এক সপ্তাহেও ত্রাণ মেলেনি গুচ্ছগ্রাম বাসিন্দাদের

সাইমুম সাব্বির শোভন, জামালপুর
 | প্রকাশিত : ০২ এপ্রিল ২০২০, ১৩:৩৮

করোনার কারণে সরকারের সাধারণ ছুটি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গণপরিবহণ বন্ধে কর্মহীন হয়ে পড়েছে জামালপুরের শ্রমজীবী মানুষ। কাজের সুযোগ না থাকায় খাবার সংকটে পড়েছে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ও চরহামিদপুর গুচ্ছ গ্রামের কর্মহীন মানুষরা। করোনায় সৃষ্ট অচলাবস্থার এক সপ্তাহ পার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারি খাদ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ এসব মানুষের।

বুধবার সকালে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীরচর গুচ্ছগ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সরকারের খাদ্য সহায়তার অপেক্ষায় গুচ্ছগ্রাম এলাকায় একসাথে বসে আছেন বেশ কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে কোনো কাজে যেতে পারছেন না তারা। এই জন্য গুচ্ছগ্রামের ৮০টি পরিবারের সবাই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন পার করছেন। প্রায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত না খেয়ে ত্রাণের অপেক্ষায় বসে থাকেন তারা। ত্রাণ না পেয়ে অন্যের বাড়ি থেকে খাবার চেয়ে এনে দিনযাপন করছেন। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এভাবেই কষ্ট করে দিন কাটছে তাদের।

লক্ষ্মীরচর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা জবেদা বলেন, করোনাভাইরাসের জন্য আমরা মরব না। আমাদের ওইটার জন্য ভয় নাই। কিন্তু আমরা ক্ষুধার জন্য মরতাছি। আমাদের এখানে মেম্বার চেয়ারম্যান কেউ খোঁজ-খবর নেয় নাই। আমাদের এই জায়গায় আমরা এখনো কিছু পায় নাই। স্বামী খবর নেয় না। এমনকি করোনাভাইরাসের ভয়ে কারো বাড়িতে কাজেও যেতে পারছি না। এক সপ্তাহ ধরে দিনে একবার খেয়ে থাকছেন তিনি।

আরেক বাসিন্দা ওমর আলীর স্ত্রী সবুজা জানান, প্রতিদিনই ত্রাণের অপেক্ষায় থাকেন তারা। সবাই ত্রাণ পেলেও এই গুচ্ছগ্রামের কেউ ত্রাণ পায় না। চেয়ারম্যান-মেম্বার কেউ খোঁজ নেয় না। করোনার ভয়ে কেউ এখন সাহায্য দিতেও চায় না।

গুচ্ছগ্রামের আরেকজন বাসিন্দা আঞ্জু আরা বেগম বলেন, আমাদের অভাব, বালুর চরের মধ্যে থাকতাছি। কোনো কিছু মিলে না। বাইরে কোনো জায়গায় যেতে পারি না। কোনো কাজ করতে পারছে না। পুলাপানসহ এই জায়গায় জ্বলে-পুড়ে মরছি।

গুচ্ছগ্রামের খাদ্য সহায়তার ব্যাপারে লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন বিদ্যুৎ জানান, খাদ্য সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসন তার ইউনিয়নের জন্য দুই মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। এসব চাল গরিব দুঃখীদের মাঝে বিতরণ করা শেষ হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আরো সহায়তা চাওয়া হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ কম পাওয়ায় গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে খাদ্য সহাযতা দেয়া সম্ভব হয়নি।

অপরদিকে, সদর উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চরহামিদপুর গুচ্ছগ্রামে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বসবাসকারী ৬০টি পরিবারের কেউই এখনো খাদ্য সহায়তা পায়নি।

চরহামিদপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সবুজ বলেন, আমরা এই করোনাভাইরাসের জন্য এখানে খুব কষ্টে আছি,খুব দুঃখে আছি। চেয়ারম্যানের ওই জায়গায় গেছিলাম, গিয়ে বলছি- আমরা কোনো জায়গায় কোনো কিছু করে খেতে পারছি না, বের হতে পারছি না। আমাদের জন্য কোনো কিছু সাহায্য করেন। পরে চেয়ারম্যানে বলছে, আমি পাই না- তোমাদের কোথা থেকে দিব।

আরেকজন বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী খলিলুর রহমান জানান, সরকার ত্রাণ দেয়- আমরা শুধু শুনি। কিন্তু কখনো পাই না। বর্তমান যে অবস্থা, এই অবস্থায় মৃত্যু সহজ। আমরা যে কবে ত্রাণ পাব- সে সম্পর্কে জানি না। এখন কেউ করোনার ভয়ে ভিক্ষা দেয় না। কবে যে ক্ষুধার জ্বালায় মারা যাব- ঠিক নাই।

এসব বিষয়ে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কর্মহীন মানুষের মাঝে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবার মাঝে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার ২৪টি গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোর বাসিন্দারাও কোনো খাদ্য সহায়তা পায়নি। এছাড়া জেলার অন্যান্য গুচ্ছগ্রাম ও আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোর চিত্র একই বলে জানা গেছে।

(ঢাকাটাইমস/২এপ্রিল/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :