৩৫ থেকে ৪০ লাখ চামড়াই অপচয়?

সৈয়দ ঋয়াদ ও জহির রায়হান
 | প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৬
ফাইল ছবি

কোরবানিতে যত পশু জবাই হয়েছে, তার তিন ভাগের এক ভাগেরও বেশি চামড়া এবার ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন এই ব্যবসায় জড়িতরা। এখন পর্যন্ত আড়তে যত চামড়া এসেছে তার ভিত্তিতে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৩৫ থেকে ৪০ লাখ চামড়া বেশি আসা উচিত ছিল।

২০১৮ সালে সারা দেশে এক কোটি পাঁচ লাখ গরু, মহিষ, ছাগল ভেড়া বা অন্যান্য প্রাণী কোরবানির তথ্য আছে সরকারের কাছে। প্রতি বছর পাঁচ থেকে সাত শতাংশেরও বেশি হারে বাড়ে কোরবানির সংখ্যা। এই সংখ্যাটি এবার এক কোটি ১২ লাখ হবে ধরে নিয়েছে সরকার।

পশু কোরবানির পর পর চামড়ার দাম কমে যাওয়া নিয়ে তোলপাড় হয় সারা দেশে। গরুর চামড়া আড়াইশ থেকে ৮০০ টাকা আর বিশাল আকার হলে এক হাজারের মধ্যে কিনেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে তারা আড়তে গিয়ে দাম শুনেছেন ক্ষেত্র বিশেষে অর্ধেকের কম। আর ক্ষোভে বহু চামড়া সড়কের ধারে বা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও পুঁতে ফেলার ছবি পাওয়া গেছে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের পক্ষে চামড়া ধরে রাখা অসম্ভব প্রায়। এটি করে খাতে আড়তদাররা। আর তাদের কাছ থেকে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনে থাকে। গতকাল থেকে এই চামড়া কেনা শুরু হলেও আড়তদাররা জানিয়ে দিয়েছে, বকেয়া পরিশোধ না করলে তারা চামড়া দেবেন না।

এর মধ্যে আড়তদারদের কাছ থেকে কত চামড়া এবার কেনা হয়েছে, তার একটি প্রাথমিক হিসাব পাওয়া গেছে। আর এই ভিত্তিতেই কত চামড়া এবার অপচয় হয়েছে বা ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেই সংখ্যাটিও বের হয়ে আসে।

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সমিতি হাইড স্কিন অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য মতে গত বছরের তুলনায় দেশজ উৎপাদনের দুই তৃতীয়াংশেরও কম চামড়া সংগ্রহ করতে পেরেছেন ব্যবসায়ীরা। এই সংখ্যাটি ৬৫ থেকে ৭০ লাখ।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ছাড়ানোর সময় কিছু চামড়া নষ্ট হয়। এই সংখ্যাটিও কম নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গত বছরের হিসাবে, ৩০০ কোটি টাকারও বেশি টাকার চামড়া অপচয় হয় ছাড়ানোর দুর্বলতার কারণে।

এর বাইরেও আরঞ অন্তত ৩৫ লাখ চামড়া আড়তে আসা উচিত ছিল বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। এই না আসা চামড়ার মধ্যে অবশ্য গরুর সংখ্যা কম, বেশিরভাগই ছাগল, ভেড়া বা এ জাতীয় ছোট প্রাণীর।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেলে দেওয়া বা নষ্ট হয়ে যওয়া কাঁচা চামড়ার বাজার মূল্য হাজার কোটি টাকার বেশি।

রাজধানীর পোস্তায় কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন ‘বাংলাদেশে হাইড স্কিন অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ এর সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, ‘কোরবানির ঈদে মোট চামড়ার ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই অবিক্রীত থেকে গেছে। অবিক্রীত চামড়া যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাবেই ৯০ শতাংই মাটিতে মাটিতে পুঁতে ফেলা বা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। যেগুলো কোনোভাবেই সংগ্রহ বা সংরক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।’

আড়তদারদাররা বলছে বাজার থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে না পারার মূল কারণ আর্থিক সংকট। গত ৩০ বছর ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়ার আড়তদারদের প্রায় তিনশ কোটি টাকার বেশি আটকা পড়ে আছে। তারা টাকা দিচ্ছেন না। বকেয়ার পাশাপাশি কোরবানির মৌসুকে চামড়া কিনতে নতুন করে যে টাকা দেওয়ার রীতি আছে, সেটাও করা হয়নি এবার। ফলে অর্থ সংকটে তারা চামড়া কিনতে পারেননি। স্বভাবতই পড়ে গেছে দাম।

পোস্তার অন্যতম আড়ত মাহবুব  ব্রাদার্সে প্রতি কোরবানির ঈদে কম করে হলেও  ৫০ হাজার চামড়া কেনা হয়। কিন্তু এবার কেনা হয়েছে মাত্র সাত হাজার। তাদের বিশাল গুদাম এখনো খালি পড়ে আছে। 

মাহাবুব ব্রাদার্স এর ব্যবস্থাপক উত্তম কুমার সাহা বলেন, ‘আমাদের কাছে টাকা নাই। টাকা না থাকলে চামড়া কিনব কী করে?’

উত্তম জানান, বিভিন্ন ট্যানারির কাছে তাদের বকেয়া পড়ে আছে  প্রায় ছয় কোটি টাকা।  কিন্তু একটি টাকাও পরিশোধ করেনি কেউ।

পোস্তার প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল মুবিন বলেন, ‘ঈদের এক সপ্তাহে গাড়ির জটলাই শেষ হতো না। আর এবছর চামাড়ার গাড়িই আসে নাই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ীরা এখান থেকে হাসি মুখে ফিরে যেত। এখন কান্না করে ফেরে।’

(ঢাকাটাইমস/১৮আগস্ট/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :