ব্র্যাক ব্যাংকের অগ্রযাত্রা: ২০২০ সালে কর-পরবর্তী ৪৫৪ কোটি টাকা লাভ

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
 | প্রকাশিত : ২১ এপ্রিল ২০২১, ২২:১১

ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২০-এ শেষ হওয়া বছরের জন্য ব্র্যাক ব্যাংক তার বার্ষিক পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেছে। গত সোমবার এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। সরকারের সময়োচিত আর্থিক উদ্দীপনা কর্মসূচি এবং একাধিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০২০ সালের প্রথমার্ধ শেষে কভিড-১৯-এর প্রাথমিক ধকল বেশ দৃঢ় ভাবে কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এ ছাড়াও বেসরকারি খাতে শক্তিশালী বিদেশি রেমিট্যান্স এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ঘুরে দাঁড়ানোতেও স্বস্তি মিলেছে দেশের অর্থনীতিতে।

মহামারির শুরুর দিকেই নতুন স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ, ভার্চুয়াল অপারেশন প্ল্যাটফর্ম বর্ধিতকরণ এবং ডিজিটাল গ্রাহক সমাধানগুলিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করার মাধ্যমে ব্র্যাক ব্যাংক প্রথম থেকেই তার কাজগুলি সফলভাবে পুনঃসংগঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়াও এর ফলে মহামারী চলাকালীন সময়ে গ্রাহকদের অবিচ্ছিন্ন সেবা দেয়ার পাশাপাশি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার গুরূত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে ব্যাংকটি।

২০২০ সাল জুড়ে ব্র্যাক ব্যাংক-এর শক্তিশালী পারফরম্যান্সের প্রতিফলনে উল্লেখযোগ্য কিছু অর্জন হলো:

  • একক ভিত্তিতে ৪৫৪ কোটি টাকা ও সমন্বিত ভিত্তিতে (সকল সহযোগী সংস্থা সহ) ২০২০ সালে ৪০৩ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নেট মুনাফা (এনপিএটি) নিবন্ধন করেছে ব্র্যাক ব্যাংক।
  • শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) দাঁয়িয়েছে একক ভিত্তিতে ৩.৪২ টাকায় ও সমন্বিত ভিত্তিতে ৩.৩৩ টাকায়।
  • ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আগামী ২৭শে মে ২০২১-এ অনুষ্ঠিতব্য ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশের প্রস্তাব দিয়েছে।
  • বছর প্রতি গ্রাহক আমানত প্রবৃদ্ধি ৯ শতাংশ এবং আমানত মিশ্রণ ৪৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৫ শতাংশ হয়েছে যা ব্যাংকের সফল আমানত সংগ্রহ এবং সুদের হার পরিচালনার কৌশলী পদক্ষেপের প্রতিফলন।
  • গ্রাহক ঋণ পোর্টফোলিও’র ব্যাপারে ২০২০ সালে বেশ সতর্ক ছিলো ব্র্যাক ব্যাংক। এক্ষেত্রে বছর প্রতি প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ। গ্রাহকদের ঋণ প্রদানের ব্যাপারে শক্তিশালী সূচনার পরও মহামারি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) সেক্টরে বছর প্রতি ঋণ প্রবৃদ্ধি ১৭ শতাংশ হলেও, কর্পোরেট, বাণিজ্যিক এবং রিটেইল ব্যাংকিংয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে খুব সংবেদনশীল ছিল।
  • এপ্রিল’২০২০ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ঋণ ও বিনিয়োগের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনায় ২০২০ সালে গ্রাহক ঋণ থেকে নেট সুদের আয় সমগ্র ব্যাংকিং খাতেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ হ্রাস পেয়েছিলো। তা সত্ত্বেও ব্র্যাক ব্যাংক ৪.৬ শতাংশ নেট সুদের মার্জিনের মাধ্যমে বছরের শেষ করেছে।
  • গ্রাহক ঋণ প্রদানে সতর্কতা ও ঋণ দেওয়ায় হারের হ্রাসকৃত সীমায়নের ফলে কমে যাওয়া সুদের আয় পুনরুদ্ধারে ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগ শক্তিশালী ভূমিকা রেখেছে। সরকারী সিকিউরিটিগুলির বিনিয়োগ থেকে বছর প্রতি আয় প্রবৃদ্ধি ছিলো ৫৩ শতাংশ।
  • কভিড-১৯ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য-সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং মহামারী চলাকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক নির্দেশিত কর্মীদের জন্য নির্ধারিত ভাতা বাবদ ২৪ কোটি টাকা ব্যয় হলেও ব্র্যাক ব্যাংক তার অপারেটিং ব্যয়ের উপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়েছে। ব্যাংকের একক খরচ-উপার্জনের অনুপাত (সিআইআর) ২০২০ সালে ছিলো ৫৮ শতাংশ, একীভূত সংস্থাগুলির সিআইআর অনুপাত ছিলো ৭১ শতাংশ।
  • ২০২০ সালে ব্যাংকের রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ছিলঃ
  • একক ভিত্তিতেঃ আরওই ১০.৫৮ শতাংশ; আরওএ ১.১৮ শতাংশ
  • সমন্বিত ভিত্তিতেঃ আরওই ৯.৯ শতাংশ; আরওএ ১.০১ শতাংশ
  • ২০২০ সালে ব্যাংকের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) অনুপাত হ্রাস পেয়ে ২.৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহিষ্ণু নীতির প্রতিফলন। মহামারি থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ব্যাংকের এনপিএল কভারেজ অনুপাত ১৭১ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ব্যাংকিং শিল্পে এটি অন্যতম উচ্চ এনপিএল কভারেজ অনুপাত।
  • ২০২০ সালে সমন্বিত মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত (সিএআর) রিপোর্ট করা হয়েছে ১৫.১৩ শতাংশও যার ৯২ শতাংশই ছিলো টিয়ার-১ মূলধন যা দেশের ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ টিয়ার-১ মূলধন অনুপাত। ব্যাংকের একক সিএআর ছিলো ১৪.৫৫ শতাংশ, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা নির্দেশিত ১২.৫ শতাংশের বেশ ওপরে।
  • ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত সমন্বিত ভিত্তিতে ব্যাংকের শেয়ার প্রতি নেট অ্যাসেট ভ্যালু (এনএভি) ছিলো ৩৬.৬৩ টাকা, যা একক ভিত্তিতে ছিলো ৩৫.৪১ টাকা।

ভার্চুয়াল এই বার্ষিক পারফরম্যান্স উপস্থাপন অনুষ্ঠানে স্থানীয় এবং বিদেশী বিনিয়োগ বিশ্লেষক, পোর্টফোলিও ম্যানেজার এবং মূলধন বাজার বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। বিদেশী স্টেকহোল্ডারদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন; ডিএমডি এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার এম মাসুদ রানা; ডিএমডি এবং চিফ অপারেটিং অফিসার সাব্বির হোসেন; ডিএমডি এবং হেড অফ কর্পোরেট ব্যাংকিং তারেক রেফাত উল্লাহ খান সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন বিজনেস প্রধানরা ব্যাংকের আর্থিক ফলাফল ও ব্যাংকের কৌশল রূপরেখা উপস্থাপন করেন এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।

ফরহাদ হোসেন এই অনুষ্ঠানের শেষে বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংক তার গ্রাহক এবং স্টেকহোল্ডারদের মাঝে যে সুনাম নিয়ে বছর শুরু করেছিলো, মহামারি চলাকালীন অনবদ্য পারফরম্যান্সের কারণে বছর শেষে তা অনেক গুণ বেড়েছে”।

তিনি অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতেও পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতার সাথে কাজে সর্বোচ্চ মান প্রদর্শন করায় ব্যাংকের ৯,৫০০ কর্মীর প্রশংসা করেন। -বিজ্ঞপ্তি

(ঢাকাটাইমস/২১এপ্রিল/কেএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

অর্থনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :