মহাসড়ক অতিক্রমে নেই ওভারপাস, অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা

এম শরীফ ভূঞা, ফেনী
 | প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ১৫:১৮

সোনাগাজী ও দক্ষিণাঞ্চলের ফেনী শহরে আসা-যাওয়া যাত্রীদের লালপোল ক্রসিং করার জন্য নেই কোনো ওভারপাস। ফেনী সদর ও সোনাগাজী উপজেলার লক্ষাধিক লোক ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে সড়কটি। বাইপাস-ওভারপাস ও সংযোগ না থাকায় মহাসড়ক পার হতে গিয়ে অহরহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে শহরে প্রবেশ করা বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষ। তাই, দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে অচিরেই এর স্থায়ী সমাধান চান ফেনীবাসী।

ফেনীর সদর উপজেলাকে দুই ভাগ করেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। দ্রুতযান গাড়ি চলাচলের মধ্যেও মহাসড়ক অতিক্রম করে ফেনী শহরে প্রতিনিয়ত আসা যাওয়া করছে রোগী, বয়োবৃদ্ধ, শিক্ষার্থী, চাকরীজীবীসহ ব্যবসায়ীরা। যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হচ্ছে। মহাসড়ক অতিক্রম করতে গিয়ে এসব যানবাহন হরহামেশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে প্রায়ই ঘটছে প্রাণহানি। অনেকেই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। কোন সংযোগ না থাকায় রাস্তা পারাপার যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এদিকে, অনেক সময় মহাসড়কে যানজট কিংবা যানবাহন আধিক্যের কারণে এপার থেকে ওপারে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।

শহরের মহিপাল থেকে প্রতিদিন সোনাগাজীর উদ্দেশ্যে প্রায় পঞ্চাশটির মতো বাস চলাচল করে। এছাড়া ইমা, উপকূল আর সিএনজি মিলিয়ে প্রায় সাত হাজার আর মালবাহী প্রায় এক হাজার গাড়ি প্রতিদিন মহাসড়ক অতিক্রম করে সোনাগাজী উপজেলার দিকে প্রবেশ করে। সদরের ছয়টি ইউনিয়ন ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভার যানবাহনের একমাত্র ভরসা এ মহাসড়ক।

অন্যদিকে,সড়কটিতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। কিছুদিন আগেও দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয় দ্রুতগতির শ্যামলী পরিবহন। এসময় দুইজন ঘটনাস্থলে মারা যায়। এর আগে একই পরিবহনের বাসের নিচে চাপা পড়ে মারা যায় এক ট্রলিচালক। গত ৫ বছরে ছোট বড় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এ এলাকায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত শতাধিক মানুষ। মহাসড়ক সম্প্রসারণের পর এ মৃত্যুর ঘটনা বেড়ে চলেছে বলে জানায় স্থানীয়রা।

বর্তমানে সোনাগাজী থেকে ফেনী, ঢাকা বা চট্টগ্রাম যেতে হলে লালপোলের মহাসড়ক পার হওয়া ছাড়া উপায় নেই। আবার এসব গাড়ি সোনাগাজীতে যেতে হলেও মহাসড়ক পার হওয়া ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা নেই। এতে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা আর প্রাণহানি।

সোনাগাজী রোডের সিএনজি চালক আবু তাহের, ফজলু মিয়া ও আবদুল করিম জানান, মহাসড়কের এ পাশে কোন সিএনজি ফিলিং স্টেশন নেই। ফলে বাধ্য হয়ে গ্যাসের জন্য হলেও অন্তত দিনে দুই বার মহাসড়ক পার হতে হয়।

এলাকাবাসী, পথচারী ও ভুক্তভোগীরা জানান, মহাসড়কে সংযোগ না রাখা, ওভারপাস ও বাইপাস না করে মানুষকে বিপদে ও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করেন সচেতনমহল।

তবে,লালপোল ক্রসিংকে দুর্ঘটনা প্রবণ ব্ল্যক স্পট উল্লেখ করে ইতিমধ্যে প্রশাসন দুই পাশে ৪/৫ জন গার্ড রেখেছেন। এতেও কমেনা দুর্ঘটনা।

মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহসড়কের লালপুল ক্রসিংয়ে একটি ওভারপাস নির্মাণ হলে কিংবা কোনো বিকল্প ব্যবস্থায় যানবাহন মহাসড়ক পারাপার করলে দুর্ঘটনা কমে যাবে।

এদিকে সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বিকম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ফেনীবাসী এ সংক্রান্ত একটি আবেদন করে যাচ্ছে। ফলে সরকার নীতিগতভাবে ফেনী-সোনাগাজী ওভারপাস নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব ফেনী জেলা প্রশাসককে নিশ্চিত করেছেন।

ফেনী সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জানান, আপাতত মহাসড়ক পারাপার নিরাপদ করতে বর্তমান ইউটার্ণের ১০০ মিটার উত্তরে ঢাকার দিকে আরেকটি ইউটার্ণ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বিষয়টি পরিদর্শন করে গেছেন। ডিজাইন চুড়ান্ত হলে কাজ শুরু হবে।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজজমান জানান, বিষয়টি লিখিতভাবে সড়ক ও সেতু মন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনারোধে এ স্থানে ওভারপাস নির্মাণ জরুরি।

(ঢাকাটাইমস/১৯জানুয়ারি/পিএল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :