ছাত্র বিক্ষোভে বন্ধ পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

পাবনা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৫৫ | প্রকাশিত : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ২৩:২৪

ছাত্র বিক্ষোভে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছয় দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হাতে উপাচার্য রোস্তম আলী ফরাজি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ১০ ছাত্রকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। 

সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়। মঙ্গলবার সকাল ৯টার মধ্যে বঙ্গবন্ধু হলের ও বেলা ১১টার মধ্যে শেখ হাসিনা হলের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেলেও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এবং অফিস খোলা থাকবে। 

শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সব ব্যাচের অর্ডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তুকি, ক্লাসরুম ও চেয়ার সংকট দূর, পরিবহন সংকটের সমাধান, ওয়াইফাইয়ের ব্যবস্থা এবং পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবিতে তারা আন্দোলন করে আসছেন।

বার বার আশ্বাস দিলেও কর্তৃপক্ষ দাবিগুলো মেনে নেয়নি। অন্যদিকে জেলহত্যা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস দায়সারাভাবে দিবস পালন করেন উপাচার্য। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্যের প্রশাসন চালানোর দক্ষতা নেই উল্লেখ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এর মধ্যে রোস্তম আলী প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া করে লাঞ্ছিত করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পরে তিনি তার বাসভবনে আশ্রয় নেন। আর শিক্ষার্থীরা তারা বাসভবন অবরুদ্ধ করে। ইট পাটকেল ও জুতাও নিক্ষেপ করা হয়।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক জানান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি জানানো হলে ক্যাম্পাসে পুলিশ পাঠানো হয়। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেন, ‘বিষয়টি উদ্বেগের ও অপ্রত্যাশিত। আশা করি, ভিসি স্যার দ্রুত এ অবস্থা নিরসনের উদ্যোগ নেবেন।’ 
এদিকে ছাত্র বহিষ্কারের কথা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে ভিসি ও প্রক্টরসহ সব প্রশাসনিক কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ  করেন।

পাবনা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, ‘ছাত্ররা তাদের দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে। ভিসি স্যারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তিনি বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করবেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ 

ঢাকাটাইমস/০৫নভেম্বর/প্রতিনিধি/ইএস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত