ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৪৮

আজ ২৪শে আগস্ট ইয়াসমিন ট্র্যাজেডি দিবস। ২৪ বছর আগের এই দিনে কিছু উচ্ছৃঙ্খল বিপথগামী পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন ১৪ বছর বয়সী কিশোরী ইয়াসমিন। পরে এ ঘটনার প্রতিবাদে একটি মিছিলে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান আরও সাতজন। সেদিন থেকেই সারাদেশে একযোগে ২৪ আগস্ট ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট ভোরে দিনাজপুরের দশমাইল থেকে শহরে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ইয়াসমিনকে পিকআপ ভ্যানে তুলে নেয় টহল পুলিশ। এরপর তাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ রাস্তার পাশে ফেলে রাখে।

এর প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাতজন। এরপর থেকে এ দিনটিকে ইয়াসমিন ট্রাজেডি দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে।

ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি তিনটি আদালতে ১২৩ দিন বিচার কাজ শেষে ১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল মতিন মামলাটির রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে আসামি পুলিশের উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মঈনুল, কনস্টেবল আব্দুস সাত্তার ও পুলিশের পিকআপ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ বিধান ‘৯৫-এর ৬ (৪) ধারায় ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুর আদেশ দেন।

আলামত নষ্ট, সত্য গোপন ও অসহযোগিতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মঈনুলকে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

২০০৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ১২টা ১ মিনিটে মামলার অন্যতম আসামি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বিশ্রামপাড়ার জসিমউদ্দীনের ছেলে উপ-সহকারী পরিদর্শক (এএসআই) মইনুল হক, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চন্দনখানা গ্রামের এসএম খতিবুর রহমানের ছেলে কনস্টেবল আব্দুস সাত্তারকে রংপুর জেলা কারাগারের অভ্যন্তরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এছাড়া ২০০৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মধ্য রাত ১২টা ১ মিনিটে মামলার অপর আসামি নীলফামারী সদর উপজেলার রাজপুর গ্রামের লক্ষ্মীকান্ত বর্মনের ছেলে পুলিশের পিকআপ ভ্যানচালক অমৃত লাল বর্মনকে রংপুর জেলা কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয়।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন নারী সংগঠন, সিপিবি, ছাত্র ইউনিয়ন শোক র‌্যালি ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—শহরের প্রতিটি ভবন ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাচ ধারণ ও শোকযাত্রা। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও পৃথক কর্মসূচি পালন করবে। মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছেন ইয়াসমিনের মা শরীফা বেগম। দিবসটি পালন করবেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপালও, যিনি ইয়াসমিন ট্র্যাজেডিতে রাজপথে সরব ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/২৪আগস্ট/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

জাতীয় এর সর্বশেষ

এই বিভাগের সব খবর

শিরোনাম :