দুদকের নতুন ১২ জেলায় কার্যক্রম

প্রথম দিন থেকেই সাড়া, অভিযোগ নিয়ে আসছেন ভুক্তভোগীরা

সৈয়দ ঋয়াদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ১১:৪৮ | প্রকাশিত : ০৫ জুলাই ২০২২, ১০:৩০

দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে গতিশীল করতে দেশের ১২ জেলায় নতুন জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে সংস্থাটির নতুন জেলা কার্যালয় কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন থেকেই মিলছে অভূতপূর্ব সাড়া। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা আসছেন অভিযোগ নিয়ে।

নতুন করে কার্যক্রম শুরু হওয়া জেলাগুলোর দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অফিস শুরুর প্রথম দিনেই সমন্বিত চার জেলা কার্যালয়ে চারটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলা কার্যালয়েই ভুক্তভোগীরা এসেছেন অভিযোগ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে। একটি জেলা কার্যালয়ে সড়ক নির্মাণে পৌনে এক কোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ এসেছে বলে জানান এক কর্মকর্তা।

অভিযোগ আসা জেলা কার্যালয়গুলো হলো- ঝিনাইদহ, গোপালগঞ্জ, জামালপুর ও গাজীপুর।

নতুন ১২ জেলা কার্যালয়ের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে আশার কথা শোনালেন দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) জহুরুল হক। দুদকের এই কমিশনার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমি জামালপুর জেলা কার্যালয় উদ্বোধন করে ফিরছি। এই কার্যালয়গুলো দুদকের কাজের গতি বাড়াবে। আগে তিন-চারটা জেলার মানুষকে একটি কার্যালয়ে আসতে হতো। এখন সেটা কমে যাবে। ফলে মানুষ সহজে অভিযোগ করতে পারবে।’

এই দুদক কমিশনার বলেন, তিন-চারটি জেলার মানুষ যখন একটি অফিসনির্ভর হয়, তখন কাজের চাপ থাকে। আশপাশের জেলার মানুষকে অভিযোগ করার জন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হতো। সে কারণে অভিযোগও আসত কম। যেমন জামালপুরের মানুষের এখন আর অন্য জেলায় যেতে হবে না। মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে দুদকের সেবা।

গাজীপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘নতুন জেলা কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনেই আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন অভিযোগ করার প্রক্রিয়া জানতে এসেছেন। তারা শিগগিরই অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।’

ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাহিদ কালাম নতুন কার্যালয় সম্পর্কে বলেন, উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসছে কীভাবে অভিযোগ করবে জানতে। দেশের মানুষ দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের উপরই ভরসা করে। নতুন অফিস উদ্বোধনে জেলা প্রশাসক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

১৯৫৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন মন্ত্রী ছিলেন তখন দুর্নীতি দমন ব্যুরো প্রতিষ্ঠিত হয়। সেসময় দেশের ৬৪ জেলাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে ব্যুরো অফিস পরিচালনা করা হয়। পরে নানা কারণে সেই অর্থে কোনো কাজ করতে পারেনি সংস্থাটি।

দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার কারণে সৃষ্ট ব্যাপক অসন্তুষ্টির ফলে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হয়। তখন গণমাধ্যমসহ নাগরিক সমাজ, উন্নয়ন সহযোগী এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের প্রস্তাব জোরালো হয়।

২০০৪ সালে সংসদে এ-সংক্রান্ত আইন (২০০৪ সালের ৫ নং আইন) পাস হয়। আইনের মাধ্যমে ২০০৪ সালে সৃষ্টি হয় স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন। এর মধ্যে দিয়ে বিলুপ্ত হয়ে যায় দুর্নীতি দমন ব্যুরো।

তবে সেই সময়েও ব্যুরো আমলে সৃষ্ট ৬৪ জেলায় কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কমিশন গঠনের পর ২০০৫, ২০০৬ ও ২০০৭ সালে দুদক সেভাবে কোনো কাজই করতে পারেনি। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যুরো আমলের জেলা অফিস বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে ওই বছরই দেশের ২২ জেলায় সমন্বিত জেলা কার্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ নেয়।

নতুন কার্যালয়গুলো হল- নারায়ণগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ), গাজীপুর (গাজীপুর ও নরসিংদী), গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর (জামালপুর ও শেরপুর), নওগাঁ (নওগাঁ ও জয়পুরহাট), কুড়িগ্রাম (কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট), চাঁদপুর (চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর), বাগেরহাট (বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা), ঝিনাইদহ (ঝিনাইদহ, মাগুরা ও চুয়াডাঙ্গা), পিরোজপুর (পিরোজপুর ও ঝালকাঠি) এবং ঠাকুরগাঁও (ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়)।

গত রবিবার দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন আব্দুল্লাহ গোপালগঞ্জ থেকে দেশের ১২ জেলার কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই নিয়ে দেশের ৩৬ জেলায় নিজেদের কাজ বিস্তৃত করল সংস্থাটি। এদিন দেশের অন্যান্য জেলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন দুদক কমিশনার জহিরুল হক, কমিশনার ড. মোজাম্মেল হক খান, সচিব মাহবুব হোসেন, দুদকের মহাপরিচালক ও পরিচালকরা।

(ঢাকাটাইমস/৫জুলাই/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :