নগ্নতায় দ্বিধাহীন সেই মধু এখন ঘোর সংসারী

বিনোদন ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২৯ মে ২০২০, ১৪:৩৭

মুম্বাইয়ের আন্ধেরীর এক সাধারণ মেয়ে ছিলেন মধু সাপ্রে। পুরো নাম মধুশ্রী। ১৯৭১ সালের ১৪ জুলাই তার জন্মও হয়েছিল আন্ধেরীর এক সাধারণ পরিবারে। বড় হওয়াও আটপৌরে ভাবে। লোকাল ট্রেনে যাতায়াত, রাস্তার খাবার খাওয়া- সবই ছিল তার জীবনের অঙ্গ। এককথায়, তাক লাগিয়ে দেয়ার মতোই মধুর জীবন।

খেলাধুলা আর মডেলিং চলছিল তার হাত ধরাধরি করেই। এরই মধ্যে মধুর জীবনের একটা পর্বে মডেলিংই বেশি প্রাধান্য পায়।। সেই মডেলিং থেকে তিনি একসময় চলে যান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে। নব্বইয়ের দশকে মডেলিংয়ের দুনিয়ায় পরিচিতি পান মধু। ১৯৯২ সালে তিনি মিস ইউনিভার্সের মঞ্চে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন। সেখানে দ্বিতীয় হন।

অথচ বিজয়িনী হওয়ার দৌড়ে মধুই এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু কেন তার মাথায় সেরার তাজ উঠল না? এর জন্য মধু দায়ী করেন প্রশ্নোত্তর রাউন্ডকে। তার কথায়, তাদের বলা হয়েছিল তারা যেটা ঠিক মনে করছেন, সে কথাই যেন উত্তরে বলেন। উত্তর পলিটিক্যালি কারেক্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।

মধুকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হলে দেশে কী কী পরিবর্তন আনবেন? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করবেন। কারণ তার মনে হয়েছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেই এত বছরের দারিদ্র হঠাৎ চলে যাবে না। তাছাড়া, একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জীবনের সমস্যার কথা তার মনে ছিল।

মধুর মনে হয়েছিল, ইংরেজিতে দুর্বল থাকার কারণে তিনি নিজের বক্তব্য ঠিকঠাক পেশ করতে পারেননি। তবে বিজয়িনী হতে না পারায় মডেলিংয়ের কেরিয়ার কিছু ব্যাহত হয়নি তার। নিজের সময়ে মধু ছিলেন ভারতের সেরা মডেলদের একজন।

এই সুন্দরীর কেরিয়ারে সাফল্যের পাশাপাশি এসেছে বিতর্কও। জুতার একটি বিজ্ঞাপনে সুপারমডেল মিলিন্দ সোমানের সঙ্গে তিনি নগ্ন হয়ে মডেলিং করেছিলেন। সেখানে অজগর সাপ ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মিলিন্দ, মধু, বিজ্ঞাপন সংস্থা এবং ওই জুতা প্রস্তুতকারী সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। ১৪ বছর চলেছিল সেই মামলা।

২০০১ সালে মধু বিয়ে করেন ইটালীয় ব্যবসায়ী জিয়ান মারিয়া এমেনদাতোরিকে। এরপর থেকে তার ঠিকানা ইটালির পূর্ব উপকূলে রিসিওয়ান শহরে। সেখানেই স্বামী আর মেয়েকে নিয়ে থাকেন। যে মধু একসময় ইংরেজি বলতে হোঁচট খেতেন, এখন তিনি হিন্দি-মারাঠি-ইংরেজির পাশাপাশি ঝরঝর করে বলেন ইটালিয়ানও। একমাত্র মেয়ে ইন্দিরাকেও মারাঠি শেখানোর চেষ্টা করছেন।

মেয়েকে একাই বড় করেছেন মধু। তার স্বামীকে ব্যবসার কাজে নানা জায়গায় ঘুরতে হয়। ফলে মধু নিজে বাড়িতে থেকেছেন মেয়ের জন্য। তিনি চাননি অন্য কারও কাছে মেয়ে বড় হোক। মধুর স্বামীর আইসক্রিমের ব্যবসা। এছাড়া, বড় একটি আঙুর বাগানের মালিক তারা। মধুর কথায়, বিয়ের পরে তিনি এখন অনেক রকম খাবার খেতে শিখেছেন।

শাশুড়ি এবং দিদিশাশুড়ির কাছ থেকে ইটালীয় খাবার রান্না করতে শিখেছেন মধু। আবার তার হাতের চিকেন কারি খেতেও খুব পছন্দ করেন তার শ্বশুরবাড়ির পরিজনরা। ভারতের সঙ্গে যোগসূত্রও ছিন্ন হয়নি। নিয়মিত আসেন ভারতে। এখনও রাস্তার পানিপুরি আর ভেলপুরী না খেলে মধুর মুম্বাই সফর অসম্পূর্ণ। অতীতের গ্ল্যামারসর্বস্ব দিন ফেলে এখন সংসার জীবন উপভোগ করছেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/২৯মে/এএইচ

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিনোদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :