ইরফান সেলিম কি কাউন্সিলর পদ ফিরে পাবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০২ মে ২০২১, ১৪:৪৬

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের বরখাস্তকৃত কাউন্সিলর ইরফান সেলিম। তিনি ঢাকা-৭ সংসদীয় আসনের এমপি হাজী সেলিমের ছেলে। গত বছরের অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন তিনি। এরপর স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল জামিনে মুক্ত হয়েছেন ইরফান। তবে এখনো কাউন্সিলর হিসেবে বরখাস্তই রয়েছেন তিনি এবং চলমান মামলা থেকে অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত তিনি বরখাস্ত থাকবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানের ওপর হামলার অভিযোগে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। ইরফান সেলিমের বাসা তল্লাশি করে মদ, অস্ত্র এবং ওয়াকিটকি পাওয়া যায়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা হয়।

গ্রেপ্তারের একদিন পর ২৭ অক্টোবর বিকেলে ইরফান সেলিমের কারাদণ্ডের বিষয়ে জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি পাঠায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সে দিন সন্ধ্যায় স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯ এর ২ ও ১৩ ধারার অধীনে নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের বিধানে কাউন্সিলর ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকায় এই আইনের ১২ ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তার এই বরখাস্ত আদেশ দেয়া হয়েছিল।

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত হয়ে ছয় মাস কারাগারে থাকার পর গত ২৯ এপ্রিল জামিনে মুক্ত হয়েছেন ইরফান সেলিম। তবে তিনি কাউন্সিলর পদে বহাল নন।

এ বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন শাখার উপ সচিব নুমেরি জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ বহাল রয়েছে।

সিটি করপোরেশন শাখায় নতুন দায়িত্ব পাওয়া এ কর্মকর্তা বলেন, আমার ধারণা, যেহেতু তিনি বরখাস্ত আছেন এবং মামলা চলছে, তাই বরখাস্ত আদেশ বহাল থাকবে। আইনগতভাবে যদি তিনি বের হয়ে আসেন, তাহলে করপোরেশন আমাদের কাছে লিখিতভাবে জানাবে। তখন আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এর আগে ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানের ওপর হামলা করেন ইরফান সেলিম। এমন অভিযোগে ওই নৌ কর্মকর্তা ইরফান সেলিমকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ২৬ অক্টোবর ইরফানের চকবাজারে বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যা ব।

র্যা বের অভিযানের সময় ইরফান সেলিমের বাসা থেকে অবৈধ মদ ও ওয়াকি-টকি উদ্ধার হয়। এসময় র্যা বের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত মদ পাওয়ার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং অবৈধ ওয়াকি-টকি রাখার দায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন ইরফান সেলিমকে। এই মামলায় তিনি গত ৪ জানুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন ইরফান।

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় পরে রাজধানীর চকবাজার থানায় ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে আলাদাভাবে আরও চারটি মামলা দায়ের করে র্যা ব।

ইরফানের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি মামলা ছিল। ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার দুই মামলায় ইরফান নিম্ন আদালত থেকে আগেই জামিন পান। মাদক ও অস্ত্র আইনে করা দুই মামলায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। সর্বশেষ মারধরের মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। আপিল বিভাগ জামিন বহাল রাখেন।

(ঢাকাটাইমস/২মে/কারই/কেআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :