'সমৃদ্ধ বাংলাদেশ' প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সারাবিশ্বে প্রশংসিত: ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১২ মে ২০২১, ১৪:৩৫ | প্রকাশিত : ১২ মে ২০২১, ১৪:২২

দারিদ্র্য বিমোচনসহ সামাজিক নিরাপত্তা অর্জনে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তিনি বলেছেন, দারিদ্র্যমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ সারাবিশ্বে প্রশংসিত।

প্রতিমন্ত্রী বুধবার ঢাকায় আয়োজিত রিস্ক ইনফরমড আরলি অ্যাকশি পার্টনারশিপ-কমিটমেন্ট টু অ্যাকশন' শীর্ষক ভার্চুয়াল আলোচনায় এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৌগলিক অবস্থান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ঘনবসতি ইত্যাদি কারণে বাংলাদেশকে প্রতিনিয়ত কোনো না কোনো প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগের মোকাবিলা করতে হয়। ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় ফণী ও বুলবুল এবং ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এসব ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সরকারের পূর্বপ্রস্তুতি থাকায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের মিনিস্টার ফর বিজনেজ অ্যানার্জি অ্যান্ড ক্লিন গ্রোথ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন অন আডাপ্টেশন অ্যান্ড রেসিলেন্স ফর দি কপ-২৬ প্রেসিডেন্সি অ্যানি ম্যারি ট্রেভেলিয়ান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন জামাইকার হাউজিং, আরবান রিনিউওয়াল, এনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ বিষয়ক মন্ত্রী পারনেল পি চার্লস জুনিয়র, জাপানের গ্লোবাল এনভাইরনমেন্টাল অ্যাফেয়ার্স বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভাইস-মিনিস্টার কুন্ডো টমোহিরো, ফ্রান্সের ইউরোপ ও পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ক্লাইমেট অ্যাম্বাসেডর স্টিফেন ক্রোওজ্যাট, জার্মানির পার্লামেন্টারি স্টেট সেক্রেটারি টু দ্যা ফেডারেল মিনিস্টার ফর ইকনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মারিয়া ফ্ল্যাচশবার্থ, মিশরের পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ডাইরেক্টর অফ এনভাইরনমেন্ট অ্যান্ড সাস্টেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্টের অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ গাদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকি-হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিষয়ক কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক ও শক্তিশালী করা এবং সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১১, মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০১৬, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী (এসওডি) ২০১৯ ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রণীত হয়েছে।

‘এর মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রতিবন্ধী, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শিশুসহ দুর্গত জনগোষ্ঠীর চাহিদা নিরুপণ ও বাস্তবায়ন। ২০১৫-২০৩০ সাল মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রণীত হয়েছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)। উল্লেখিত আইন, বিধি, পরিকল্পনা ও নীতিমালার আলোকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক এর লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনায় নিয়ে সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।’

এনামুর রহমান আরও বলেন, জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ, আসন্ন দুর্যোগের কবল থেকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণের জন্য বেতার, টেলিভিশন এবং স্থানীয়ভাবে দুর্যোগ প্রবণ এলাকায় মাইকিং এর মাধ্যমে প্রচারণার পাশাপাশি দ্রুত ও অধিকতর কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স (IVR) চালু করা হয়েছে। মোবাইল ফোন নম্বর থেকে ১০৯০ (টোল ফ্রি) নম্বরে ডায়াল করে দুর্যোগের আগাম বার্তা পেয়ে জনগণ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। এ বার্তাকে আরো অধিকতর জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে স্থানীয় ভাষায় বার্তা প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোহসীন বলেন, দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে দুর্যোগ সহনীয় টেকসই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় পরিকল্পিতভাবে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর উপকূলীয় অধিবাসীদের জান-মাল ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি লাঘব করার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রতিষ্ঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এটিকে সরকারি কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেন। এভাবেই ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) পরিপূর্ণভাবে যাত্রা শুরু করে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এক নতুন মাত্রা লাভ করে। বর্তমানে প্রায় ৭৪ হাজার সিপিপি স্বেচ্ছাসেবক উপকূলীয় এলাকায় কাজ করছেন। সিপিপি বিশ্বব্যাপী সেরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের একটি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। দুর্যোগ প্রস্তুতি, প্রশমন ও ব্যবস্থাপনার সাথে সাথে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে বিকশিত হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নতি সাধনে মো. মোহসীন আন্তর্জাতিক এ সভায় বিশ্বের অন্যান্য দেশ বা প্রতিষ্ঠানের উত্তম চর্চাসমূহ সকলের মাঝে বিনিময় করার জন্য আহবান জানান। একইসঙ্গে তিনি দুর্যোগ মোকাবিলায় সুসংহত সাফল্যের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে তিনি এ ফোরামটির মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান।

(ঢাকাটাইমস/১২মে/এসকেএস/ইএস)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :