তেঁতুলিয়া গেলে ডাক দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘা

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর
 | প্রকাশিত : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১০:১৪

দেশের সর্ব-উত্তরের জেলা পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয়কন্যা। ইতিহাস, ঐতিহ্যের পাশাপাশি নয়নাভিরাম অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শীতপ্রবণ উত্তরের এ জনপদ। এ জেলারই সীমান্তঘেঁষা তেঁতুলিয়া দেশের সর্বোত্তরের উপজেলা। এখান থেকে দেখা যায় বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা।

আসন্ন শীত মৌসুমের শুরুতে আকাশে তেমন মেঘ আর কুয়াশা না থাকায় উত্তরের এই সাদা পাহাড় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চোখের সীমানায় ভেসে থাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার দুর্লভ মায়াবী দৃশ্য যে কারোরই মন কেড়ে নেয়। এমন দৃশ্য দেখতে প্রতিবছরের মতো এবারও ভিড় করছেন প্রকৃতিপিয়াসী ভ্রামণিকরা।

জানা যায়, তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে খালি চোখেই দেখা মিলছে হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ঋতুবৈচিত্র্যের শীতের মেঘমুক্ত নীলাকাশে ভেসে ওঠে তুষারশুভ্র হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘা। পাহাড়ের বরফশুভ্র গায়ে সূর্যের আলো পড়লে চকচকে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত হিমালয় পর্বত ও কাঞ্চনজঙ্ঘার একাধিক রূপ দেখা যায়। এ দৃশ্য দেখার জন্য দুরবিন বা বাইনোকুলার সঙ্গে করে নিয়ে আসতে হবে না। দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকলে খালি চোখে দেখা যাবে অপরূপ দৃশ্য।

পঞ্চগড়ের রয়েছে হাজার বছরের গৌরব-গাথা ও প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্য। পর্যটনের সব উপাদান বর্তমান থাকায় ও উত্তরের শীতপ্রবণ এই জেলার অপরূপ সৌন্দর্যের কারণে দিন দিন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বাড়ছে পঞ্চগড়ের কদর। ফলে পঞ্চগড়কে পরিকল্পিত পর্যটন জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দাবি উঠেছে।

এছাড়াও দেখার মতো জায়গার মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ-ভারতের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সীমান্তনদী মহানন্দায় সূর্যাস্ত দর্শন, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, সমতল ভূমিতে গড়ে ওঠা চা বাগানসহ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য। আরও রয়েছে মোগল আমলের স্থাপত্য মির্জাপুর শাহী মসজিদ, বার আউলিয়ার মাজার, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান সীতার ৫১ পীঠের এক পীঠ বদেশ্বরী মন্দির, পাথরসমৃদ্ধ রকস মিউজিয়াম, প্রাচীন ডাকবাংলো, পিকনিক কর্নার, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেটের আনন্দ ধারা ও শিশুপার্ক।

পঞ্চগড় শহর থেকে তেঁতুলিয়া রওনা দেওয়ার কিছুক্ষণ পর রাস্তার দু’ধারে পাওয়া যাবে চা বাগান। রাস্তায় চোখে পড়বে আরও একটা জিনিস। এখানকার অনেক এলাকায় মাটি খুঁড়লেই পাওয়া যায় পাথর। তাই অনেক জমির মালিক মাটি খুঁড়ে পাথর তুলে স্তূপ করে রাখেন পথের ধারে, বিক্রির জন্য।পাথর পাওয়া যায় আরও এক জায়গায়। সেটি মহানন্দা নদী। স্রোতের টানে ভারত থেকে নেমে আসে পাথর। নদী থেকে এসব পাথর সংগ্রহ করে এখানকার দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ।

তেঁতুলিয়ায় মহানন্দার তীরে সরকারি ডাকবাংলোতে আস্থানা গেড়ে সেখান থেকে চলে যাবেন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর। বর্তমানে এই একটিমাত্র পথেই বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির বাণিজ্য চলে। বাংলাবান্ধা সীমান্তের সব চেয়ে কাছে ১০ কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহর।

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে ১৯৯৭ সালে স্থাপিত এটি পাথর নিয়ে দেশের প্রথম জাদুঘর রকস মিউজিয়াম। এখানে দেখতে পাবেন প্রাগৈতিহাসিক কালের ছোটবড় নানারকম পাথর, পাথরের তৈরি অস্ত্রশস্ত্র, পাথরে খোদাই করা লেখা। পঞ্চগড় সদর উপজেলার ভিতর গড়ে পাবেন মহারাজার দিঘি। এখানেই আছে বন বিভাগের বিশাল শালবন, আছে শালমারা বিল।

সপ্তাহের দু’দিন ছুটি সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে ওঠে পড়ুন বাসে। ভোরে নামবেন পঞ্চগড়। সেখানে দেখুন রকস মিউজিয়ামসহ আশপাশের এলাকা। বিকালে চলে যান তেঁতুলিয়া। রাত কাটিয়ে পরদিন ঘুরেফিরে দেখুন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, চা বাগানসহ আশপাশের এলাকা। সেদিনই পঞ্চগড় ফিরে রাতের বাস ধরুন নিজের গন্তব্যের উদ্দেশে।

কীভাবে যাবেন

রাজধানী থেকে পঞ্চগড়ের সরাসরি বিভিন্ন পরিবহনের বাস পাবেন। ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়ায় সরাসরি চলাচল করে বাস। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, চা বাগান বা আশপাশের এলাকায় ঘোরাঘুরির জন্য স্কুটার ভাড়া করাই ভালো। আর যদি মাইক্রোবাস নিতে পারেন তাহলে কথাই নেই।

কোথায় থাকবেন

পঞ্চগড়ে অনেক হোটেল আছে। তেঁতুলিয়ায় মহানন্দা নদী তীরের ডাকবাংলোতে থাকার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বন বিভাগের রেস্টহাউসে থাকার জন্য জেলা সদর অথবা তেঁতুলিয়ায় বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিতে হবে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরেও জেলা পরিষদের ডাকবাংলো আছে। তবে এখানে থাকতে হলে পঞ্চগড় থেকে আগেই অনুমতি নিতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/২৭অক্টোবর/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

ফিচার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :