আর বাড়ছে না লকডাউনের মেয়াদ!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১৮:৪৯
ফাইল ছবি

করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় চলমান সর্বাত্মক লকডাউন শেষ হতে যাচ্ছে আগামী ২৮ এপ্রিল। এরপরও লকডাউন বাড়বে কি না এমন প্রশ্ন যখন সবার মনে তখন অনানুষ্ঠানিকভাবে জানা গেছে, আর বাড়বে না লকডাউনের মেয়াদ।

২৯ এপ্রিল থেকে সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক করে দিতে যাচ্ছে সরকার। তবে মাস্ক পরাসহ শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি যেন সব জায়গায় মেনে চলা হয় তার ওপর জোর দেয়া হবে।

শুক্রবার জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘২৯ এপ্রিল থেকে সবকিছুই শিথিল হতে শুরু করবে। তবে একটা শর্ত থাকবে; শারীরিক দূরত্ব মেনে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। আমরা এখনো কিন্তু এর (করোনাভাইরাস সংক্রমণ) মধ্যে আছি।’

ইতিমধ্যে রবিবার থেকে মার্কেট, শপিংমল সব খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এটাকে লকডাউন শিথিল করার প্রথম পদক্ষেপ বলা যায়।

শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার প্রয়োজনে রবিবার থেকে খুলে দেয়া হবে শপিং মল ও দোকানপাট।

ঈদ সামনে রেখে দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, নিম্ন আয়ের মানুষ জীবন-জীবিকার মতো দিকগুলো বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম, ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এটা চলমান থাকুক। কিন্তু আমরা দেখলাম যে, এখানে যারা আছেন, দোকানপাট ও শপিং মলগুলোতে যারা কাজকর্ম করছেন, তাদের সামনে ঈদ। তাদের যে ইনভেস্টমেন্ট, সবকিছু মিলিয়ে তাদের যে মানবিক আবেদন, সবকিছু চিন্তা করেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

শপিং মল ও দোকানপাট চালু রাখাসহ যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে বলে জানান ফরহাদ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে শর্ত থাকবে যে, তারা যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সেটা তারা শতভাগ মেনে চলবে।’

ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘গতবারও ওরা অনেক লুজার হয়েছিল এবং সামনে ঈদ আছে। পয়লা বৈশাখ তো তারা মিস করলেন। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ এ খাতের সঙ্গে জড়িত, কর্মচারী হিসেবে তারা কাজ করেন।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাস্ক ছাড়া কাউকে দেখা গেলে সবাইকে মনে করতে হবে, ওই লোকটি সবার জন্য ঝুঁকি। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রত্যেকের দায়িত্ব আছে। এক হচ্ছে, তাকে সার্ভিস দেয়া যাবে না। দুই হচ্ছে, তাকে আশপাশের সবাই বলবে, আপনি মাস্ক পরেন।’

২৮ এপ্রিলের পর আস্তে আস্তে সব খুলতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই সপ্তাহব্যাপী চলাফেরার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা তো এখানে, ১৪ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত প্রায় ১১/১২ দিন হচ্ছে। এর মধ্যে কিছুটা সুফল পাওয়া গেছে। কিন্তু জীবন-জীবিকার কথা চিন্তা করে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারা খোলা রাখবে।’

সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে মানুষের মধ্যে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে- এমন দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটার মধ্য দিয়ে মানুষের মাস্ক পরার প্রবণতা বেড়ে গেছে। এটাকে আমাদের হানড্রেড পার্সেন্ট ধরে রাখতে হবে। নো মাস্ক, নো সার্ভিস। যেখানেই হোক না কেন, নো মাস্ক নো সার্ভিস। প্রত্যেকটা মানুষকে মাস্ক পরতে হবে। জীবন-জীবিকাকে তো আসলে আমাদের স্বাভাবিক করতেই হবে।’

শপিং মল ও দোকানপাট খোলার সিদ্ধান্তে মানুষের চলাচলে আরোপ করা যে বিধিনিষেধ ছিল, সেটাও শিথিল হলো কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যেহেতু দোকান খোলার সিদ্ধান্ত হলো, একটু শিথিল হলো, অবশ্যই।’

লকডাউনের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টের জানিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটা করছি। কষ্টের সঙ্গেই করতে হচ্ছে। কারণ এটা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু আমরা আশা করব, জনসচেতনতার যে জিনিসটা দরকার, যত দিন করোনার পারমানেন্ট সল্যুশন না আসবে তত দিন শতভাগ মাস্ক পরতে হবে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ডিপেন্ড করে তো লাভ হবে না। যে লোকটি হাঁটবেন, তিনিই ভর্ৎসনা করবেন যে, আপনি মাস্ক পরেননি, আপনি একটা অপরাধ করছেন।’

(ঢাকাটাইমস/২৩এপ্রিল/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :