যেনতেন নিবন্ধনে সড়কে মরণ যানজটে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ০৯ মে ২০১৯, ০৯:৫৪
ফাইল ছবি

উন্নত দেশগুলো তাদের শহরে রাস্তা অনুযায়ী যত যানবাহন চলতে পারবে ঠিক ততটুকু গাড়িরই নিবন্ধন দেয়। নিবন্ধিত একটি গাড়িও নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অন্য নতুন গাড়ি নামানোর অনুমতি মেলে না। এর বড় ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। এখানে যে কেউ ইচ্ছা করলেই রাস্তায় গাড়ি নামানোর সুযোগ পান। এর মূলে রয়েছে সহজে বিআরটিএর নিবন্ধনপ্রাপ্তি। আর পরিবহন বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঝুঁকির মাত্রাও। বিশেষ করে যেনতেনভাবে নিবন্ধিত এসব গাড়ি রাস্তায় নামার ফলে ভোগান্তি অসহনীয় হয়েছে যানজটের। আর বিআরটিএর নিবন্ধন দেওয়ার সিস্টেমকেই অবৈজ্ঞানিক বলছেন বিশ্লেষকরা।

বিআরটিএর তথ্যমতে, ১০ বছরে রাজধানী শুধু ঢাকায় নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে ৩ গুণ। আর ৯ বছরে সারা দেশে গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে আড়াইগুণের কিছু বেশি। ওই সময়ে দেশে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটরবাইক। ঢাকার মোট যানবাহনের প্রায় অর্ধেকই মোটরবাইক। বর্তমানে দেশজুড়ে মোট যানবাহনের চার ভাগের প্রায় তিন ভাগের কাছাকাছি মোটরবাইক চলছে।

গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ৭০২। একই সময়ে রাজধানীতে নিবন্ধিত পরিবহনের সংখ্যা ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫৬৭। সব মিলিয়ে পরিবহনের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঝুঁকির মাত্রাও।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকায় রাস্তা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ লাখ যান চলাচল করতে পারে। কিন্তু অপরিকল্পিত যানবাহনের নিবন্ধন দেয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে সড়ক-মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না। ফলে নানা উদ্যোগের পরও সড়ক দুর্ঘটনার রাশ টেনে ধরা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া নিবন্ধিত যানবাহনের বাইরেও আরও কয়েক লাখ যানবাহন ঢাকায় চলাচল করছে।

আবার এর বেশিরভাগই মোটরসাইকেল ও স্থানীয়ভাবে নির্মিত হিউম্যান হলার বা লেগুনাসহ ইজিবাইক। বিআরটিএ ২০ ধরনের যানবাহনের হিসাব সংরক্ষণ করে। তার মধ্যে কার, স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল-এসইউভি (জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাসকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বাস-ট্রাকসহ অন্য সব যানবাহন বাণিজ্যিক যানের আওতাভুক্ত। বর্তমানে রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক গাড়ি পার্কিং ও চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ঢাকার যানজট দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীতে বিআরটিএ যেভাবে গাড়ির নিবন্ধন দিয়েই যাচ্ছে তা অবৈজ্ঞানিক। ঢাকায় যত গাড়ি চলছে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এর মাধ্যমে চাহিদা ও যোগানের মধ্যে কোনো সমন্বয় থাকছে না, তাই যানজট বাড়ছেই। লোকজন ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে তখনই ছুটছেন যখন তারা গণপরিবহনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। গণপরিবহন উন্নত হলে ব্যক্তিগত গাড়ির এত চাহিদা থাকত না। তাতে যানজট কিছুটা হলেও কমত।

আর এমন পরিস্থিতি থেকে এক দিনে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। তার জন্য কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে হবে। বছরে কি পরিমাণ যোগান আছে সে অনুসারে গাড়ির নিবন্ধন করাতে হবে। যানবাহনের ঢালাও নিবন্ধন করতে দেয়া যাবে না। পাশাপাশি গণপরিবহনের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সড়কে চলতে লোকজন যখন বিকল্প গণপরিবহন বা অন্যান্য যানবাহন পাবেন তখন গাড়ি কিনতে নিরুৎসাহিত হবে।

তাদের মতে, একটি শহরে যেখানে যানবাহনের চলাচল ও ব্যবস্থাপনার জন্য ২০ থেকে ২৫ শতাংশ সড়ক দরকার, সেখানে ঢাকায় আছে মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ। ফলে যানজট হবে এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া বিভিন্ন স্থানে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় লোকজন সড়কের ওপরই গাড়ি রাখছেন, যা যানজট বেড়ে যাওয়ার বড় একটি কারণ।

জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব নিরাপদ সড়ক সপ্তাহ উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সড়ক পরিবহন বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে।’

‘কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, এককভাবে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে নয়। সেজন্য মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, বিআরটিসি, পুলিশসহ সবার অংশগ্রহণ জরুরি। তাছাড়া যার যেটা দায়িত্ব তা যদি সঠিকভাবে পালন করা হয় তাহলে দুর্ঘটনার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব।’

ঢাকায় নিবন্ধিত পরিবহন ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫৬৭

বিগত ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাজধানীতে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ১৬ হাজার ৯১২। ২০১০ সালে ৭৬ হাজার ১৬৫ গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছে। ২০১১ সালে নিবন্ধিত হয় ৭২ হাজার ৯৪৭, ২০১২ সালে ৫৯ হাজার ৫৭৩, ২০১৩ সালে ৫৪ হাজার ৪৯২, ২০১৪ সালে ৭৩ হাজার ৫১ নিবন্ধিত হয়েছে। ২০১৫ সালে নিবন্ধিত গাড়ির সংখ্যা হয় ৯ লাখ ৫ হাজার ৭৪২, ২০১৬ সালে ১ লাখ ১০ হাজার ৫২০, ২০১৭ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৮, ২০১৮ সালে ১ লাখ ৭১ হাজার ৩৪৯ ও চলতি বছরের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছে ৪ হাজার ৬৭ যানবাহন। সব মিলিয়ে এখন ঢাকায় নিবন্ধিত পরিবহন ১৪ লাখ ১০ হাজার ৫৬৭।

ঢাকাটাইমস/৯মে/ডিএম

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :