প্রসঙ্গ: গ্রেপ্তার

কী আছে দুদক আইনে

হাবিবুল্লাহ ফাহাদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৭:০০ | প্রকাশিত : ০৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৫:৪৯
ফাইল ছবি

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কারো বিরুদ্ধে থানায় বা আদালতে অভিযোগ দায়েরের আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চাইলে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবে। এ কাজটি অনুসন্ধানে নিয়োজিত কর্মকর্তা নিজেই করতে পারবেন। এজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে গ্রেপ্তারের জন্য আগে থেকে কমিশনের অনুমতি নিতে হবে। দুদক আইনে এমনটাই বলা আছে।

আইন বলছে, অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা যদি মনে করেন ওই ব্যক্তির ঘোষিত সম্পদের বাইরে নিজ নামে বা অন্য কারো নামে সম্পদ রয়েছে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করা যাবে। অনুসন্ধানের স্বার্থে এটি করা যাবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২১ নম্বর ধারায় এ সম্পর্কে বলা আছে। ‘গ্রেপ্তারের বিশেষ ক্ষমতা’ শিরোনামে ওই ধারায় বলা হয়েছে ‘এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কমিশনের কোনো কর্মকর্তার যদি বিশ্বাস করিবার যুক্তিসংগত কারণ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি তাঁহার নিজ নামে বা অন্য কোনো ব্যক্তির নামে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির মালিক বা দখলদার যাহা তাহার ঘোষিত আয়ের সহিত অসঙ্গতিপূর্ণ এবং যাহা ধারা ২৭ এর অধীনে দণ্ডনীয় অপরাধ, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির কোনো এজাহার দায়ের হইবার পূর্বেই অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আবশ্যক হইলে উক্ত কর্মকর্তা, কমিশনের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করিয়া, উক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করিতে পারিবেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, যদি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মনে করেন, তদন্তাধীন ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে পারেন তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারবেন। এছাড়া যদি অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকে, যা দিয়ে প্রমাণ হয় তিনি জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ও ঘোষিত সম্পদের বাইরে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক তাহলে প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেন।

জানতে চাইলে দুদক আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগ আইন অনুযায়ী দুদক চাইলে কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে। তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য অপরাধ বা অপরাধের প্রমাণ হাতে থাকতে হবে। সাধারণত কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে দুদক পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে থাকে। কারণ দুদকের কোনো আলাদা পুলিশ নেই। কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক নয়।’

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ২০ জুন প্রজ্ঞাপিত সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের সঙ্গে দুদকের কোনো সম্পর্ক নেই। সরাসরি বিশেষ আদালতে যাবে দুদক। ওই বিধিতে দুদককে সরাসরি এফআইআর (ফাস্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) বা এজাহার দায়েরের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হবে বিশেষ জজ আদালতে।

খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘দুদক যদি মনে করে, তাহলে পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য সহযোগিতা নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে তাদের সহযোগিতা নিতেই হয়। কারণ একজন ভয়ংকর অপরাধী। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে নিরাপত্তার জন্য হলেও দুদককে পুলিশের সহযোগিতা নিতে হয়।’

অতীত অভিজ্ঞতার বিষয়টি উল্লেখ করে দুদকের এই আইনজীবী বলেন, ‘এমনও দেখা গেছে, দুদকের মামলায় একজন ডিআইজি আসামি ছিল। তাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে পুলিশ সহযোগিতা করেনি। এমন ঘটনাও ঘটেছে। ডিআইজি মিজানের ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। তেজগাঁও থানা প্রথমে মামলা নিতে চায়নি। পরে একদিন পর মামলা নিয়েছে। কারণ সে পুলিশের ডিআইজি ছিল। সোজা কথা হচ্ছে, দুদককে আইনের মধ্যে থেকে কাজটি করতে হবে। আইনের বাইরে গিয়ে সে কিছু করতে পারবে না।’

আইনের ক্ষমতা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হলে দুদককে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে বলে মনে করেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘দুদক তার আইন অনুযায়ীই পরিচালিত হবে। কদিন আগে প্রধানমন্ত্রী গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুদকের এখতিয়ার নিয়ে যা বলেছেন, এটি যদি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে দুদকের উচিত হবে সেটি ব্যাখ্যা করা। প্রধানমন্ত্রী কোন প্রেক্ষাপটে কথাটি বলেছেন সেটিও জানার বিষয়। তার বক্তব্য হয়তো পুরোপুরি আমরা জানতে পারিনি, এমনটাও হতে পারে।’

(ঢাকাটাইমস/০৭জানুয়ারি/এইচএফ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :