বগুড়ায় ফখরুলের আসনে আজ শতভাগ ইভিএমে ভোট

বগুড়া প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ জুন ২০১৯, ২৩:৫৮

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ না নেওয়ায় শূন্য হওয়া বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে আজ ভোট নেওয়া হবে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ১৪১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলবে। ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে ভোটগ্রহণের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১২টার পর থেকে এই আসনের ১৪১টি কেন্দ্রে ইভিএম সামগ্রী পাঠানো হয়।

তিন লাখ ৮৭ হাজার ৪৫৮ জন ভোটারের বগুড়া-৬ আসনে ১৪১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১১১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভোটকেন্দ্রে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা।

বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুব আলম শাহ ঢাকা টাইমসকে জানান, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য ১৪১ জন প্রিসাইডিং অফিসারসহ ৩০৩৬ জন নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ভোটারদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেজন্য কয়েক দিন ধরে তাদের পরীক্ষামূলক দেখানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ইভিএমে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের টি জামান নিকেতা (নৌকা) ও বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের (ধানের শীষ) মধ্যে। তবে জোটভুক্ত দল হিসেবে জাতীয় পার্টিও লড়াইয়ের একটি অংশে থাকছে। অন্য প্রার্থীরা হলেন জাতীয় পার্টির নুরুল ইসলাম ওমর (লাঙ্গল), মুসলিম লীগের রফিকুল ইসলাম (হারিকেন), বাংলাদেশের কংগ্রেসের মুনসুর রহমান (ডাব) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিনহাজ মণ্ডল (আপেল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

বরাবর ধানের শীষের দখলে থাকা আসনটি রক্ষা করা এখন বিএনপির জন্য ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া বিজয়ের মধ্যে বিএনপি যে ছয়টি আসন পায় এর মধ্যে এই আসনটিও রয়েছে। কিন্তু এই সংসদ ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়’ দাবি করে তাতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে শপথ নেননি মির্জা ফখরুল, যিনি বগুড়া  সদর আসনে জয়লাভ করেন। তবে ইতিমধ্যে দলের অন্য সাংসদরা শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিয়েছেন। এই আসনে বিএনপি থেকে সচরাচর দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রার্থী হয়ে থাকেন। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় সাজা পেয়ে কারাগারে থাকায় ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এই উপনির্বাচনে তাদের জোটকে বাদ দিয়ে নিজেদের প্রার্থী দেওয়ায় তাদের জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এমনকি দলের বড় কোনো নেতাও প্রার্থী না হওয়ায় আসনটি দখলে নেওয়ার সুযোগ দেখছে ক্ষমতাসীনরা।

বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনের বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন- দুই দফা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থতা আর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হতাশা জেঁকে বসেছে বিএনপিতে। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে কবে মুক্তি পাবেন, এই বিষয়টি অনিশ্চিত। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাও নিশ্চিত নয়। এই অবস্থায় বিএনপির এই ঘাঁটি কতটা ধরে রাখতে পারবেন এ নিয়ে সংশয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তবে শেষমেশ এখানে ধানের শীষ জিতবে বলে আশাবাদী তারা।

এদিকে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের মৃত্যুর পর কিছুটা শূন্যতা সৃষ্টি হয় স্থানীয় দলে। শেষ পর্যন্ত সংকট কাটিয়ে নির্বাচনমুখী হয়ে মাঠে থাকে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তারা সাধারণ ভোটারদের মন জয় করে ভোটের মাঠে জিততে চান।

বগুড়ার অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে এই উপনির্বাচনে। রাজনৈতিক মামলা ও বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলটির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা হয় কারাগারে নয়তো আত্মগোপনে। তবে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা গোপনে ঠিকই চলেছে।

(ঢাকাটাইমস/২৪জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :