গ্রিসের সঙ্গে ৩ বিলিয়ন ইউরোর অস্ত্র রপ্তানি চুক্তি করেছে ইসরায়েল

প্রতিরক্ষা খাতকে আরও শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তুলতে ইসরায়েলের সঙ্গে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে গ্রিস। সোমবার (৩১ আগস্ট) ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের ৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) মূল্যের এই প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তিটি দেশটির অন্যতম বৃহত্তম চুক্তি।
এর আওতায় দেশটির প্রযুক্তি ব্যবহার করে এথেন্সের জন্য একটি বহু স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
গাজা যুদ্ধ এবং হিজবুল্লাহ ও ইরানের সাথে সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সত্ত্বেও দেশটির অস্ত্র রপ্তানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এই রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন দেশের সরকার ইসরায়েলের দিকে ঝুঁকেছে কারণ তাদের অস্ত্রগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত এবং ক্রেতারা সরাসরি বা ‘রিয়েল-টাইমে’ দেখতে পান। এসব গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে। গত এক দশকে ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে। তবে সোমবার স্বাক্ষরিত এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কারণ পূর্ব ভূমধ্যসাগরে সমুদ্রসীমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রেক্ষাপটে প্রতিবেশী ও ন্যাটো-সহযোগী দেশ তুরস্কের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে গ্রিস।
এর আগের চুক্তিগুলোর মধ্যে ছিল দক্ষিণ গ্রিসে একটি ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট’-এর সাথে ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি। এছাড়া ইসরায়েলি রকেট লঞ্চার, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল এবং ড্রোন বিক্রির পরিকল্পনাও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। গ্রিস বলছে, পুরোনো প্রতিরক্ষা নীতিগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব।
অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, নতুন স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রোনসহ নানাবিধ হুমকির বিরুদ্ধে মোকাবিলার জন্য তারা প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করবে। এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ‘ডেভিডস স্লিং’ ও ‘স্পাইডার’-এর মতো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি নতুন জাতীয় কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা।
মূল চুক্তির পাশাপাশি রাফায়েল কোম্পানির ‘ড্রোন ডোম’ ব্যবস্থা বিক্রির জন্য ৩ কোটি ডলার (২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো) মূল্যের আরেকটি সম্পূরক চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে গ্রিসের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিকোস ডেনডিয়াস বলেন, আধুনিক সংঘাতের ধরন সামরিক প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রচলিত সমীকরণকে বদলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, চালকবিহীন ব্যবস্থা (ড্রোন), সাইবার হুমকি, যুদ্ধের মিশ্র বা হাইব্রিড ধরন এবং বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের পারস্পরিক সংযোগের ফলে দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রতিরক্ষা কৌশলগুলো এখন সম্পূর্ণ অবাস্তব হয়ে পড়েছে।
ইসরায়েলের অস্ত্র শিল্পের মোট বিক্রির অর্ধেকেরও বেশি আসে ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং আকাশ-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে ইসরায়েল প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
ঢাকা টাইমস অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন












































