কাসেমের ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন সিনহা: জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৪৯ | প্রকাশিত : ১২ আগস্ট ২০১৮, ২০:৫৬

পদত্যাগী প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

এই লেনদেন যুক্তরাষ্ট্রে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র। জানান, এই ঘটনা যারা দেখেছেন সেই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীও আছে।

রবিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে জয় লেখেন, ‘নিন্দিত সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহা সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন। সেখানে তিনি গোপনে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের ভাই মামুনের সাথে দেখা করেন।’

‘আমরা জানতে পেরেছি মামুনের কাছ থেকে তিনি বড় অংকের টাকা পেয়েছেন। টাকাটা তাকে দেয়া হয়েছে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। তাদের এই আলাপ দেখেছে ও শুনেছে এরকম সাক্ষীও আছে।’

এই অর্থের লেনদেন কবে হয়েছে সেই তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি জয়।

একাত্তরের আলবদর কমান্ডার কাসেমের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। আর এই রায় চূড়ান্ত অনুমোদন এসেছে আপিল বিভাগের যে বেঞ্চ থেকে, তাতে বিচারপতি হিসেবে ছিলেন এসকে সিনহা নিজেও।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এস কে সিনহার বিদায়টা স্বাভাবিক হয়নি। ২০১৭ সালের শেষ দিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণে শাসন ব্যবস্থা, রাজনীতি এমনকি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগ উঠে সে সময়।

আর এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে ১৩ অক্টোবর এক মাসের ছুটি নিয়ে বিদেশে যান এস কে সিনহা। কথা ছিল ১০ নভেম্বর দেশে ফিরে তিনি কাজে ফিরবেন। আর পদত্যাগ করবেন ৩১ জানুয়ারি।

তবে ১০ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন সিনহা আর সেই তারিখেই তা অনুমোদন হয়।

সিনহা বিদেশে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে আর্থিক অনিয়মসহ ১১টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। জানানো হয়, এসব অভিযোগ নিয়ে সিনহার সঙ্গে আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতি বসেছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তার সঙ্গে আর এজলাসে বসা সম্ভব নয় বলে সে সময়ে প্রধান বিচারপতিকে জানিয়ে দেন পাঁচ বিচারপতি।

স্ট্যাটাসে জয় লিখেন, “দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এই প্রবন্ধটিতে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের ‘কু-শীল’ সমাজ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন যদি ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতো।”

‘ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে অপিরিচিত বা অর্জনপ্রিয় মানুষের ভূমিকা কম। একটি ষড়যন্ত্রকে সফল করতে হলে দরকার হয় উচ্চপর্যায়ের ও ক্ষমতাবান কাউকে। যেমন সিনহা বা শহিদুল আলম।’

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ইসলামী ছাত্র সংঘের চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি জামায়াতের অর্থের জোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

কাসেম আলী ছিলেন কেয়ারি গ্রুপের মালিক এবং ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা ট্রাস্ট, দিগন্ত মিডিয়াসহ বেশ কিছু ব্যবসায়িক উদ্যোগের উদ্যোক্তা ও অংশীদার। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে হাসপাতাল, ভবন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, পরিবহন, গণমাধ্যমসহ অনেক কিছুই রয়েছে।

ঢাকাটাইমস/১২আগস্ট/এমআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

রাজনীতি এর সর্বশেষ

জনগণকে বাদ দিয়ে পাতানো উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে: রিজভী

কেরানীগঞ্জে আ.লীগের নির্বাচনি প্রচারে যুবদলের নেতারা!

বিএনপির আরও তিন নেতা বহিষ্কার

জেল-জুলুমের ভয় দেখিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমানো যাবে না: সালাম

রাজধানীতে যুবদলের প্রতিবাদ সমাবেশ ১১ মে

৭৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে বিএনপি: ওবায়দুল কাদের

আ.লীগ জনগণকে কবরস্থ ক‌রে ক্ষমতা দখলে রাখতে চায়: রিজভী

বাংলাদেশ ও ভারত ভবিষ্যৎ বিশ্বে নানা ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে: ড. সেলিম মাহমুদ

রাজনৈতিক দলগুলো কথা বন্ধ রাখলে গণতন্ত্র পিছিয়ে পড়বে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

স্বাধীন ফিলিস্তিনের দাবিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পতাকা ওড়ানোসহ ছাত্রলীগের একগুচ্ছ কর্মসূচি ঘোষণা

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :