সরকার এত টাকা নিলে বিনিয়োগ কমে যাবে: এফবিসিসিআই

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ জুন ২০১৯, ১৮:১৮ | প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৯, ১৭:০৩

বাজেট ঘাটতি মোকাবেলায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার বড় অংকের ঋণ নেয়ার যে পরিকল্পনা করেছে, তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে এফবিসিসিআই। ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি বলছে, ৪৭ হাজার কোটি টাকা সরকার নিয়ে গেলে বেসরকারি বিনিয়োগে ঘাটতি দেখা দেবে।

আগামী অর্থবছরের জন্য বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর শুক্রবার প্রতিক্রিয়া জানায় এফবিসিসিআই।

পাঁচ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকার বাজেটে এবার ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। এই ঘাটতি পূরণে সরকার ২৭ হাজার কোটি টাকা নেবে সঞ্চয়পত্র থেকে, ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। বাকি ৭১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে বিদেশি ঋণ ও অনুদান থেকে।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘সরকার ব্যাংক থেকে ৪৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিলে ব্যাংকগুলোর বেসরকরি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে।’

বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের উপর নির্ভলশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস, ইনফ্রাকচার ফান্ডস, ইনফ্রাকচার বন্ডস ও অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল টুলস এর উপর জোর দেয়ার অনুরোধও করেন ফাহিম।

সার্বিকভাবে প্রস্তাবিত বাজেটকে যুগোপযোগী, জনকল্যাণমুখী ও ব্যবসা সহায়ক বলে অভিহিত করে এফবিসিসিআই।  ব্যবসা বান্ধব বলার কারণ হিসেবে এফবিসিসিআইর এর সহ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতের বাজেটগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে এই বাজেটে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যবসার সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা থাকলেও তা আলোচনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ এখনও আছে।’

 

সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, এই বাজেট দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে ত্বরান্বিত করবে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অপ্রদর্শিত আয় বা কালোটাকার বিনিয়োগের সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবকেও তিনি সমর্থন করেন। তবে অবৈধ পথে উপার্জিত আয় যেন বিনিয়োগ না হয়, সে দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘কালো টাকা মানে যারা বৈধপথে আয় করেছে; কিন্তু কোনো কারণে কর পরিশোধ করেননি। ওইসব অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে আমরা। এটি সুযোগ থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে। তবে অবৈধ পথে আয় করা অর্থের বিনিয়োগের পক্ষে আমরা নেই।’

 

যুব সমাজকে উদ্যোক্তা বানাতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধীসহ বিভিন্ন সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সুবিধা বৃদ্ধিরও প্রশংসা করেন ফাহিম। বলেন, ‘১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী জনশক্তির বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর রেয়াত সুবিধা সামাজিক দায়িত্বশীলতার চর্চাকে উৎসাহিত করবে।’

২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা শিল্পখাতের বিকাশকে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করেন এফবিসিসিআই প্রধান। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, গবেষণা ও উন্নয়ন, উদ্ভাবন, আইসিটি, অবকাঠামো, আর্থ-সামাজিক, দারিদ্র্য বিমোচন, মানবসম্পদ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় এবারের বাজেট যুগোপযোগী হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ব্যবসায়ীদের আরো বিভিন্ন সংগঠন এক সঙ্গে বসে একটি মতামত তৈরি করবে। আর তার আলোকে একটি প্রস্তাবনা পরে অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনো রকম হয়রানি না থাকা, ভোক্তা পর্যায়ে কোনো খরচ বৃদ্ধি না পাওয়া নিশ্চিত করা, ব্যবসা সহজীকরণ নিশ্চিত করা এবং ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে এফবিসিসিআই-এর অধিভূক্ত সব বাণিজ্যিক সংগঠন সহায়তা করবে উল্লেখ করে বলা হয়, ‘এতে করের আওতা বৃদ্ধি পাবে।’

তিন লক্ষ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার কথা উল্লেখ করে হয়রানিমুক্ত রাজস্ব আহরণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করারও তাগিদ দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে।

(ঢাকাটাইমস/১৫জুন/জেআর/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :