজ্জামানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। 

স্বাক্ষ্য গ্রহণের প্রথম দিনে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য প্রদানে রাজি হন আটজন এবং তারা সাক্ষ্য দেন, যা কাগজে লিপিবদ্ধ করা হয়। এছাড়াও যারা গোপনে সাক্ষ্য প্রদানে ইচ্ছুক তাদের সাক্ষ্য গোপনে নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

এদিকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিজিবি’র প্রায় ১৫০ জন সদস্য মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে এসে হরিপুরের বহরমপুর গ্রামের হবিবর রহমান ও জসিমকে ক্যাম্পে নিয়ে যান। তাদেরকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুনরায় গ্রামে দিয়ে যায় বিজিবি’র সদস্যরা। 

হবিবর রহমান জানান, দুপুরে হঠাৎ বিজিবি এলাকায় প্রবেশ করে আমাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। ক্যাম্পে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা শেষে আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে যায়।

ঘটনার পর পুনরায় বিজিবি’র সদস্য মোটরসাইকেল ও গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করে টহল দেয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছে এলাকার লোকজন। তাদের দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হতে দেয়ার জন্য বিজিবি’র সদস্য দলবেঁধে এসে এলাকার লোকজনকে ক্যাম্পে নিয়ে যাচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রামে দিয়ে যাচ্ছেন। বিজিবির লোকজন যেন ওই গ্রামে না প্রবেশ করে এবং এলাকার লোকজনকে বিনা কারণে ক্যাম্পে ধরে না নিয়ে যায় এ জন্য জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামে গরু জব্দ করাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্য এবং গ্রামবাসীর সংঘষে স্কুল পড়ুয়া ছাত্র, শিক্ষকসহ তিনজন নিহত হয় এবং এ ঘটনায় আহত হন ১৫ জন। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় বিজিবি বাদী হয়ে নিহতরাসহ প্রায় ২৫০ জনের বেশি গ্রামবাসীকে আসামি করে হরিপুর থানায় একটি মামলা করেছেন।

(ঢাকাটাইমস/১৬ফেব্রুয়ারি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :