বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ জুন ২০২০, ১২:৩০ | প্রকাশিত : ০৭ জুন ২০২০, ১২:২৯

পুলিশের নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ যুবক জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে চলছে সহিংস বিক্ষোভ। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে উত্তেজিত মার্কিনিরা গোটা দেশে বর্ণবাদবিরোধী প্রতিবাদ করছে। জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুতে ছড়িয়ে পড়া ক্ষোভের আগুন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়েছে বিশ্বের অনেক দেশেও। যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে জাপানের টোকিও পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছে। পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে বিক্ষোভ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয়। ফ্লয়েড হত্যার বিচার দাবিতে ও বর্ণবাদের অবসান চেয়ে লন্ডন ছাড়াও বিক্ষোভ হয়েছে ম্যানচেস্টার, কার্ডিফ, লেচেস্টার, শেফিল্ডের মতো বড় বড় শহরে।

দিনব্যাপী লন্ডনের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থকালেও সন্ধ্যার দিকে ডাউনিং স্ট্রিটে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের একটি দলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ১৪ জনকে আটক করেছে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে সমর্থন দিয়েছেন। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি ভাবিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেলকে। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সবার নিরাপত্তার জন্যই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা জরুরি।’ তবে পুলিশ কমিশনার ডেম ক্রেসিডা ডিক বিক্ষোভকে ‘অবৈধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীকে অবশ্য মাস্ক পরা অবস্থায় দেখা গেছে। অনেকে হ্যান্ড গ্লাভসও পরে ছিলেন। অনেকের হাতে নানা ধরনের স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। একটিতে লেখা ছিল, ‘বর্ণবাদ করোনাভাইরাসের চেয়েও ভয়াবহ।’ নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ও গ্লাসগোতেও পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বড় বিক্ষোভ হয়েছে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাজ্য ছাড়াও ইউরোপের ফ্রান্স ও জার্মানিতে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। দিনের প্রথমভাগে পূর্বের দুই দেশ অস্ট্রেলিয়া ও জাপানেও পুলিশি নিপীড়ন ও বর্ণবাদের অবসান চেয়ে বিক্ষোভ হয়েছে।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে যাতে কোনো ধরনের বিক্ষোভ না হয় সেজন্য বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। সেসব উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ সেখানে বিক্ষোভ করেছে। বড় বিক্ষোভ হয়েছে আইফেল টাওয়ারের সামনে।

শনিবার জার্মানির রাজধানী বার্লিনে বর্ণবাদবিরোধী বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে। বার্লিনের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছে শতশত মানুষ। তারা শ্লোগান দেয়, জর্জ ফ্লয়েডের জন্য ন্যায়বিচার চাই, আমাদের হত্যা বন্ধ কর ইত্যাদি। বিক্ষোভ হয়েছে কানাডার টরন্টোতেও। সেখানেও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে কয়েকশ মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রে ৪৬ বছর বয়স্ক জর্জ ফ্লয়েডকে ২৫ মে সন্ধ্যায় প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই সময় একজন পুলিশ কর্মকর্তা গাড়ির নিচে হাঁটু দিয়ে ফ্লয়েডের গলা চেপে ধরে। সে বারবার বলতে থাকে, ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না।’ পরবর্তীতে একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে ফ্লয়েডের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় একজন প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ১০ মিনিটের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে করোনা উপেক্ষা করে প্রতিবাদে সরব হন হাজার হাজার মানুষ। হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠেন শহরের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন লাগিয়ে দেন।

ঢাকাটাইমস/৭জুন/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :