১৫ আগস্টের কিছু ঘটনা

মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু
| আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৪৩ | প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট ২০১৯, ১০:১৮
ছবি: সাক্ষাতকার নেয়ার সময় লেখক ও জেনারেল শফিউল্লা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। এই সশস্ত্র যুদ্ধ বছর বছর ধরে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সুবর্ণ ফল। যার একক নেতৃত্বের কারণে সব রাজনৈতিক কর্মকা-ের রূপান্তর ঘটেছিল, যার একক নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়, তার প্রধান সূত্রধর ও মধ্যমণি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই মহান নেতার রাজনৈতিক অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। এই সত্য ও বাস্তবতা বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও স্থায়িত্বের স্বার্থে দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে স্বীকার করে নিতে হবে।

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে শোকের দিন। এই দিনে বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালিত্বের চেতনা তথা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারী চক্র বাঙালির শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকার, জাতির হাজার বছরের সংগ্রাম ও সাধনার সূত্রধর, বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার শিশুপুত্র রাসেলসহ সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে। খুনিরা বাঙালি জাতির ললাটে এঁকে দেয় অমোচনীয় কলঙ্কতিলক যা জাতির জন্য চিরদিন লজ্জা ও কষ্টের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে।

বঙ্গবন্ধু ২৪ বছরের পাকিস্তান আমলে ১২ বছর কাটিয়েছেন জেলে। কারারুদ্ধ হয়েছেন নয়বার। ১৮ মিথ্যা মামলা ও দুবার ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসেছেন। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তাকে ইতিহাস থেকে নির্বাসন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা ছিল সীমাহীন ধৃষ্ঠতার পরিচয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি যমজ শব্দ। একটিকে বাদ দিয়ে অপরটির কথা কল্পনা করা যায় না। তিনি বাংলাদেশের স্থপতি। এই সত্য যারা অস্বীকার করে তারা হলো স্বাধীনতা যুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি। এরাই সেদিন পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার জন্য বাঙালি হয়ে বাঙালিকে হত্যা করেছে। এরাই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পরে বঙ্গবন্ধুর অনুসৃত বাঙালি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে নস্যাৎ করার লক্ষ্যে আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরা এই আদর্শের বিরোধিতা আগাগোড়াই করে আসছে। এসব প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির কারণেই এই মহান নেতার মরদেহ রাজধানী ঢাকায় সমাহিত না করে করা হয়েছিল টুঙ্গিপাড়ায়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শনের রূপকে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে দেওয়া হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধকে ধ্বংস করা হয়।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরিকল্পনা যারা করেছিলেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন হলেন মেজর ডালিম, যিনি সামরিক বাহিনীর আইন ভঙ্গের কারণে মেজর পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। তবে চাকরি হারালেও মেজর ডালিমের অবাধ যাতায়াত ছিল বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বর বাসভবনে।

বাসার দোতলার সিঁড়ি বেয়ে উপরে যে কেউ যেতে পারে না। পারে শুধু পরিবারের সদস্য ও অত্যন্ত নিকটতম আত্বীয়স্বজন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো বঙ্গবন্ধু ডালিমকে খুব স্নেহ ও বিশ্বাস করতেন। পরিবারের কেউ না হওয়া সত্ত্বেও তিনি তরতর করে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যেতেন। কারণ উপরে যাওয়ার অনুমতি তিনি পেয়েছিলেন। কথায় বলে ঘরের শত্রু বিভীষণ। হয়েছেও তাই। বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে ডালিম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞ নিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান কে এম সফিউল্লাহকে অনেকেই দায়ী করে থাকেন। ওই সময় তিনি তার দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। কথাটা সত্য হলেও এর পেছনে অবশ্যই বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সামরিক বাহিনীর সিনিয়রিটি অনুযায়ী এ সময় জিয়াউর রহমানের সেনাবাহিনী প্রধান হওয়ার কথা। কিন্তু জেনারেল ওসমানীর পরামর্শে জিয়াকে সেনাপ্রধান না করে সফিউল্লাকে করা হয়েছিল। কিন্তু কেন?

১৯৮৭ সালে কে এম সফিউল্লাহ স্টকহোমে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত থাকালীন আমার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জিয়া একসময় জেনারেল ওসমানীকে কমান্ডিং চিফ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেন। এ ব্যাপারে তিনি (ওসমানী) আমাকে বলেন, জেনারেল ওসমানী নাকি পুরাতন (বৃদ্ধ ) হয়ে গেছেন। সুতরাং ইয়ংদের মাঝ থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। আমি এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ করি এবং এ ব্যাপারে আমার সাথে তাকে আর কোনো কথা না বলার জন্য বলি। মুক্তিযুদ্ধকালীন এমন আরো অনেক ঘটনা আছে যা প্রমাণ করে তিনি একজন উচ্চাকাক্সক্ষী ক্ষমতালোভী ব্যক্তি ছিলেন।”

তাহলে কি এই কারণেই জিয়াকে সেনাপ্রধান না বানিয়ে সফিউল্লাহকে করা হয়েছিল? এ ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সিনিয়রদের রেখে আমাকে কেন চিফ অব স্টাফ বানানো হলো আমি নিজেই বলতে পারব না। তবে আমাকে যেদিন নাকি জেনারেল ওসমানী দায়িত্বভার নেয়ার জন্য ডেকেছিলেন তখন আমি বলেছিলাম, আমি কেন? অন্যরা কোথায়?

“তখন তিনি আমাকে বললেন অন্যরা কারা? আমি বললাম কর্নেল রেজা কোথায়? তিনি বললেন কর্নেল রেজা রিজাইন করেছে। তারপর বললাম দত্তর কথা। তিনি বললেন, ‘ডু ইউ থিঙ্ক হি ইজ কেপেবল?’ এর কোনো উত্তর না দিয়ে আমি তখন জিয়ার কথা বললাম। উনি তখন রেগে গিয়ে বললেন, ‘ইউ আর আর্গুইং। গেট আউট ফ্রম মাই অফিস’।

“আমি তখন অফিস থেকে বেরিয়ে গিয়ে জেনারেল রবের সাথে আলাপ করি। তখন তিনি আমাকে বললেন এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। তখন আমি বললাম তিনি তো নিজেই থাকতে পারেন। জেনারেল রব বললেন, ৭ এপ্রিল ওসমানী সাহেব সামরিক বাহিনী ছেড়ে জাতীয় সংসদে যোগ দিচ্ছেন।”

সফিউল্লাহর দেওয়া উপরোক্ত সাক্ষাৎকার ও জিয়াউর রহমানের পরবর্তী কার্যকলাপ প্রমাণ করেছে সেদিন কেন তাকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হয়নি। তার মানে সফিউল্লাহকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে। একমাত্র এই কারণেই জিয়াকে ডিঙিয়ে তাকে করা হয়েছিল সেনাবাহিনী-প্রধান। কিন্তু তার প্রতিদান দিতে তিনি সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন বলা যেতে পারে।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আর্মির যে ট্রুপস পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল তাদের কৌশলে রশিদ-ফারুক-ডালিম চক্র আগের দিন পরিবর্তন করে নিজেদের অনুগত সিপাইদের নিয়োজিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সামরিক বাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগের চোখের আড়ালে এ কী করে সম্ভব হলো? তাহলে কি তারাও জড়িত ছিল? এই সময় সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের কি ভূমিকা ছিল? কে ছিলেন গোয়েন্দা-প্রধান?

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে যখন খুনিরা আক্রমণ করে তখন বাসায় পাহারারত সিপাইরা তেমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি। একমাত্র পুলিশ করেছে। ফলে সহজেই খুনিরা বাড়ির ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পায়। একমাত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল কিছুটা বাধার সৃষ্টি করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

১৪ আগস্ট বিকালে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গণভবনে এসেছিলেন তাহের উদ্দিন ঠাকুর। বঙ্গবন্ধু তাহের উদ্দিন ঠাকুরকে সাংবাদিক ঠাকুর বলে সম্মোধন করতেন। এই সময় তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় তথ্য ও বেতার প্রতিমন্ত্রী।

আমি তো বলব সাংবাদিক নয় তাহের উদ্দিন ঠাকুর ছিলেন সাংঘাতিক ঠাকুর। কী ভয়ংকর ব্যক্তি এই ঠাকুর! সন্ধ্যার ঠিক আগে বঙ্গবন্ধু পায়ে হেঁটে হেঁটে যখন গণভবনে তার বাগানে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন তখন তাহের উদ্দিন ঠাকুরও ছিলেন সাথে। হত্যার সব পরিকল্পনা শেষ করে এখন সাংঘাতিক ঠাকুর এসেছেন বঙ্গবন্ধুর সাথে শেষ সাক্ষাৎ করতে। বিশ্বাসঘাতকতার শেষ নেই। তবে সেদিন তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে কী কথা বলেছিলেন তা আজও অজানা রয়ে গেল। আমার বাবা আলী মেহেদী খান দূর থেকে এই দৃশ্য অবলোকন করেছেন বলেই আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি।

১৫ আগস্ট প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে জেনারেল সফিউল্লাহ বলেন, “১৫ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৫-৩০ মিনিটে আমার ডিএমআই সালাউদ্দিন এসে বলেন, ‘স্যার আপনি কি ট্যাঙ্ক ও আর্টিলারিকে শহরে মুভ করার নির্দেশ দিয়েছেন?’ আমি বললাম, না। তিনি বললেন, কিন্তু তারা ইতিমধ্যে রেডিও স্টেশন ও শেখ মুজিবের বাসভবনের দিকে অগ্রসর হয়েছে। আমি বললাম, স্টপ দেম। শাফায়েত জামিল কোথায়? এই বলে সাথে সাথে আমি শাফায়েত জামিলকে ফোন করি। কারণ তিনি ছিলেন ঢাকার ব্রিগেড কমান্ডার। তাকে বললাম, ‘আপনি কি জানেন কী হচ্ছে?’ তিনি বললেন, ‘কী ব্যাপার স্যার?’ আর্টিলারি নাকি মুভ করেছে? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না, স্যার।’ আমি বললাম, আপনি যখন জানেন না তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একে বন্ধ করুন। ফার্স্ট সেকেন্ড ও ফোর্থ বেঙ্গলকে যাওয়ার জন্য বলুন।’

“তারপর আমি বঙ্গবন্ধুকে ফোন করি। উনার ফোন এনগেজ পাই। এই সময় আমি নেভেল চিফ খান ও এয়ার চিফ খন্দকার সাহেবের সঙ্গে কথা বলি। ওনারা এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে বললেন। তারপর জিয়াকে ফোন করি। বলি আর্মির মধ্যে কী কিছু হচ্ছে? আপনি কি কিছু জানেন? তিনি আমার কথা শুনে বললেন তাই নাকি? আমি ওনাকে আমার এখানে আসতে বললাম।

“এরপর আমি খালেদ মোশারফকে ফোন করলে তিনি বললেন তিনিও কিছু জানেন না। পরে আমি শাফায়েত জামিলকে ফোন করলাম। কিন্তু কোনো জবাব পাইনি। এমন করতে করতে বেশ কয়েক মিনিট পার হয়ে গেল। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে টেলিফোনে লাইন পাই। তিনি আমাকে বললেন, ‘সফিউল্লাহ! আমার বাড়ি আক্রমণ করেছে। কামালকে মনে হয় মেরেই ফেলেছে। তুমি ফোর্স পাঠাও।’ আমি ওনাকে তখন শুধু এতটুকুই বলতে পেরেছি, ‘স্যার, কেন ইউ গেট আউট? আই এম ডুইং সামথিং।’ ব্যস তখনি শুনতে পেলাম টেলিফোনে গুলির আওয়াজ। আর এটাই ছিল ওনার সাথে আমার শেষ কথা।”

পরবর্তী ঘটনা কী জানতে চাইলে জেনারেল সফিউল্লাহ বলেন, ‘বিশ-পঁচিশ মিনিট পর জিয়া সম্পূর্ণ সামরিক পোশাকে অফিসিয়াল কারে আমার বাসায় আসেন, যা নাকি ড্রাইভ করছিল তার অফিসিয়াল ড্রাইভার। অন্যদিকে খালেদ মোশারফ সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় তার প্রাইভেট কারে পায়জামা ও সেন্ডেল পরে আমার এখানে আসেন। এই সময় আমার পরনেও ছিল পায়জামা।

“এখানে দেরি না করে অফিসে গেলাম। গিয়ে দেখি আমার অফিস টেঙ্ক দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই সময় আমি চেষ্টা করছিলাম শাফায়েত জামিল বাহিনীর কী হলো তা বের করার জন্য। জিয়া তখন আমাকে বললেন, এ ব্যাপারে আমি যেন খালেদ মোশারফকে না পাঠাই। তবুও আমি খালেদকে পাঠাই। খালেদ ওখানে গিয়ে বলেন, ‘স্যার, ওরা তো আমাকে আসতে দিচ্ছে না।’ আমি বললাম, তারা কারা? এখানে আমাকে কিছু বলতে দিচ্ছে না আসতেও দিচ্ছে না। আই ডোন্ট কেয়ার। ইউ কম এলোন। তারপর তিনি বললেন, ‘ওকে দে আর অ্যালাউ মি ফর ফিফটিন মিনিটস।’ কিছু সময়ের মধ্যে খালেদ মোশারফ এলেন এবং বললেন, ‘বঙ্গবন্ধু ইজ ডেড অ্যান্ড ফুল আর্মি হ্যাজ রিভলটেড অ্যান্ড এন্টায়ার আর্মি হ্যাজ সেলিব্রেটেড।’ আমি বললাম, আই ডোন্ট টেক ইট।”

এখানে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে সফিউল্লাহ বলেন, “জিয়াকে দেখে মনে হচ্ছিল তিনি সবকিছুতেই রেডি ছিলেন। তাই হয়তো তিনি ১৫ আগস্ট এত সকালে সম্পূর্ণ সামরিক পোশাকে ফিটফাট এমনকি ক্লিন শেভ অবস্থায় প্রস্তুত ছিলেন। তাই আমার মনে প্রশ্ন জাগল তাহলে কি তিনি কারো আদেশের অপেক্ষা করছিলেন?”

তার মানে কি আপনি বলতে চান যে ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের খবর জিয়াউর রহমান আগে থেকেই অনুমান করতে পেরেছিলেন? উত্তরে জেনারেল সফিউল্লাহ বলেন, “শুধু অনুমানই নয়, তিনি সবকিছুই জানতেন বলে আমি মনে করি।”

সমালোচকেরা বলেন, সেনাবাহিনী-প্রধান হিসেবে এখানে জেনারেল সফিউল্লাহ বঙ্গবন্ধুকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আছে এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে যে আস্থার ওপর নির্ভর করে তাকে সেনাবাহিনী-প্রধান করা হয়েছিল সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আসতে পারে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রমাণ করে সফিউল্লাহ এখানে কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানে খালেদ মোশাররফ কিংবা সমতুল্য অন্য কাউকে (জিয়া নয়) সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দিলে হয়তো বা এমন ঘটনা নাও ঘটতে পারত।
অন্যদিকে এ কথা সত্য যে কে এম সফিউল্লাহ আসলেই বঙ্গবন্ধুর বিশস্ত অনুগত ও নেতৃত্বে বিশ্বাসী একজন ব্যক্তি। আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্ব তাকে অবহেলা করলেও তিনি ড. কামাল, কাদের সিদ্দিকীর মতো আওয়ামী লীগ ছেড়ে যাননি। এখনো এই বয়সে সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন।

লেখক: সুইডেনের স্টকহোম হেঁসেলবি ভেলেংবি লোকাল বোর্ডে লেফট পার্টির গ্রুপ লিডার ও গ্রেটার স্টকহোম অ্যাসেম্বলির কালচারাল কমিটির সদস্য।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :