বড় ভাঙনের মুখে জাপা, ছোট হয়ে আসছে জিএম কাদেরের পরিধি 

জাহিদ বিপ্লব, ঢাকা টাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৮:১৬

গণ আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর থেকে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে ভাঙনের মুখে পড়ে জাতীয় পার্টি। এই পর্যন্ত ছয়দফা ভাঙনে পাঁচ খণ্ড হয়েছে দলটি। এরমধ্যে চারটিই নিবন্ধিত। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের পরও এর ব্যতিক্রম ঘটাতে পারেনি দলটি। বিগত নির্বাচনে জিএম কাদেরের স্বেচ্ছাচারিতা ও পরিবারপ্রীতির অভিযোগে ফুঁসে ওঠে দলটির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। আর এসব নেতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হন বিপুলসংখ্যক তৃণমূল নেতা।

এবার জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি থেকে বেশকিছু হেভিওয়েট নেতা রওশন এরশাদের পক্ষে সরাসরি অবস্থান নিলে বিভক্ত হয়ে পড়েন তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও। বিশেষ করে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলীয় প্রার্থীদের অধিকাংশই অবস্থান নেন জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে। এতে করে পার্টিতে তার পরিধি অনেক ছোট হয়ে আসছে বলে মনে করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে জাপার কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শফিকুল ইসলাম সেন্টু, সুনীল শুভ রায়সহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ায় বেকায়দায় পড়েন জিএম কাদের। চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি জাপার কাকরাইল কার্যালয়ে রওশন এরশাদ অনুসারীরা প্রবেশ করলে জিএম কাদের কাকরাইল কার্যালয় নিজস্ব কব্জায় রাখতে নেতাকর্মীদের নিয়মিত কার্যালয়মুখী হতে নির্দেশ দেন। তা সত্ত্বেও আগের মতো পার্টি অফিসে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হন। ৩ ফেব্রুয়ারি মোহাম্মদপুর টাউন হলে রওশন এরশাদ অনুসারীরা ছাত্রসমাজের মতবিনিময় সভায় প্রয়াত এরশাদ এবং জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ও সাবেক নয়জন প্রেসিডিয়াম সদস্য উপস্থিত থাকলেও একই সময়ে অনুষ্ঠিত জাপার বনানী কার্যালয়ে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে দেওয়া সংবর্ধনায় জিএম কাদেরের নিজ স্ত্রী শেরিফা কাদের ছাড়া ছিলেন না কোনো প্রেসিডিয়াম সদস্য। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও ছিল নগণ্য।

জাপা বনানী সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পর অন্তত ৩০ নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে জিএম কাদের। হাতে গোনা কয়েকজন সিনিয়র নেতা ছাড়া অন্য কাউকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে দল থেকে পাঠানো হয়নি কোনো প্রেসবিজ্ঞপ্তি। তবে, জাতীয় পার্টির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাদের নাম ফেলে দেওয়া হয়েছে। জিএম কাদেরের অব্যাহতি থেকে রক্ষা পাননি সাবেকমন্ত্রী, সাবেক এমপি, প্রয়াত এরশাদের ঘনিষ্ঠজন, দলের অঙ্গ সংগঠন জাতীয় যুব সংহতি, ছাত্রসমাজ, জাতীয় শ্রমিক পার্টি এবং মহিলা পার্টির সাবেক শীর্ষনেতারাও।

এ প্রসঙ্গে দলটির বনানী কার্যালয়ে দায়িত্বরত একজন ঢাকা টাইমসকে জানান, জাতীয় পার্টি থেকে নিজ ইচ্ছায় চলে যাওয়া এবং জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্যকারী পার্টির অসংখ্য নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে, এ অব্যাহতির খবর যদি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় তাহলে দলের অন্যান্য নেতাকর্মীর মনোবল আরও ভেঙে যাবে। সেই শঙ্কা থেকেই প্রকাশ্যো অব্যাহতি ঘোষণা না দিয়ে জাপার নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে নাম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে সদ্য অব্যাহতি পাওয়া জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল আহসান শাহাজাদা ঢাকা টাইমসকে বলেন, জিএম কাদের আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার অধিকার রাখেন না। কারণ, উনি আমাদের পদায়ন করেননি, নিয়োগ দিয়েছেন। তিনি নিয়োগ বাতিল করতে পারেন। জিএম কাদের কাউকে পদ না দিয়ে নিয়োগ প্রদান করেন। এতেই প্রমাণিত হয় এটি কোনো দল নয়। তাছাড়া পার্টি থেকে আমাকে অব্যাহতির কোনো চিঠিও দেওয়া হয়নি। শুনেছি ওয়েবসাইট থেকে আমার নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

জিএম কাদেরের কাছ থেকে স্বেচ্ছায় চলে আসা জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ঢাকা টাইমসকে বলেন, জিএম কাদের সাহেব এরশাদের আদর্শ থেকে অনেক দূরে সরে চলে গেছেন। বর্তমানে তিনি (জিএম কাদের) যা করছেন সেগুলো জাতীয় পার্টির মূল উদ্দেশ্য ছিল না।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জহিরুল আলম রুবেল ঢাকা টাইমসকে বলেন, অব্যাহতি বা বহিষ্কার রাজনীতিতে একটি চলমান প্রক্রিয়া। যা অতীতেও হয়েছে বর্তমানেও হচ্ছে। তবে, এতে অবশ্যই দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতীয় পার্টি হচ্ছে সুবিধাবাদী দল। সুবিধা যতদিন পাবো ততদিন পক্ষে, আর না পেলে বিপক্ষে। সিনিয়র নেতারা দল থেকে চলে গেলে তার অনুসারীরাও চলে যাবে এটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু ঢাকা টাইমসকে বলেন, যে কয়েকজন নেতা চলে গেছে তাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা চলে যাওয়াতে পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, বরং শক্তিশালী হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হবে। কারণ, তারা দলে থাকাকালে পার্টি একতাবদ্ধ ছিল না।

মূলত, সরকারের সঙ্গে ২৬ আসনে নির্বাচনি সমাঝোতাকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। এরপর পার্টির সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে নিজ স্ত্রীকে সমঝোতার আসনে মনোনয়ন দেওয়াতে ফুঁসে ওঠেন দলটির সিনিয়র নেতারা। এর পাশাপাশি সারাদেশে নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলীয় প্রার্থীদের কোনো রকম খোঁজ না নেওয়া, আর্থিক সহযোগিতা না করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ের পার্টির বর্তমান নেতৃত্বে বিরুদ্ধে খোদ বনানী কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা।

গত ২৮ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নুকে বহিষ্কার করে নিজেকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন রওশন এরশাদ। ২৯ জানুয়ারি তিনি জানান, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২ মার্চ সম্মেলন করবেন তারা। পরে আবারও এই দিন-তারিখ থেকে সরে এসে ৯ মার্চ সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

(ঢাকাটাইমস/২০ফেব্রুয়ারি/এফএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

উপজেলা নির্বাচন সরকারের আরেকটা ‘ভাঁওতাবাজি': আমীর খসরু

বিচার না হওয়ায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা বেড়েই চলছে: ড্যাব 

দেশের প্রতিটি গুমের পেছনে আওয়ামী লীগ সরকার দায়ী: রিজভী

বিএনপিকে প্রতিহত করে বিজয় সুসংহত করতে হবে: ওবায়দুল কাদের 

উপজেলায়ও সমঝোতা চায় ১৪ দল, জয় নিশ্চিত করতে চাচ্ছেন শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ 

বর্তমান ইসির অধীনে উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা ১২ দলীয় জোটের

বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকার জুলুম-অত্যাচার অব্যাহত রেখেছে: মির্জা ফখরুল

সাম্প্রদায়িকতার মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য নষ্ট করতে দেব না: নাছিম

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর

উপজেলা নির্বাচনে যাচ্ছে না বিএনপি

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :