আলু ও ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে, বন্ধ রপ্তানি

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৫ | প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২০:৩৪
মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান এলাকায় আলু তোলায় ব্যস্ত শ্রমিকরা। ছবি: সাইফুর ইসলাম

দেশে ধানের পাশাপাশি আলু ও ভুট্টা উৎপাদনও বেড়েছে। দেশের কৃষি গবেষকদের গবেষণা আলু, গম, ভুট্টা ও ডালের চাষকে সমৃদ্ধ করতে বেজায় ভূমিকা রেখেছে। তারা এসব কৃষি পণ্যের নতুন নতুন উন্নত বীজ তৈরি করছেন। স্বল্প জমিতে, অল্প খরচে কম সময়ে অধিক ফলন পেতেও কাজ করছেন গবেষকরা। ভূট্টার উৎপাদন গমের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে এখন ৩৫ লাখ টন। কয়েক বছরের মধ্যে এটি ৫০ লাখ টন ছাড়াবে।
সবজি হিসেবে দেশে আলুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি, এর চাষের ইতিহাসও পুরোনো। হল্যান্ড থেকে এনে এখানে আলু চাষের প্রচলন হয়। বর্তমানে দেশে ১০ ধরনের আলুর চাষ হয়, উৎপাদন প্রবৃদ্ধির হার গত ১ যুগে ১৪৮ শতাংশ।
আলু উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ অষ্টম। বিদেশে রপ্তানিও হয়। লাল ও সাদা গোল আলুর চাষ হয় বেশি, কৃষকরা বলে ডায়মন্ড। বছরে চাহিদা ৭০ লাখ মেট্রিক টন, উৎপাদন হয় ১ কোটি মেট্রিক টনের বেশি। আলু এক সময় বিদেশে রপ্তানি হলেও নানা কারণে তা বন্ধ এখন। বিদেশে রপ্তানির জন্য জীবানুমুক্ত আলু বাছাইয়ের পরীক্ষাগার দরকার, যা দেশে নেই বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. নুরুল ইসলাম।
অন্যদিকে কৃষি গবেষকরা আলু, গম, ভুট্টা ও ডালের উচ্চফলনশীল জাতের বীজ উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছেন। গমের প্রায় অর্ধশত নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। তার মধ্যেও আছে সবচে বেশি ভালো ফলনের জাত। শীতকালীন ফসল গমের চাষ যেন গ্রীষ্মকালেও হয় তাই তাপসহনশীল জাত উদ্ভাবনে কাজ করছেন কৃষি গবেষকরা।
ডালের চাষও পুরোনো। ৬০/৭০ বছর আগেও গ্রামে বাড়ির আঙ্গিনায় ডাল চাষ হতো। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে উচ্চ ফলনশীল ডাল চাষ শুরু হয়েছে সাম্প্রতিককালে। উৎপাদন কম হলেও গত ১৪ বছর ডালের প্রবৃদ্ধির হার ২৭৫ শতাংশ।
বর্তমানে ৮ লাখ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে ডাল চাষ হয়। ডাল উৎপাদন বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথা জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক ডাল ও তেল প্রকল্প পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম। প্রোটিন হওয়ায় শীতকালীন ফসল ডাল গরিবের মাংস হিসেবে পরিচিত। মাষকলাই জাতীয় ডাল গ্রীষ্মকালেও হচ্ছে। দেশে ১৫ ধরনের ডাল চাষ হয় (নামগুলো স্ক্রিনে দেখানো হোক)। বছরে ডাল উৎপাদন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন। কিন্তু চাহিদা দ্বিগুণেরও বেশি ২৫ লাখ টন।
নানা প্রতিকূল পরিবেশে গম, ভুট্টা, আলু ও ডাল চাষ করলেও প্রয়োজনীয় সহায়তা সবার জন্য তেমন নেই বলে কৃষকরা জানান। উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা চান সরকারি-বেসরকারি সহায়তার হাত। খরচ কমিয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদনের দিকে এখন বিশেষ নজর দিচ্ছেন কৃষি গবেষকরা। সেজন্য অত্যাধুনিক উপকরণ ও যন্ত্র আবিষ্কার ও কেনার দিকে ঝুঁকছেন তারা। নতুন উদ্ভাবিত এসব যন্ত্র ব্যবহারে কৃষকরা স্বল্প খরচে কৃষিপণ্য উৎপাদন করতে পারবে। তবে সব ফসলের কৃষকদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন, সংগ্রহ ও সংরক্ষণ ব্যয় কমানোয় জোর দেওয়ার পরামর্শ গবেষকদের।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের সম্প্রসারণ করতে হবে। কৃষকরা আলু উৎপাদন করে দাম পাচ্ছে না অথচ বাজার থেকে একটি চিপস আমরা কত দাম দিয়ে কিনছি। আমাদের কৃষিপণ্য দিয়ে বিভিন্ন প্রক্রিয়াজত খাবার বানাতে হবে। সরকার এ জন্য ব্যাপক পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
গমকে টপকে উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে ভুট্টা
এদিকে চাষে খরচ কম হওয়ায় ভুট্টা উৎপাদন বেড়েছে দেশে। আবার বছরজুড়ে চাষযোগ্য হওয়ায় ভুট্টা কৃষকের কাছে এখন জনপ্রিয়। ভুট্টা চাষের জমিও বাড়ছে। গমের সাথে মিশিয়ে ময়দা, সুজিসহ প্রায় ৫০ ধরনের খাবার হয় ভুট্টো দিয়ে। মাছ ও মুরগীর খামারে ভুট্টোর চাহিদা ব্যাপক। তাই ভুট্টা চাষ করে ভাগ্যবদলের চেষ্টায় বহু কৃষক। চলতি বছর দেশে ভুট্টা হয়েছে ৩৯ লাখ মেট্টিক টন।
গমের চাহিদা বাড়লেও কমছে উৎপাদন
উৎপাদনের দিক দিয়ে ধানের পরে আলুর অবস্থান হলেও গম দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য শস্য। অন্য দুই দানাদার শষ্য ভুট্টা ও ডালের চাহিদাও অনেক। ভাতের ওপর চাপ কমাতে দেশে একসময় ব্যাপক গম চাষ শুরু হয়। এটা মূলত পশ্চিমা বিশ্বের ফসল। দেশে উন্নতজাতের গম চাষের শুরু কয়েক যুগ আগে। ১ যুগ ধরে দেশে গম উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৫৭ শতাংশ বলে জানিয়েছেন, শেরে-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. 

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :