রায়পুরে মেয়রের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে লিজ দেয়ার অভিযোগ

ফারুক হোসেন, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
 | প্রকাশিত : ২৭ আগস্ট ২০১৯, ০৮:২৭

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকনের বিরুদ্ধে ডাকাতিয়া নদীর নয় একর জমি অবৈধভাবে লিজ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকার ভূইয়া ট্রেডার্সের নামে বদিউল আলমকে দুই বছরের জন্য এ লিজ দেয়া হয়।

জানা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর নয় একর রায়পুর পৌরসভার পেটেসহ ৭৭ একর জমি প্রভাশালীরা দখল করে নেন। আর দখলদাররা নদীর বুকে ২০ থেকে ২৫টি বাঁশের বাঁধ দিয়েছেন। অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর বাঁধ দিয়ে চলছে অবৈধ মাছ চাষের প্রকল্প। এতে ময়লা-আবর্জনায় পানি নিষ্কাশনে বাধা প্রাপ্ত হয়ে জলাবদ্ধতা হচ্ছে। কচুরিপনাসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনায় দূষিত হচ্ছে নদীর পানি। দখল আর দূষণে ডাকাতিয়া নদী হারাতে বসেছে নদীর ঐতিহ্য।

সাবেক পৌর মেয়র রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান জানান, ডাকাতিয়া নদীর মহিলা কলেজ থেকে হায়দরগঞ্জ সড়ক পর্যন্ত একসময় বিএনপি নেতা বদরুল আলম জিন্নাসহ অনেকে, পরে আরও কয়েকজন দখল করে। এবার রায়পুর পৌরসভা থেকে ভূইয়া ট্রেডার্স লিজ নেয়। এছাড়া কিছু অংশে মহিলা কলেজ থেকে চালতাতলী বর্তমান মেয়র মাছ চাষ করছেন। হায়দরগঞ্জ রোড থেকে উত্তরে দুই অংশে একটিতে শিশির, আরেক অংশে সিরাজ সর্দার মাছ চাষ করছে।

রায়পুর পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, ‘পৌরসভার মধ্যে কোনো বদ্ধ জলমহাল বা পুকুর ২০ একরের নিচে হলে পৌরসভা তত্ত্বাবধান করবে এমন সরকারি গেজেটের রয়েছে। তাই নদীর নয় একর জায়গা পাঁচ লাখ টাকায় লিজ দিয়েছি।’

নদী দখল করে মাছ চাষ করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি পৌর মেয়র। এ জন্য আমার নাম আসতেই পারে।’

রায়পুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক কামরুল হাসান রাছেল জানান, ‘অল্প বৃষ্টিতে পৌর এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর পানি সরতে না পেরে জলাবদ্ধতা হয়ে তাদের বাড়িসহ অন্যান্য স্থানে পানি জমে থাকে।’

নদীপাড়ের বাসিন্দা রহিম সওদাগর জানান, পানি আটকে থাকায় কচুরিপনা, কুকুর, বিড়াল মরার গন্ধে আশপাশের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

ডাকাতিয়া সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান জানান, অবৈধ দখলে ডাকাতিয়ার দুই পাশেই অবৈধভাবে দোকানঘর, বাসাবাড়ি নির্মাণসহ লুট করা হচ্ছে নদীর ঐতিহ্য। সরকারিভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ডাকাতিয়া নদী লুটে খাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। এ কারণে বাঁধে ময়লা-আবর্জনা আটকে জলাবদ্ধ হয়ে থাকছে রায়পুরের আশপাশ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা বলেন, ‘ডাকাতিয়া নদীর কোনো অংশই ইজারা দেয়া হয়নি। যারা মাছ চাষ করছে, তারা অবৈধভাবে তা করছে।’

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘কয়েকদিনের মধ্যে ডাকাতিয়া নদীর অবস্থা দেখার জন্য যাব। ডাকাতিয়া নদীকে দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সরকারিভাবে পৌরসভা লিজ দেয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।’

(ঢাকাটাইমস/২৭আগস্ট/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত