‘আ.লীগের পরিকল্পনায় গ্রেনেড হামলা’, বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত দাবি রিজভীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ১৯:২৭ | প্রকাশিত : ২১ আগস্ট ২০১৯, ১৬:৩১

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের জনসভায় গ্রেনেড হামলা আওয়ামী লীগেরই পরিকল্পনা বলে জনমনে প্রশ্ন আছে বলে জেনেছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী। এই ঘটনা নিয়ে ‘বস্তুনিষ্ঠ’ তদন্তও চেয়েছেন তিনি।

রক্তাক্ত এই হামলার ১৫ বছর পূর্তির দিন ক্ষমতাসীন দল যখন নানা কর্মসূচিতে নিহতদের স্মরণ করছে, সেদিন নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির মুখপাত্র এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

বিএনপি আমলে হামলা হয়েছে বলেই তাতে বিএনপির সম্পৃক্ততার প্রমাণ হয় না বলেও মনে করেন দলটির মুখপাত্র। বলেন, ‘যে কোনো সরকারের আমলেই নানা ষড়যন্ত্র হয়।’

‘আওয়ামী লীগের আমলে পিলখানা হত্যাকাণ্ড হয়েছে না? তাহলে সেজন্য কি আওয়ামী লীগ দায়ী? নাইন ইলেভেনের যে ঘটনা ঘটলো সেখানে তো কেউ বলেনি যে যারা সরকারে ছিল তাদের কারণে হয়েছে। বিশ্বব্যাপী কত ধরনের হানাহানি, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। এখন কোথা থেকে কী হয়েছে সেটা বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে।’

২১ আগস্ট হামলার তদন্ত নিয়ে বিএনপি শাসনামলে যা হয়েছে, তা পরে হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ‘জজ মিয়া উপাখ্যান’ এখন তদন্তে হস্তক্ষেপের উদাহরণ হয়ে গেছে।

তবে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা আওয়ামী লীগেরই ‘নীলনকশা’ কি না, এ নিয়ে জনমনে প্রশ্নও জেনেছেন রিজভী। আসামিদেরকে নির্যাত করে তারেক রহমানের নাম জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তার।

‘মনে হয়েছে এই ঘটনাটা টার্গেট করে নিয়ে যেতে হবে তারেক রহমানের দিকে। তাকে উদ্দেশ্যমূলক ফাঁসানোর জন্য তারা ক্ষমতায় এসে জোর করে আসামিদের পিটিয়ে হাতের নখ তুলে স্বীকারোক্তি আদায় করেছে। তারপরও কিন্তু তারা ম্যাজিস্টেটের কাছে বলেছে যে জোর করে টর্চার করে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। এরপর তো আর কোনো কথা থাকতে পারে না। এই বিভাজন, বিভেদ সন্ত্রাসের রাজনীতি তারাই সৃষ্টি করেছে। তাতে তো মনে হয় এ ঘটনা তাদেরই পরিকল্পিত ছিল কিনা সেটা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’ 

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সবকিছু তাদের (আওয়ামী লীগ) হাতের মুঠোয়। তারা যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। কিন্তু প্রকৃত সত্য ঘটনা সবাই জানে। এটা গভীর নীলনকশার অংশ। এই নীলনকশার সঙ্গে ক্ষমতাসীনরা জড়িত কিনা সেটাই আজ  সন্দেহ দেখা দিয়েছে।’

শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড ছুড়ে হত্যা চেষ্টার এই ঘটনার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। হামলার পর পুলিশ নেতা-কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে উল্টো লাঠিপেটা করে হামলাকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ আছে।

আবার তদন্তের নামে প্রধান অভিযুক্তদের বাঁচিয়ে নিরীহ জজ মিয়াকে ফাঁসানোর চেষ্টা ফাঁস হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। পরে অধিকতর তদন্তে আসামি হন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিণ্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন আসামি হন।

আওয়ামী লীগ শাসনামলে আরেক দফা অধিকতর তদন্তে আসামি হন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, দলটির সে সময়ের সংসদ সদ্য শাহ কাজী মোফাজ্জল হাসান কায়কোবাদসহ মোট ৫২ জন।

হামলার ১৪ বছর পর গত ১০ অক্টোবর দেওয়া রায়ে তারেক রহমান, কায়কোবাদসহ ১৮ জনের যাবজ্জীবন, বাবর, পিণ্টুসহ ১৯ জনের ফাঁসির আদেশ এসেছে। আরো ১১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে।

বিচার চলাকালে জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান জবানবন্দিতে জানান, এই হামলার পরিকল্পনা হয়েছে জোট সরকারের আমলে প্রভাবশালী হয়ে উঠা হাওয়া ভবনে। একাধিকবার বৈঠক হয়েছে তারেক রহমানের সঙ্গে এবং তিনি সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

তবে রিজভী বলেন, ‘অপরাধ করলে তারেক রহমান দেশ থেকে সরে যেতেন। কিন্তু তিনি তো দেশ থেকে কোথাও যাননি। খালেদা জিয়া শেষদিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তার যে সংগ্রাম এ সংগ্রাম হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার সংগ্রাম। এটা সম্পূর্ণ চক্রান্তের নীল নকশা মাস্টারপ্ল্যান করেছে তারা, যারা ক্ষমতাসীন।’ 

‘ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকার’

সরকার ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা লুকাচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম।’

‘অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল এবং হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে যারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয় না। বাস্তব ঘটনা হচ্ছে, সরকার ডেঙ্গু মহামারীতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করছে।’

ডেঙ্গু নিয়ে সরকারের প্রস্তুতির অভাব ছিল বলেও মনে করেন রিজভী। বলেনম ‘ডেঙ্গু মহামারিতে সারাদেশ আক্রান্ত হওয়ার পরও সরকারের উচ্ছ্বাস ও তামাশারও কোনো কমতি নেই। তাই আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের ফটোসেশনে কাজ হবে না, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’

বর্তমানে দেশে নৈরাজ্য বলছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। বলেন, ‘ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা যেন প্রতিদিনের ভয়াবহ সংবাদ পড়তে হচ্ছে মানুষকে। একেই বলে নৈরাজ্য। বর্তমানে আমরা অরাজকতার চরম লগ্নে এসে দাঁড়িয়েছি। বাংলাদেশে এখন ঘাতক ও মৃত্যুরই সহাবস্থান। ঊর্ধ্বতন আদালতও বলেছে, বিচার না হওয়ার কারণে অধরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ন্যায়বিচারও এদেশ থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকন, প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, সহ দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন, নির্বাহী সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২১আগস্ট/বিইউ/ডব্লিউবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :