কী ছিল রিমান্ড আবেদনে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ১৪:২২ | প্রকাশিত : ১৮ মে ২০২১, ১৩:১৫

সরকারি নথি চুরির মামলায় দৈনিক প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডে চাইলেও তা মঞ্জুর করেনি আদালত। শাহবাগ থানায় দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় এবং অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ ধারায় দায়ের করা মামলায় এই সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার তার জামিন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সাংবাদিক রোজিনাকে আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর বেলা ১১টার পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) মোহাম্মদ জসিমের আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান সরদার স্বাক্ষরিত আদালতে উপস্থাপন করা সেই রিমান্ড আবেদনটি ঢাকা টাইমসের হাতে এসেছে।

চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বরাবর এই রিমান্ড আবেদনে বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়- আসামির পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ কোর্টে প্রেরণ।

আবেদনে বলা হয়, রোজিনা যথাযথ পুলিশ প্রহরায় আপনার আদালতে সোপর্দপূর্বক এই মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করিতেছি যে, উক্ত আসামী গত ১৭/০৫/২০১১ইং তারিখ বিকেল ০২.৫৫ ঘটিকার সময় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের একান্ত সচিব এর দপ্তরে প্রবেশ করে। সেই সময় একান্ত সচিব দাপ্তরিক কাজে সচিব বিভিন্ন স্থানে লুকায় এবং মোবাইল ফোনের মাধমে ছবি তোলার সময় সচিব মহোদয়ের দপ্তরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মিজানুর রহমান খান বিষয়টি দেখতে পেয়ে উক্ত আসামীকে বাধা প্রদান করেন এবং তিনি নির্ধারিত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে কী করছেন জানতে চাইলে সে নিজেকে সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় প্রদান করে। পরবর্তীতে অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা ও ষ্টাফগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইলে অতিরিক্ত সচিব কাজী জেবুন্নেছা বেগম শালিনতার সহিত বাংলাদেশের ভ্যাকসিন ক্রয়/সংগ্রহ সংক্রান্তে নেগোসিয়েশন চলমান রয়েছে এবং খসড়া সমঝোতা স্মারক ও নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট প্রণয়ন কাজ চলমান রহিয়াছে।

সমঝোতা স্মারক নিয়ে পক্ষদ্বয়ের মাঝে প্রতিনিয়ত পত্র এবং ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সন্নিবেশিত রয়েছে। উক্ত আসামী কর্তৃক চোরাইকৃত নথিপত্র রাষ্ট্রীয় সরকারী গুরুত্বপূর্ণ গোপনীয় দলিশ, যাহা জনসমক্ষে প্রচার করা হইলে সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্ক রয়েছে। একপর্যায়ে সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে শাহবাগ থানার এস আই (নিঃ)/মোঃ মুনসুর আহম্মেদ, সঙ্গীয় নারী পুলিশসহ ঘটনাস্থল পৌছিয়া উক্ত আসামীকে হেফাজতে গ্রহণ করিয়া থানায় নিয়ে আসে। বাদী ঘটনার বিষয়ে তার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহিত আলোচনা করিয়া অত্র এজাহার দায়ের করেন। ধৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে তার বর্ণিত নাম-ঠিকানা প্রকাশ করে। যাহা যাচাই বাছাই প্রক্রিয়াধীন। আসামীকে জামিনে মুক্তি দিলে চিরতরে পলাতক হইওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রহিয়াছে। মামলাটি সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার মূল রহস্য উদঘটানসহ সরকারী গোপনীয় ডকুমেন্ট নিজ হেফাজতে রাখার বিষয়ে ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উক্ত আসামীকে পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।

অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে, সূত্রে বর্ণিত মামলাটি সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে ঘটনার মূল রহস্য উদঘটানসহ ব্যাপক ও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উক্ত আসামীর পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করিতে মর্জি হয়। আমি আসামীর জামিনের ঘোর বিরোধীতা করিতেছি।

প্রসঙ্গত, সোমবার পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে সরকারি নথি চুরির অভিযোগ এনে তাকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখা হয়। রাত ৮টার দিকে লিখিত অভিযোগসহ শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে এই সাংবাদিককে তুলে দেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় আনা হয়। রাতেই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ডা. শিব্বির আহমেদ উসমানী বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

(ঢাকাটাইমস/১৮মে/এআর/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আদালত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :