শেবাচিমে চিকিৎসকের ওপর হামলায় তদন্ত কমিটি

বরিশাল ব্যুরো, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২২ অক্টোবর ২০২০, ২০:১৩

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিস্টার ডা. মাসুদ খানের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর দিকে, শেবাচিম হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসকরা হামলার অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ইর্ন্টানি চিকিৎসকরা স্মারকলিপি দেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অফিস কক্ষে ডা. মাসুদ খান হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন।

ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের জানান, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে চিকিৎসকদের সম্পর্কের অবনতির সূত্র ধরে হামলা হতে পারে।

এ বিষয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, পুরো ঘটনা তদন্তে বৃহস্পতিবার সহযোগী অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলুকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ইন্টার্নি চিকিৎসকদের স্মারকলিপি পেয়েছেন জানিয়ে পরিচালক বলেন, তাদের (ইন্টার্নি) কথা শুনেছি। তাদের দেয়া স্মারকলিপিতে ডা. মো. মাসুদ খানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডা. মাসুদ খানের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

এদিকে ইর্ন্টানি চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ডা. মো. মাসুদ খান নিজ স্বার্থ রক্ষায় ইন্টার্নিদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকিজনক অপ্রচার চালাচ্ছে। তাই কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়ে দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- ইন্টার্নি চিকিৎসক তরিকুল ইসলাম, সজল পান্ডে, তৌহিদুল ইসলাম, তন্ময় চক্রবর্তী, রিজভীসহ তাদের সহকর্মী ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা বলেন, হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিট-৪ এর সহকারী রেজিস্টার ডা. মাসুদ খান যে হামলার অভিযোগ এনেছেন- তা সত্য নয়। ওই দিন তার সাথে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটি হয়েছে।

ইন্টার্নি চিকিৎসকরা অভিযোগ করে বলেন, ডা. মাসুদ খান কমিশন বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে রোগীদের পরীক্ষা করানোর জন্য হাসপাতালের বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য করেন। রোগীরা তার নির্ধারিত ডায়গনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা না করালে সে রিপোর্ট তিনি দেখতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এমনকি রোগীর স্বজনদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। গরিব রোগীদের সাথে এমন আচরণের জের ধরে ইন্টার্নিদের সাথে তার মতবিরোধ রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একজন ইন্টার্নি চিকিৎসকের নাম ভাঙিয়ে কিছু টাকাও হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। যা নিয়ে কথা বলতে গেলে ডা. মাসুদ খান ইন্টার্নদের সাথে অশোভন আচরণ করেন। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ডা. মাসুদ খান ওই ইউনিটের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদকে নিজ অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইন্টার্নি চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক নেতা ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, ওই দিন কোন হামলার ঘটনা ঘটেনি। আর তিনি যেভাবে বলছেন, সেইভাবে ঘটনা ঘটলে তিনি কীভাবে সুস্থভাবে তার সকল কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন? এছাড়াও ডা. মাসুদের বিরুদ্ধে ইন্টার্নি চিকিৎসক ও কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। ডা. মাসুদ পরিচালকের নির্দেশের পরেও চার ইন্টার্নি চিকিৎসকের বেতন আটকে দিয়েছেন।

এসব অপকর্ম ধামাচাপা দিতে ইন্টার্নি চিকিৎসক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা তথ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও গণমাধ্যম ব্যবহার করে হুমকি ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইন্টার্নি চিকিৎসক ডা. সজল পান্ডে।

তিনি বলেন, ডা. মাসুদের মিথ্যাচারের প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মূল ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবিতে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। পরিচালক পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন।

এদিকে স্মারকলিপির বাইরে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা ডা. মাসুদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে চলা এবং তার রাজনৈতিক মতাদর্শ, কমিশন বাণিজ্যের অর্থের উৎস ও খরচের খাত খতিয়ে দেখার আহবান জানিয়েছেন।

(ঢাকাটাইমস/২২অক্টোবর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :