নেয়ামত ভূঁইয়া’র পঞ্চপর্ণ ও অণুকাব্য

ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া
 | প্রকাশিত : ১৬ মে ২০২১, ১৯:০৫

. কর্মেই সাফল্য

হাত না পেতে হাত লাগাবে আপন কাজে কাজে,

কোনটা বড়ো কোনটা ছোটো; মরবেনা সেই লাজে।

কাজ না ক’রে পাতলে হাত

জুটবে ভাতই , মরবে জাত;

বিশ্বজোড়া ঘুরবি কতো আর ভিখিরির সাজে-

মর্যাদাবোধ জাগবে কখন বিবেক বোধের মাঝে!

. যৌবনের জয়

আমার সকল বসন্তই শুকনো পাতায় ছাওয়া।

ফিরলে আবার এই ভুবনে

সেই উপদেশ চলবো মেনে;

‘যৌবনেতেই করবে পূরণ যা জীবনের চাওয়া-

জওয়ান কালের গান চলে না বৃদ্ধকালে গাওয়া;

সেই পিরিতির উষ্ণতাও যায়না খুঁজে পাওয়া।’

. থলের বিড়াল

সমাজের মগডালে যতো জঞ্জাল,

ছড়িয়েছে ভেজালের অদ্ভুত জাল।

ভন্ডরা সাধু সাজে,

সেই জাল ছিঁড়েনা যে—

থলিতেই থেকে যায় থলের বিড়াল।

. দ্বিমুখিতা

হৃদয়ের ছোঁয়া নেই সব কিছু লৌকিক,

ত্যাগে নেই ভক্তি; ভোগই শুধু যৌগিক।

যতো পায় ততো চায়

শেয়ালের মতো ধায়-

অন্তরে কুটিলতা; সরলতা মৌখিক।

. সুবিধাবাদী ছবক

সাধুবাবা সাধুভাষায় কথা বলেন জনম ভর,

চাঁদকে বলেন ’চন্দ্রিমা’ আর গর্তকে কন ’গহ্বর’।

তার সারাটা নগ্ন দেহ

বলবে পাছে ’ন্যাংটা’ কেহ

তাইতো তিনি ছবক শেখান; ’ন্যাংটা’ নয় সে— ‘দিগম্বর’।

. দায়শূন্য অভিভাবকত্ব

সন্ধ্যা হ’লে আঁধার নামে দিগন্তটা ঘিরি,

মুরগি-হাঁসের বাচ্চা খোঁজো আসলো কিনা ফিরি!

কিন্তু সেটার খোঁজ রাখোনা

কোথায় তোমার পুত্র-সোনা?

গভীর রাতে কোথায় ছেলে করছে বাবুগিরি?

. প্রাণখোলা চরিত

হাসতে হাসতে অনেক কথাই যায় বলা,

হাটতে হাটতে অনেক পথই যায় চলা।

আসল কথা ব’লতে হলে

সঠিক পথে চ’লতে হ’লে-

চলন বলন হতেই হবে প্রাণখোলা।

. বাহারি আস্ফালন

সোনা-রূপা-হীরে নেই; সবই লোহা-লক্কর,

নেই ধন টাকা-কড়ি ঠকে ঠকে টক্কর।

গর্জনে কাঁপে বায়ু

হুংকারে কমে আয়ু

এ বীরের বিষ নেই; কুলোপনা চক্কর।

. মুল্যবৃদ্ধির বিজ্ঞাপন

চোখের পলকে মনের বারুদের

ঘটালে এমন বিস্ফোরণ,

আমি তো ভেবেছি,করেছো মনের

না-বলা কথার উন্মোচন।

ভেবেছি করবো এ শুভক্ষণের

জাঁকজমকী উৎযাপন,

পরে বুঝলাম, ভঙ্গিমা কেবলি

দাম বাড়ানোর বিজ্ঞাপন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :