শুধুই কি মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা! না-কি অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও বাড়বে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের মেয়রের?

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ১১:৪০ | প্রকাশিত : ১১ আগস্ট ২০২২, ১১:২৪

নগরের অভিভাবক হিসেবে এতদিন ধরে নির্ধারিত সন্মানী পেয়ে এলেও ঢাকার দুই মেয়র মন্ত্রী পদমর্যাদা পাওয়ার পর তা বেড়ে যাবে। পাশাপাশি একজন মন্ত্রী যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন তাও তারা ভোগ করবেন। একইভাবে চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের দুই মেয়র বাড়তি সম্মানীর সঙ্গে পাবেন প্রতিমন্ত্রীর যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তর সিটির মেয়র মো. আতিকুল ইসলামকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভিকে দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা।

নিজ নিজ পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তারা সরকার নির্ধারিত পদমর্যাদার পাশাপাশি বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে এখন ৮৫ হাজার টাকা সম্মানী আর অন্যান্য ভাতা পেয়ে আসছেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, আইনে মেয়রদের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী পদমর্যাদা দেওয়ার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। ফলে পদমর্যাদার বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।

আগের মেয়রদের যে পদমর্যাদা দেওয়া হয়েছে বা ভবিষ্যতে দেওয়া হতে পারে তা মেয়র পদকে দেওয়া হয় না। দেওয়া হয় নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে। তাই এক্ষেত্রে ব্যক্তিটি কেমন সেটি বিবেচ্য।

ঢাকা, চট্টগ্রাম নারায়ণগঞ্জের চার মেয়র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাওয়ায় ১২ সিটি মেয়রের মধ্যে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করবেন। খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এবং রাজশাহীর মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান (লিটন) ২০১৯ সাল থেকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা পাচ্ছেন।

ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুসারে একজন পূর্ণমন্ত্রীর অবস্থান ৫ নম্বরে। প্রতিমন্ত্রীদের অবস্থান ৮ নম্বরে। আর সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অবস্থান ১৮ নম্বরে। সুতরাং যেসব মেয়র মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী মর্যাদা পেয়েছেন তারা মেয়রদের থেকে একটু বেশি সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

মেয়রদের পদমর্যাদার কারণে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাদের প্রটোকল নিয়ে মাঝেমধ্যে সমস্যা দেখা দেয় বলে মেয়র ও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলে আসছিলেন। তাদের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার মেয়রদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করে আসছে। মেয়রদের বিশেষ মর্যাদা থাকলে সংস্থার কাজের গতি বাড়ে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের ঢাকা টাইমসকে বলেন, ২০১৬ সালের মিনিস্টারস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট আছে। সে অনুযায়ী সকল সুযোগ সুবিধা পাবেন। মেয়র মহোদয় কবে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রী পদমর্যাদার সুযোগ সুবিধা পাবেন তা এখনো জানানো হয়নি। গেজেট প্রকাশ হলেই এ সুযোগ-সুবিধা শুরু হবে।

মন্ত্রী পদমর্যাদায় একজন সিটি মেয়র কী সুযোগ সুবিধা পান?

দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬ অনুযায়ী, একজন মন্ত্রী বেতন পান মাসিক এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী একজন মন্ত্রী পদমর্যাদায় মেয়রও মাসিক বেতন পাবেন এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা।

এছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় একজন মেয়র দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা, নিয়ামক ভাতা মাসিক দশ হাজার টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ১০ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকাসহ সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি।

ঢাকার বাইরে অফিসিয়াল ট্যুরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি পাবেন, যার যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। সরকারি খরচে রেল ভ্রমণ ও বিদেশ ভ্রমণ। বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবনে থাকা, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ ভবনটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করবে।

সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরনের সেবা খাতের বিল, বিমান ভ্রমণের জন্য বিমা সুবিধা আট লাখ টাকা।

সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী, বাসস্থান থেকে অফিস বা অফিস থেকে বাসস্থানে যাতায়াতের খরচ পাবেন। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ খরচও পাবেন। এছাড়া অন্তত দুজন গৃহকর্মীর ভ্রমণের খরচ পাবেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় একজন মেয়র যেসব সুযোগ সুবিধা পান:

দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০১৬ অনুযায়ী, প্রতি মাসে বেতন ৯২ হাজার টাকা। এই আয়ের ওপর কোনো কর নেই। দৈনিক ভাতা দেড় হাজার টাকা, নিয়ামক ভাতা ৭ হাজার ৫০০ টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে ৭ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন কেনার জন্য ৭৫ হাজার টাকা, বিনা ভাড়ায় সরকারি বাসভবনে থাকাসহ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ ভবনটির যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ সরকার বহন করবে, সরকারি বাসায় সর্বোচ্চ চার লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র, সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৭০ হাজার টাকা, সেই সঙ্গে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোনসহ সব ধরনের সেবা খাতের বিল ও বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ।

এছাড়া মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার মেয়র উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেডের দুজন কর্মকর্তা আরও পাবেন একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, দুজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়ন।

(ঢাকাটাইমস/১১আগস্ট/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

শিরোনাম :